ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

দুর্গন্ধেঅতিষ্ঠ  পথচারী

সড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ

মো. খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:০৯, ২ জুন ২০২৩

সড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ

.

 নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নং ওয়ার্ড এলাকার সিদ্ধিরগঞ্জে শিমরাইল মোড়ের (চিটাগাং রোড) হক সুপার মার্কেট সংলগ্ন এলাকার ক্যানেল সড়কের পাশে ডিএনডি খাল ভরাট করে ময়লা-আর্বজনা স্তূপ আকারে রাখা হয়েছে। উক্ত স্থানটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এখানকার বসবাস ও চলাচলরত মানুষজন। বৃষ্টির সময় ময়লা-আবর্জনার কারণে ক্যানেল সড়কটি ময়লাযুক্ত পানিতে ডুবে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচলের সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হন। সরেজমিন গিয়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও সড়কের একটি অংশ পানিতে ডুবে থাকতে দেখা গেছে। জরুরি ভিত্তিতে উক্ত স্থান থেকে স্তূপাকারে রাখা ময়লা-আবর্জনাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ডিএনডি খালের আগের রূপ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। 
জানা যায়, এ স্থানে ডিএনডি খালটি ভরাট করে দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে স্তূপ আকারে রাখা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড় (চিটাগাং রোড) থেকে অটোরিক্সা, ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা দিয়ে উক্ত স্থানটি অতিক্রম করে সিদ্ধিরগঞ্জের মুক্তিনগর, রসুলবাগ, নিমাইকাশারী, রাজধানী ঢাকার ডেমরা গলাকাটা পুল, রানীমহল, সারুলিয়া, টেংরা, বাহির টেংরা, বড় ভাঙ্গা ও স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন যাতায়াত করছে। এ সময় স্কুল-কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ নানা বয়সী লোকজন এখান দিয়ে চলাচল করছে। 
অটোরিক্সা চালক নূরে আলম বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন অসংখ্যবার যাত্রী নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ডেমরা এলাকার বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতে হচ্ছে। ক্যানেল সড়কের পাশের ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে যাত্রীরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টির সময় কিংবা ময়লা-আবর্জনা অন্যত্র সরানোর সময় প্রচ- দুর্গন্ধ বেরিয়ে আসে। রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা এমদাদ হোসেন বলেন, শিমরাইল মোড়ে ফলের দোকানসহ প্রায় এক হাজার অবৈধ দোকানপাটের ময়লা-আবর্জনা উক্ত স্থানেই ফেলা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকেও ময়লা-আবর্জনা ফেলে এখানে স্তূপ আকারে রেখে পরিবেশ নোংরা করা হয়েছে। 
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র পাল বলেন, ওই এলাকায় আমাদের সুপারভাইজার আছেন। তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।

কলাপাড়ায় নিষ্কাশন খাল ভাগাড়

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী থেকে জানান, কলাপাড়া পৌর শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি এখন বর্জ্যরে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পারিবারিক থেকে শুরু করে দোকানসহ সব ধরনের বর্জ্য এই খালটিতে ফেলা হচ্ছে। ফলে এখন আর পানির প্রবাহ নেই। বর্জ্যরে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বর্জ্য পচে-গলে পানি দূষণে কালো হয়ে গেছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নেই পানির প্রবাহ। খালটির দুইপাড় দখল করে তোলা হয়েছে শত শত স্থাপনা। সব চলছে ফ্রি-স্টাইলে। ফলে পৌরবাসীর প্রাণের স্পন্দনখ্যাত এই খালটি এখন রক্ষা করতে না পারলে পৌরশহরে বাস উপযোগিতা থাকবে না বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। খালটির দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করার পাশাপাশি খালের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা জরুরি প্রয়োজন। আন্ধারমানিক নদী থেকে উঠে আসা খালটি শহরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়ে একাংশ চিঙ্গরিয়ার দিকে চলে গেছে। অপরাংশ এতিমখানা-অফিস মহল্লা হয়ে রহমতপুর পর্যন্ত চলে গেছে। আরেকাংশ চিঙ্গরিয়ার পাশ দিয়ে কবি নজরুল ইসলাম সড়কের দিকে গেছে। বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন খালটির অবস্থা দেখে চরম উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়ার আহ্বায়ক নাসির তালুকদার জানান, এখন প্রথমে খালটির সীমানা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এরপরে দখলদারের তালিকা তৈরি করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো দরকার। দরকার খালের সকল বর্জ্য অপসারণ করা। নইলে শহরে বসবাস করা সম্ভব নয়। কলাপাড়া পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার জানান, খালটির চিঙ্গরিয়ার একাংশ দখলমুক্ত করা হয়েছে। বাকি এলাকা দখলমুক্ত করতে উপজেলা ভূমি প্রশাসনকে তারা সর্বাত্মক সহায়তা করে আসছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খালটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

×