৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

বাইদেন কি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হতে চলেছেন

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০২০
  • এনামুল হক

মার্কিন নির্বাচনে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইদেনের ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে তিনি ফ্লোরিডা, ইলিনয় ও আরিজোনায় ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রাইমারিতে আরেক সম্ভাবনাময় প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সকে পরাজিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দলীয় রাজনীতিতে বাইদেনের যেমন বিশাল প্রত্যাগমন ঘটেছে তেমনি আবার নির্বাচনী প্রচারণার অবসান ঘটাতে স্যান্ডার্সের ওপর বাড়তি চাপও সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই বেশ জমে উঠেছে। দু’জনের এখন সেয়ানে সেয়ানে লড়াই চলছে।

বাইদেন গত ১৭ মার্চ তিন বড় অঙ্গরাজ্যের দলীয় প্রাইমারিতে অতি সহজেই সিনেটর স্যান্ডার্সকে এমন সহজে পরাজিত করেন যে স্যান্ডার্সের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কমে যায়। কয়েক সপ্তাহ আগেও ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির চেহারা ছিল ২০১৬ সালের রিপাবলিকান প্রাইমারির মতো। প্রার্থীদের ছড়াছড়ি ছিল অথচ এস্টাবলিশমেন্টের পছন্দের প্রার্থীকে সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন লক্ষণের অস্তিত্ব ছিল না। প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে জো বাইদেন, মাইক ব্লুমবার্গ, পেট বুত্তি গিয়েগ ও এ্যামি ক্লোবুচারের পরস্পরের মধ্যে সে রকম কামড়াকামড়ি চলছিল তা বার্নি স্যান্ডার্সের জন্য এক সুযোগ এনে দেয়। বামপন্থী স্যান্ডার্সে সমর্থকের ভিত্তি ছোট তবে অনুগত। তিনি ট্রাম্পের কৌশল অনুসরণ করে ডেলিগেটদের ক্ষেত্রে অনতিক্রম্য লিড নিয়ে বসেন। স্যান্ডার্স প্রথম তিন অঙ্গরাজ্যে জিতে ছিলেন। ৩ মার্চ সুপার টিউসডেতে তিনি আরও অনেক রাজ্যে জিতবেন বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। কিন্ত ঘটেছে ঠিক তার উল্টোটি।

২৯ ফেব্রুয়ারি সাউথ ক্যারোলিনায় বাইদেনের বড় ধরনের ফলে বুত্তি গিয়েগ ও ক্লোবুচার নতি স্বীকার করে সবে ঘান ও তাকে সমর্থন জানান। প্রথম অঙ্গরাজ্যটি করায়ত্ত করার তিন দিন পর সুপার টিউসডেতে তিনি বিস্ময়কর বিজয় অর্জন করেন। উত্তরের মেইন থেকে শুরু করে দক্ষিণের টেক্সাস পর্যন্ত সবশুদ্ধ ১০টি রাজ্যে জয়লাভ করেন। এমনকি যে সব রাজ্যে জয় পান সেখানে তিনি প্রচার কাজ চালাননি এমনকি বিজ্ঞাপনী প্রচারও করেননি এর মধ্যে একটি হলো ম্যাসাচুসেটস সেখানে তিনি ব্যয় করেছিলেন মাত্র ১১ হাজার ডলার। তিনি ধরেই নিয়েছিলেন যে এই রাজ্যটি হয় স্যান্ডার্স নয়ত আরেক বামপন্থী স্থানীয় সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনকে বেছে নেবে। স্যান্ডার্স তার নিজ অঙ্গরাজ্য ক্ষুদে ভারমন্টসহ ৫টি রাজ্যে জিতেছিলেন। পরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বিশাল রাজ্যেও জয় পান। ফলে স্যান্ডার্স ও বাইদেনের পয়েন্ট এখন সমান সমান।

তবে বাইদেনের প্রত্যাগমন বিস্ময়কর। ৭৭ বছর বয়স্ক বাইদেন এ নিয়ে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার প্রচারাভিযানে নেমেছেন। তর ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়ন লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বলতর বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এখন তার সময় হয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে বেছে নেয়া। সেই প্রার্থীকে বেছে নেয়াই এখন তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে। কারণ এ পদের জন্য তিনি কাকে বেছে নেবেন সেটা নবেম্বরের নির্বাচনে তার সাফল্যের সম্ভাবনাকেই শুধু প্রভাবিত করবে না গোটা জাতির জন্য তা দারুণ গুরুত্ব বহন করবে। গত ১৫ মার্চ বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে বিতর্কের সময় তিনি এই প্রার্থী হিসেবে সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যাকে বেছে নিতে পারেন সেই বৃত্তটা একেবারেই ছোট করে এনেছেন। তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে ওই পদে একজন মহিলাকে মনোনীত করবেন। এমনটা হতে পারে তা আগে থেকে সন্দেহ করা হচ্ছিল। স্যান্ডার্সসহ অনেকেই এতে হতবাক হয়েছেন এ জন্য যে বাইদেন এত আগেভাগে এমন অঙ্গীকার করলেন।

অবশ্য রণসিং মেট হিসেবে বেছে নেয়ার জন্য যে বিষয়গুলো বাইদেনকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে সেটাও বেশ দীর্ঘ। তিনি কি মিশ্রবর্ণের কাউকে বেছে নেবেন যা স্যান্ডার্সের সমর্থকদের খুশি করবে। সেই প্রার্থী কি বয়সে যথেষ্ট কম হবে? সেই প্রার্থী কি মিডওয়েস্টের মতো ভৌগোলিক গুরুত্বসম্পন্ন অঞ্চলের কেউ হবেন? বলা বাহুল্য রানিং মেট নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দাবা খেলার একটা অংশ। সেটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ জন্য যে ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়ন অর্জনের পথে থাকা বাইদেনের বয়স ৭৭ এবং নির্বাচিত হলে সম্ভবত একটি মাত্র মেয়াদই তিনি ক্ষমতায় থাকবেন।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০২০

২৫/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: