১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

খাল ও মাঠ পুনরুদ্ধার করব ॥ আশ্বাস তাপস-আতিকের

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় যেসব খাল দখল করে রাখা হয়েছে সেগুলো দখলমুক্ত করে নান্দনিক পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বেদখলী খেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা। দুই সিটির ক্ষমতাসীন দলের দুই প্রার্থীই মনে করছেন, আধুনিক ও সচল ঢাকা গড়তে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ভোটাররা ‘নৌকা’ মার্কায়ই ভোট দেবেন।

শুক্রবার প্রচারের পঞ্চদশ দিনে ঢাকা ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় প্রচার ও গণসংযোগকালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন ও ভোটারদের ভোট প্রত্যাশা করেন দুই মেয়র প্রার্থী।

দক্ষিণের ফজলে নূর তাপস ৪০ নম্বর ওয়ার্ড গেন্ডারিয়ার আশপাশে গণসংযোগ করে তিনি বলেন, দক্ষিণের সিটি কর্পোরেশনের আওতায় যেসব খাল দখল করে রাখা হয়েছে সেগুলো দখলমুক্ত করে নান্দনিক পার্ক করা হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, সুন্দর ঢাকা গড়তে যেসব রূপরেখা নেয়া হয়েছে তার আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে। ঢাকার পুরনো খালগুলো দখল করে রাখা হয়েছে। ওয়াসা বা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) এখন পর্যন্ত বেদখল খাল পুনরুদ্ধার করেনি। নির্বাচিত হলে আমরা দায়িত্ব নিয়ে সেগুলো দখলমুক্ত করে নান্দনিক পার্ক হিসেবে গড়ে তুলব। মুক্ত করব ভূমিদস্যুদের দখল থেকে। ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধার করব, যাতে ঢাকাবাসী নান্দনিক সব সুযোগ-সুবিধা পায়।

তাপস বলেন, পুরান ঢাকার যেসব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রয়েছে সেগুলো অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ঐতিহ্যের ঢাকার সৌন্দর্য বজায় রাখব। কর্পোরেশনের আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ করব, যাতে বিশ্ববাসী ওসব নান্দনিক স্থাপনা দেখতে পারেন। আমরা ঢাকায় যে উন্নয়ন করেছি তার প্রতিফলন হিসেবে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দেবেন। আশা করি উন্নত ঢাকা গড়ার পক্ষে রায় দেবেন ভোটাররা।

ঢাকা-১০ আসনের সাবেক এমপি তাপস বলেন, আমরা ঢাকার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ৩০ বছর পরিকল্পনা নেব। সচল ঢাকা ’৪১ সালে সুন্দর ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে আমাকে জয়যুক্ত করুন। আশা করি সুন্দর ঢাকা গড়তে ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকাবাসী নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মেয়র পদে আমাকে জয়ী করে জনসেবা সুযোগ দেবে। তিনি কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্যও ভোট প্রার্থনা করেন তাপসের গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম), ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফিসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এদিকে উত্তরে আতিকুল ইসলাম প্রচারকালে ক্রিকেট খেলতে নামেন। গুলশান ইয়ুথ ক্লাব উইকেন্ড ক্রিকেট সাব কমিটির প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নেন তিনি। ম্যাচ শেষে তিনি খেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের আশ্বাস দেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের যুবসমাজ নানা কারণে ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে। আমাদের সমাজে এমন কোন ঘর নেই যেখানে কেউ না কেউ এ সমস্যায় আক্রান্ত নয়। লোকলজ্জার ভয়ে আমরা হয়তো বিষয়টি সামনে আনি না। খেলাধুলা থাকলে যুবসমাজ এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে বলে আমি মনে করি আপনাদের ভোটে, নৌকা মার্কায় আমি জয়যুক্ত হলে কথা দিতে পারি মাঠগুলোকে অবশ্যই ফিরিয়ে আনব। খুশি হবেন যে আমরা ২৪ পার্ক এবং মাঠের কাজে হাত দিয়েছি, এসব মাঠের মধ্যে কয়েকটি হবে মাল্টিপারপাস। সেখানে ক্রিকেট ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলা করা যাবে।

প্রতীকী ম্যাচে পরনের জার্সি, হাতে গ্লাভস, পায়ে প্যাড আর হেলমেট মাথায় পরে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন আতিক। একে একে এগারোটি বল খেলেন। এর মধ্যে দুই বলে দুটি চার মারেন। শেষ বলে হন বোল্ডআউট। আউট হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে করতে মাঠ ত্যাগ করেন তিনি। এসময় হাত তালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান দর্শকরা। খেলা শেষে আতিক আরও বলেন, অনেকদিন পর তিনি ক্রিকেট খেললেন। খেলে মনে হলো যে, খেললে খেলা যাবে। চার তো মেরেছি, ছক্কাও মারা যাবে। খেলাধুলার ভেতরে কী যে একটা মনোভাব আর উদ্যম, আমি ধন্যবাদ জানাই গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে আমাকে সুযোগ দেয়ার জন্য। দেশের অনেক নামকরা অধিনায়ক ও জাতীয় দলের খেলোয়াড় এই ইয়ুথ ক্লাব থেকেই তৈরি হয়েছেন।

‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে আতিক বলেন, গুলশানে আমার চেয়েও তাবিথের পোস্টার বেশি। এতেই প্রমাণ হয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। এ নিয়ে বিএনপির মন্তব্যের জবাবে একথা বলেন তিনি। আতিক বলেন, একজন এমপি আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন গুলশান এলাকায় নাকি আমার পোস্টার কম, তাবিথের পোস্টার বেশি। এতেই প্রমাণিত হয় এখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। আমি প্রতিপক্ষকে অনুরোধ করব আসুন, আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করি। ইসির প্রতি আমার অনুরোধ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারে সে ধরনের পরিবেশ তৈরি করুন। আমি আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সাপোর্ট দিতে চাই। বলেন, আমি জয়ী হয়ে খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার করবই। এর কোন বিকল্প নেই। পরে তিনি মিরপুরে আর পোড়া চলন্তিকা বস্তি দেখতে যান। চলন্তিকা বস্তি পরিদর্শনকালে বলেন, বারবার আপনারা অগ্নিকা-ের মুখোমুখি হচ্ছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমি অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত মনে বলতে চাই, এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য ইতোমধ্যেই আমি নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এর স্থায়ী সমাধান জরুরী। প্রয়োজনে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। যে কোন প্রয়োজনে আমি আপনাদের পাশে আছি, থাকব ইনশাল্লাহ। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রচার চালাতে গিয়ে কোনভাবেই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা চলবে না। যাতে যানজট সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আমি নির্বাচিত হলে জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচিসহ নেতারা।

এদিকে তারকাদের সঙ্গে নিয়ে আতিকের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন তার সহধর্মিণী ডাঃ শায়লা সাগুফতা। তিনি গুলশান ২ নম্বর ডিসিসি মার্কেট থেকে প্রচার শুরু করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও নাট্যজন তারানা হালিম, অভিনেত্রী বাঁধন, অভিনেতা রিয়াজ, সাজু খাদেমসহ অনেকে। ব্যক্তিত্ব শায়লা সাগুফতা বলেন, আশা করি জনগণ নৌকায় ভোট দেবেন। আমরা ভাল কাজ করেছি। আতিক ৯ মাস নিরলস কাজ করে গেছেন। আপ্রাণ চেষ্টা করেছে নগরবাসীর সেবা করতে। আশা করি ঢাকাবাসী আবারও আতিককে ভোট দিয়ে জনসেবার সুযোগ দেবেন।

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০২০

২৫/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: