২৩ জানুয়ারী ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

তিস্তাপাড়ে রাত জেগে পেঁয়াজ খেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষক

প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০১৯
  • উৎপাদিত পণ্য মাচা পদ্ধতিতে সংরক্ষণের উদ্যোগ

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট ॥ তিস্তাপাড়ের গ্রামের মানুষ রাত জেগে পেঁয়াজ খেত পাহারা দিচ্ছেন। এখানকার গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে পেঁয়াজ মাচা পদ্ধতিতে সারাবছর মজুদ করে রাখা হয়। তাই তাদের পারিবারিক জীবনে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে তেমন প্রভাব পড়েনি। বরং অনেকে চড়াদামে পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। এসব গ্রামের কৃষক পরিবারগুলো সারাবছর ধরে নিজেদের উৎপাদিত পেঁয়াজ মাচাংয়ে রেখে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটায়। পরে অবশিষ্ট ছোট পেঁয়াজ জমিতে রোপণ করে পুনরায় বড় পেঁয়াজ উৎপাদন করে। এবার তারা তিস্তা চরের বিস্তীর্ণ এলাকায় একরের পর একর ছোট পেঁয়াজ হতে পেঁয়াজ রোপণ করেছে। ফল হয়েছে বাম্পার। ৮/১০ দিনের মধ্যে এই পেঁয়াজ হতে রোপিত পেঁয়াজ বাজারে পাওয়া যাবে। তখন পেঁয়াজের বাজার দাম কিছুটা হলেও কমে আসবে। পেঁয়াজ হতে পেঁয়াজ বাজারে আসলে কিছুটা হলেও আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে। পেঁয়াজ হতে পেঁয়াজ উৎপাদন শেষ হতে হতে পুনরায় বীজ হতে পেঁয়াজ বাজারে পাওয়া যাবে।

তিস্তা নদীর সানিয়াজান ইউনিয়নে পেয়াঁজের আবাদটি বেশি চোখে পড়ে। অনেকের ক্ষেতে পেঁয়াজ বড় হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে উত্তোলন করে বাজারে পাঠাবে। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষেত থেকে উঠতি পেঁয়াজ চুরি যাওয়ার ভয়ে রয়েছে এখানকার কৃষক। তাই তারা রাত জেগে পেঁয়াজ ক্ষেতে পাহারা দিচ্ছে। এমন পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে দেখা যায়। এ অঞ্চলের কৃষকদের দাবি অল্পদিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। এ পেঁয়াজ বাজারে আসলেই দাম অনেকটা কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশিদ জানান, হাতীবান্ধায় এ বছর প্রায় ৪০ হেক্টরের বেশি জমিতে ছোট পেঁয়াজ হতে পেঁয়াজ ক্ষেত রোপিত হয়েছে। সানিয়াজান ইউনিয়ন পেঁয়াজ আবাদের জন্য ইতোমধ্যে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। তিস্তাচরের মানুষ নিজেদের চাহিদার পেঁয়াজ নিজেরাই আবাদ করে প্রয়োজন মেটায়। উদ্বৃত পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে। তারপরও সারাবছরের পেঁয়াজ তাদের বসতবাড়িতে মাচাংয়ে থাকে। সেই পেঁয়াজটি শীতের শুরুতে রোপণ করে বড় পেঁয়াজ ও পাতা পেঁয়াজ উৎপাদন করে থাকে।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার হলদিবাড়ি গ্রামের কৃষক শফিয়ার রহমান (৫০), আবেদ আলী (৪৫), মোর্শেদ আলম (৫৩) জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা তাদের ক্ষেতের পেয়াঁজ তুলতে পারবেন। যেহেতু এবাওে পেঁয়াজের দাম বেশি তাই তারা প্রথমে পাতা পেঁয়াজ হিসেবে বাজারে বিক্রি করবেন। এতে কওে পেঁয়াজের রোপিত ক্ষেতের ঘনত্ব কমে যাবে। তখন ক্ষেতে যে, পেঁয়াজটা থাকবে তা বড় হবে। পেঁয়াজ গাছ মরে গেলে ক্ষেত থেকে তুলে সামান্য রোদে শুকিয়ে নেয়ার পর উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে বিক্রির জন্য তুলতে পারবেন। ডাউয়াবাড়ির কৃষক মকবুল হোসেন (৫৫) জানান, হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। তাদের ক্ষেতে আবাদেও পেঁয়াজ চুরি যাওয়ার ভয় রয়েছে। তাই তারা রাত জেগে উঠতি পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দিচ্ছে।

মাগুরায় পেঁয়াজের মূল্য কেজি ২৫০ টাকা

নিজস্ব সংবাদদাতা মাগুরা থেকে জানান, এখানে পেঁয়াজের মূল্য আবার বেড়েছে। রবিবার বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। একদিন পূর্বে এই পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।

পাতাসহ নতুন পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা কেজি

স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারী থেকে জানান, পেঁয়াজের দাম নিয়ে এখানে অস্থিরতা চলছে। শীত মৌসুমে বাজারে এসেছে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজ। ভাল দাম পাওয়ায় অপরিপক্ক পেঁয়াজ উঠিয়েই বাজারে বিক্রি করছেন চাষীরা।

রবিবার পুরাতন পেঁয়াজ ২৪০ টাকা থেকে নেমে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় নীলফামারীর বিভিন্ন বাজারে। আর পাতাগাছসহ নতুন পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হয় আড়াইশ’ গ্রাম ৩০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি ১২০ টাকা।

নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় অধিকাংশ ক্রেতাই সেই পেঁয়াজই কিনছে। তবে পাতার পরিমাণ বেশি এবং পেঁয়াজ গুটি ছোট থাকায় একেবারে পেঁয়াজনির্ভর খাদ্যপণ্য তৈরি তথা রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুরাতন পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হচ্ছে ক্রেতারা।

গুদাম আটকিয়ে পালাল পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল থেকে জানান, বাজার মনিটরিংয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসার সংবাদ পেয়ে গুদামে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। রবিবার দুপুরে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান টরকী বন্দরে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য গেলে এ ঘটনা ঘটে।

পেঁয়াজের ঝাঁজে জনজীবন অতিষ্ঠ

নিজস্ব সংবাদদাতা লাকসাম কুমিল্লা থেকে জানান, লাকসামে পেঁয়াজের ঝাঁজে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পেঁয়াজের দাম সকালে এক দুপুরে আরেক দাম। হঠাৎ করে পাইকারি দোকানে পেঁয়াজ শূন্য হয়ে পড়ায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২শ’ ৩০ টাকা থেকে ২শ’ ৫০ টাকা। গত দু’দিন পাইকারি দোকানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২শ’ ১০ টাকা থেকে ২শ’ ৪০ টাকা বিক্রি করছে। পাইকারি আড়তদারদের দোকানে পেঁয়াজ শূন্য। খুচরা এক দোকানে একেক দামে বিক্রি করছে। সকালে এক দাম দুপুরে আরেক দাম। পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ধনিয়াপাতার দাম বেড়ে চলছে। প্রতি ২শ’ গ্রাম ধনিয়া পাতা ৬০ টাকা দামে বিক্রি করছে।

প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০১৯

১৮/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: