৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল, সাগর উত্তাল ॥ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:০৭ পি. এম.
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল, সাগর উত্তাল ॥ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী ॥ ঘূর্ণিঝড় বুলবুল খেপুপাড়ায় (কলাপাড়া) আঘাত হানতে পারে ভারতীয় গণমাধ্যমের এমন সরাসরি খবরটি সাগরপাড়ের এ জনপদের মানুষের কাছে এখন আতঙ্কের খবরে পরিণত হয়েছে। ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেতের মাইকিং, সাইরেন বাজানোসহ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশে আজ শনিবার সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে থাকে। বিশেষ করে মসজিদের মাইকের প্রচারে মানুষ বেশি মনযোগ দিয়েছেন। তবে দুপুরে আবার এরা খেতে ছুটেছে। কোন কোন আশ্রয়কেন্দ্রে ফের মানুষ দুপুরের পরে ছুটছে আশ্রয় কেন্দ্রে। বিশেষ করে সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা লালুয়ার চারিপাড়া, চৌধুরীপাড়াসহ নয়টি গ্রামের মানুষ দিশাগ্রস্ত হয়ে ছুটেছে আশ্রয় কেন্দ্রে। একইদশা গঙ্গামতির বেড়িবাঁধের বাইরের দেড় হাজার পরিবারের সদস্যদের। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দেয়া তথ্যমতে অন্তত ৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬৬ হাজার মানুষ শনিবার সকালে আশ্রয় নেয়। তিনি সকাল থেকে রাবনাবাদ পাড়সহ গঙ্গামতির বির্স্তীর্ণ জনপদে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছেন। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা লোকজনের নিরাপত্তাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারে ডুবে যাওয়া লালুয়ার চারিপাড়াসহ নয়টি গ্রামের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করার কথা জানালেন সেখানকার চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস। সকাল নয়টার দিকের এক দফা জোয়ারের তান্ডবে কুয়াকাটায় দুই শতাধিক অস্থায়ী দোকানপাট ক্ষতির শিকার হয়েছে। অনেকে সরিয়ে নিয়েছেন। সাগর প্রচন্ড উত্তাল রয়েছে। উপজেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ১৫৮ টি ইউনিটের ২৩৭০ সদস্য মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন বলে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন। পায়রা বন্দরের পুনর্বাসনসহ সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড বন্ধ করে শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়েছে। পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের বাঙ্গালী এবং চীনা অন্তত সাড়ে নয় হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ছুটি দেয়া হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কায় বেড়িবাঁধের বাইরের প্রায় সাত হাজার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে বলে ইউএনও মুনিবুর রহমান বলেছেন। বেড়িবাঁধের বাইরের অন্তত তিন হাজার দোকানির অধিকাংশারাই দোকানের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। কলাপাড়া পৌরশহরের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানালেন রাতের জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতির আগেই মালামাল সরাচ্ছেন। কলাপাড়ার ২৪৭ টি গ্রামের মানুষ রাতের জোয়ারে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে প্রতিটি মুহুর্ত কাটছে অজানা ক্ষতির শঙ্কায়। কৃষকরা ক্ষেতের আমন হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। তবে এবারের প্রশাসনের ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতিতে অনেকটা স্বস্তিও রয়েছে মানুষের মনে।

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:০৭ পি. এম.

০৯/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: