১৮ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

৪৬ বছরেও বধ্যভূমিগুলোতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ হয়নি


৪৬ বছরেও বধ্যভূমিগুলোতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ  হয়নি

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা ॥ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদার বাহিনী তৎকালীন গাইবান্ধা মহকুমার বিভিন্ন স্থানে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। এছাড়া, বোনারপাড়া লোকোশেডে কয়লার ইঞ্জিনের চুলি¬তে জীবন্ত মানুষ ঢুকিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে মারারও বহু ঘটনা ঘটেছে। গাইবান্ধা জেলায় ৩০টিরও বেশি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। যেখানে মুক্তিযোদ্ধাসহ নিরীহ নারী-পুরুষকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়।

এসব বধ্যভূমির মধ্যে গাইবান্ধা স্টেডিয়াম (তৎকালীন হেলালপার্ক) সংলগ্ন কফিল শাহ’র নির্মাণাধীন গুদাম, পলাশবাড়ীর সড়ক ও জনপদ বিভাগের রেস্ট হাউজের পেছনে ও কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর, গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী এবং ফুলছড়ির সাবেক উপজেলা সদরের বধ্যভূমি উলে¬খযোগ্য। এসব বধ্যভূমিতে শত শত মানুষকে হত্যা করে পুঁতে রাখা হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও ওইসব বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়নি।

এদিকে পাকিস্তানী বাহিনী তৎকালীন হেলালপার্ক প্যাভিলিয়নে ক্যাম্প স্থাপন করে পার্শ্ববর্তী কফিল শাহ’র নির্মাণাধীন গুদাম ঘরকে নির্যাতন সেল হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। প্রতি রাতেই বিভিন্ন স্থান থেকে নিরীহ লোকজন ধরে এনে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা নৃশংসভাবে তাদের হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রাখতো। বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের ধরে এনে তাদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হতো।

অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে অমানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। কফিল শাহ’র নির্মাণাধীন গুদাম চত্বর, স্টেডিয়ামের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে এবং হেলাল পার্ক সংলগ্ন লাইনের ধারে শত শত নারী-পুরুষকে গুলি অথবা বেয়োনেট চার্জ করে হত্যার পর মাটি চাপা দিয়ে পুঁতে রাখা হয়।

সাবেক ফুলছড়ি উপজেলা হেড কোয়াটারের পাশেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আরেক বধ্যভূমি। যেখানে কয়েক’শ স্বাধীনতাকামী নারী-পুরুষকে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। পলাশবাড়ী উপজেলা সদরে সড়ক ও জনপদ বিভাগের রেস্ট হাউজে ক্যাম্প স্থাপন করে বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য বাঙ্গালী নারী-পুরুষকে ধরে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পলাশবাড়ীর মুংলিশপুর-জাফর গ্রামে ১৮ই জুন ১১ জনকে পাক সৈন্যরা নৃশংসভাবে হত্যা করে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরে বর্তমান শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় ১৮ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ শতাধিক লোককে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। এখনও সেখানে মাটি খুঁরলে মানুষের হাড়গোর পাওয়া যায়। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের পাখেয়া গ্রামে ’৭১-এর ১৮ অক্টোবর রাজাকাররা সাত গ্রামবাসীকে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। সেই বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ না করায় এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া লোকোশেড, সুজাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, দলদলিয়াসহ অন্যান্য বধ্যভূমি সংরক্ষণেরও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল-মঝাড় ইউনিয়নের নান্দিনা গ্রামে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ ৬ মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থানগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় সংরক্ষণ করা হয়নি। এসব বধ্যভূমি সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেয়া না হলে কালের বিবর্তনে একদিন এগুলো হারিয়ে যাবে। তাই অনেকের ধারণা এমন এক সময় হয়তো আসবে যখন কেউ তাদের স্মরণে রাখার সুযোগও পাবে না।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: