১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

লজ্জায় চাকরি ছাড়লেন ইংল্যান্ড কোচ হডসন


লজ্জায় চাকরি ছাড়লেন ইংল্যান্ড কোচ হডসন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইউরোপীয় ফুটবল বিশ্বকাপ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের প্রি-কোয়ার্টার থেকেই বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। ইউরোতে নবাগত হয়েও আইসল্যান্ড ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে ইংলিশদের। কোচ রয় হডসনের ক্যারিয়ারেরও সমাপ্তি ঘটেছে এ কারণেই। এমন ব্যর্থতার পর কোন মুখে আর থাকা যায় কোচের অবস্থান নিয়ে? তাই দলের ব্যর্থতার দায় নিতে না পেরে পদত্যাগই করলেন তিনি।

হডসনের কোচ হিসেবে চুক্তির মেয়াদ অবশ্য এই ইউরোর পরেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সেটা বর্ধিত হওয়ারও সুযোগ ছিল। কিন্তু সোমবার ম্যাচ শেষে হডসন লিখিত বক্তব্য দেন সংবাদ সম্মেলনে এবং জানিয়ে দেন আর চালিয়ে যাওয়ার দিকে মনোযোগ নেই তার। হডসন বলেন, ‘আরও দুই বছর থাকাটাই আমার যুতসই সিদ্ধান্ত হতো। কিন্তু আমি কার্যকারিতার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করি এবং আমরা সবাই জানি যে এখানে ফলাফলটাই দেখা হয় বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে।’ ৬৮ বছর বয়সী হডসন ২০১২ সালে ফ্যাবিও কাপেলোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এই ইউরো থেকেই বিদায় নিতে হলো তাকে। এ বিষয়ে হডসন আরও বলেন, ‘আমার চুক্তির বিষয়টা ইউরোর পরে সবসময়ই উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় এখন সময় হয়েছে অন্য কারও এই তরুণদের নিয়ে প্রগতি ও উৎকর্ষতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার দিকে দৃষ্টি দেয়ার। এখানে তরুণ, দারুণ মেধাবী ও ক্ষুধার্ত কিছু খেলোয়াড় আছে।’ নিজের বিবৃতি পাঠের পরই সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান হডসন। এরপর একজন ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তা জানিয়ে দেন ব্যক্তিগতভাবেও তিনি আর কোন সাক্ষাতকার দেবেন না। শুধু হডসনই নয়, তার কোচিং স্টাফদের মধ্যেও পদত্যাগের ঘটনা আছে। দুই সহকারী কোচ রে লুইংটন এবং সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক গ্যারি নেভিলও সরে দাঁড়াচ্ছেন। এমনটাই নিজের লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন হডসন।

সোমবার রাতে খেলা হয়েছে স্টেড ডি নিসে। ম্যাচটিতে স্বাভাবিকভাবেই সবাই এগিয়ে রেখেছিলেন ইংল্যান্ডকে। কারণ নবাগত আইসল্যান্ড খুবই কম জনবসতির দেশ। সেখানে বাস করেন মাত্র ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। আর কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলারও পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই তাদের। কিন্তু তারাই চার বছর ধরে কোচের দায়িত্বে থাকা হডসনকে টেনে নামাল। কাপেলো ২০১২ সালের মে মাসে হুট করেই পদত্যাগ করলে দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। সে বছর ইউরোতে হডসন ভাঙ্গাচোরা ইংল্যান্ডকেও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছেলেন। তবে ২০১৪ সালের ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে পুরোপুরি বিপর্যস্ত ছিল ইংল্যান্ড দল। মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের পর সেটাই ছিল ইংলিশদের সবচেয়ে বাজে নৈপুণ্যের নজির। তবে এরপরও হডসনকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল দলকে গুছিয়ে ঠিকঠাক করার জন্য। ইউরো বাছাইয়ে তারুণ্যে ভরপুর একটি দল নিয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন হডসন। ইংলিশরা রেকর্ড ১০ জয় নিয়ে ইউরো খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। কিন্তু চূড়ান্ত লড়াইয়ে নেমে এই বিষাদময় বিদায় নিতে হলো। এ বিষয়ে হডসন বলেন, ‘অবশ্যই আজ রাতের ফলাফলে এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়াতে আমি মারাত্মক মর্মাহত। যতদূর পর্যন্ত যাওয়ার যোগ্যতা আমাদের ছিল বলে মনে করেছিলাম, ততদূর পর্যন্ত আমরা অভিযান অব্যাহত রাখতে পারিনি। আর এটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু আমি আমার কোচিং স্টাফদের নিয়ে গর্বিত যে তারা অনেক কঠোর শ্রম দিয়েছেন এবং সেজন্য আমরা ইংল্যান্ডের হয়ে অনেক কিছু পেয়েছিও। আমি দুঃখিত যে আরেকটি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়ার কারণে এভাবে আমাকে শেষ করতে হলো।’