২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

খুলনায় স্টেশন রোডে অঘোষিত ট্রাক টার্মিনাল


স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ রেলস্টেশনের রাস্তায় অঘোষিত ট্রাক টার্মিনাল গড়ে উঠেছে। নগরীর পাওয়ার হাউস মোড় থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত রাস্তাটিতে প্রতিনিয়ত শত শত ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। যত্রতত্র ট্রাক রাখায় রিক্সা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ট্রেন যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রেল স্টেশনে আসা-যাওয়ার পথে তারা যাতে ভোগান্তির শিকার না হয় সেজন্য রেলওয়ে খুলনার পক্ষ থেকে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এক দশকেরও আগে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে কিছুটা দূরে ট্রাক টার্মিনাল তৈরি করা হয়। কিন্তু ট্রাক ট্রান্সপোর্ট মালিক-শ্রমিকারা ওই টার্মিনালটি ব্যবহারে শুরু থেকে অনীহা প্রকাশ করে। এ টার্মিনালটি ব্যবহার করানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করা হয়। দিনের বেলা শহরে ট্রাক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু কোনভাবেই টার্মিনালটি ব্যবহার উপযোগী করা যায়নি। নগরীর পাওয়ার হাউস মোড় থেকে রেলস্টেশন সংলগ্ন কদমতলা মোড় পর্যন্ত জব্বার সরণি ও ক্লে রোডের সঙ্গে যুক্ত স্টেশন রোডজুড়ে প্রায় সারাক্ষণ অসংখ্য ট্রাক রেখে মালামাল খালাস ও বোঝাই করা হয়। বহু খালি ট্রাকও দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল। যে কারণে ওই সড়কে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়ছে। জটলায় পড়ে নির্ধারিত সময়ে রেলস্টেশনে পৌঁছাতে পারেন না অনেক যাত্রী।

বাংলাদেশ রেলওয়ে খুলনার এক কর্মকর্তা জানান, খুলনা রেলওয়ে স্টেশনটি খুলনা লঞ্চ টার্মিনালের কাছেই অবস্থিত। প্রতিদিন এই স্টেশন থেকে হাজার হাজার যাত্রী ৬ জোড়া আন্তঃনগর, ৪টি এক্সপ্রেস ও একটি কমিউটার ট্রেনের মাধ্যমে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিনই পাওয়ার হাউজ মোড় থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে পণ্য বোঝাই ও খালি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। ইজিবাইকও যথেচ্ছভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অনেক যাত্রী সময়মতো স্টেশনে পৌঁছাতে না পেরে ট্রেন ফেল করছে।

এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার রাকিব হাসান বলেন, রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষের লিখিত চিঠি বৃহস্পতিবার পেয়েছেন। ঈদের কারণে বর্তমানে মার্কেট কেন্দ্রিক ডিউটি বাড়ানো হয়েছে। স্টেশনে যাওয়ার পথে দুইজন ট্রাফিক দেয়া হয়েছে। ট্রাক ট্রান্সপোর্ট মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের ট্রাক সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। ঈদে যাত্রীদের যাতায়াতে যাতে সমস্যা না হয় সে বিষয়টি লক্ষ্য রেখে ট্রাফিক বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।