২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলার ঐতিহ্য অ্যাক্রোবেটিকের প্রদর্শন


নগর কেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থাপনায় গ্রাম্য লোকজ শিল্পশাখার অনেক অনেক অনুষঙ্গ যখন লুপ্তপ্রায় তখন বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নানান পদক্ষেপের কারণে অনেক শিল্প উপকরণ পুনঃরুদ্ধারের ধারাবাহিকতায় বহুল চর্চিত সার্কাস শিল্প আজ এ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়ে জীবন্ত। অনেকটা সে রকমভাবে বাংলাদেশের অনুরাগী দর্শকদের নির্মল আনন্দ পাইয়ে দিতে ২০১২ সাল থেকে ৬৪ জেলা পরিভ্রমণের মধ্য দিয়ে এ্যাক্রোবেটিক মঞ্চায়ন করে চলছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ্যাক্রোবেটিক দল। ২০১৩ সালের ২৩ নবেম্বর রাজবাড়ী এ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুই হাজার দর্শকদের উপস্থিতিতে যে এ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী হয় এবং ১ মে ২০১৪ তারিখে পাবনাতে প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শেষ হয় ৬৪ জেলা পরিভ্রমণ তারই ধারাবাহিকতায় এবারও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর উপদেশ ও পরিকল্পনায় শুরু হয়েছে সরাদেশব্যাপী এ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী। গত ১৪ নবেম্বর ২০১৫ তারিখে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ্যাক্রোবেটিক দলের উদ্বোধনী মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী প্রদর্শনের ধারাবাহিকতায় গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হলো এ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী। প্রদর্শনের অন্যতম আকর্ষণ ২০-এর অধিক এ্যাক্রোবেটিক খেলা আর চার্লি চ্যাপলিনের অবয়বে সূত্রধরের অনবদ্য উপস্থাপনা।

উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য প্রদর্শনীর প্রারম্ভে চার্লি চ্যাপলিন রুপী মাথায় ক্যাপ, পুরনে ঢেলা ওভার কোট ঢোলা প্যান্ট, পায়ে বড় জুতা, নাকের নিচে চো গোঁফ আর লাঠি ঘুরিয়ে শিল্পী সুজন মাহাবুবের দর্শকদের এ্যাক্রোবেটিক খেলার সঙ্গে অঙ্গিভুত করে নেয়া। নেয়ার ভাষা প্রদর্শিত জেলায় আঞ্চলিক ভাষায় সম্ভাষণ, দর্শকদের সম্মান প্রদর্শন এবং প্রদর্শিত খেলাগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন।

দর্শক সংযোগে উপস্থাপিত খেলায় খেলোয়াড়দের দক্ষতা নিপুণতা শুধু দৃষ্টিনন্দনই না বরং হৃদয় হরণ। জলি সিমেল নামে তেলাক্ত পাইপে পাঁচজন খেলোয়াড় সমান্তরালভাবে আড়াআড়ি ঝুলে থাকা, রোলার ব্যালেন্স নামে চৌঙ্গার ওপর তক্তা ফেলে কাঁচের গ্লাসের তিন ধাপে দাঁড়িয়ে দর্শকদের ফুলের অভিবাদন, নেক আয়রন বার নামে গলায় এক খেলোয়াড় দড়ির টানা বেঁধে পাঁচজন খেলোয়াড়কে টেনে রাখা, মাউথ স্কিল নামে মুখে চামচ রেখে লাঠির ভার-পানির গ্লাস-ফুল প্রভৃতির ভারসাম্য অক্ষুণœ রাখা, রিং ড্যান্স নামে চার হাত-পা ছাড়িয়ে পঁচিশটি রিং সমানে ঘোরানো, ব্রিক স্কিল নামে ইটের স্তূপ থেকে ইট দিয়ে ইট সরিয়ে ফুল ধারণ, নুনথ নামে মানব দিয়ে মানব প্রাচীর নির্মাণ প্রভৃতি খেলা নান্দনিক, পরিশ্রমী এবং আনন্দদানের চূড়ান্ত উৎকর্ষ। উপদেষ্টা এবং পরিকল্পক লিয়াকত আলী লাকীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুসজ্জিত বাসে ভ্রমণ, আধুনিক পোশাক সজ্জায় উপস্থাপন, নয়নাভিরাম আলোর প্রক্ষেপণ, খেলার নৈপুণ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আবহ সঙ্গীত সংযোজন, ক্লাউন চরিত্রে ড্রামাটাইজেমান, অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে চড়া মেকাপ প্রয়োগ, শুরুতে জাতীয় পতাকা নিয়ে অভিবাদন, দুটি খেলার মধ্যভাগে ওভার ভয়েজে সূত্রধর সংযোাজন, সমাপ্তিতে নাটকীয় মেলবন্ধন প্রভৃতিতে দেশীয় ঐতিহ্যকে আধুনিকভাবে তুলে ধরতে পারা এক কথায় আসাধারণ। সুজন মাহাবুবের মঞ্চ-আলোও শব্দ পরিকল্পনায় বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যকে একটি বিশ্বজনীন মাত্রা দর্শকদের উৎফুল্ল করে। অসাধারণ পরিবেশনায় শিল্পী মোস্তফা, হান্নান, আনোয়ার, কালিম, ফকের, বাবু, মওলা, আকলিমা, মজিদ, পুতুল, মালেক, টুটুল, মজিদ, সঞ্জয়, জালাল, আমেনা, রফিক, রক, পর্বত, মওলা, নাছির, মিজান, সবুজ, লিটন, সঞ্জয়, ফকের আলীসহ আরও অনেকেই প্রাণবন্ত, চৌকস এবং দক্ষ। প্রযোজনা তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, সচিব বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও সারা আরা মাহমুদ, পরিচালক শিল্পকলা একাডেমি। সমন্বয়কারী চাকলাদার মোস্তফা আল মাসউদ, সহকারী পরিচালক সিনেমাটোগ্রাফী নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সমন্বয়কারী সহযোগী পার্থ প্রতিম দাশ কালচারাল অফিসার জেলা শিল্পকলা একাডেমি, রাজবাড়ী। কারিগরি সহযোগী রুবেল হোসেন ও আলমগীর বিশ্বাস। পোশাক পরিকল্পনা এনাম তারা সাকি, প্রচার ও প্রদর্শনী সমন্বয়কারী দায়িত্ব পালন করছে সুজন মাহাবুব। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ্যাক্রোবেটিক দলটির পৃষ্ঠপোষকতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ্যাক্রোবেটিক দলের পরিবেশনাটি শিল্প সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার বলিষ্ঠ সহযোগী।