মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

লোকে আমাকে বিশ্বাস করে এবং করা উচিত ॥ হিলারি

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০১৫
  • সিফাত চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থিতা লাভের জন্য দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন ফার্স্টলেডী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। দলটির আরও প্রার্থী মাঠে আছেন। তবে সবদিক বিচার বিবেচনায় নিলে প্রাইমারিতে চূড়ান্ত মনোনয়ন হিলারির পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অবশ্য চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেই যে তিনি হোয়াইট হাউসে গিয়ে বসবেন, তার কোন কথা নেই। কারণ তারপর শুরু হবে নির্বাচনের আসল লড়াই এবং সেই পথটা বড়ই বন্ধুর।

ইতোমধ্যে এক জনমত জরিপে দেখা গেছে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকান হিলারিকে সৎ ও বিশ্বাসী বলে মনে করে না। এরই প্রেক্ষাপটে হিলারি নির্বাচনী প্রচারণায় নামার পর তিন মাসের মাথায় গত ৭ জুলাই তার প্রথম বড় ধরনের সাক্ষাতকারে জনগণের আস্থার সঙ্কট সংক্রান্ত বক্তব্যকে রিপাবলিকানদের দিক থেকেই অন্যায় আক্রমণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আস্থার সমস্যার কারণে তিনি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ঘেমে নেয়ে ওঠেননি। কারণ তিনি মনে করেন, শেষমেশ ভোটাররাই সঠিক মানুষটিকে বেছে নেবেন।

দলের মনোনয়ন প্রার্থী হিসাবে সিএনএনকে দেয়া প্রথম জাতীয় পর্যায়ের সাক্ষাতকারে হিলারি ক্লিলটন বলেন, জনগণ আমাকে বিশ্বাস করে এবং আমাকে তাদের বিশ্বাস করা উচিত। তাঁর ওপর আস্থা স্থাপনের ব্যাপারে আমেরিকান জনগণের সমস্যা আছে, এমন বক্তব্যকে তিনি নাকচ করে দেন এবং বলেন, এ জাতীয় বক্তব্য দক্ষিণপন্থীদের দিক থেকে লাগানো হচ্ছে এবং এমন ধারণায় ইন্ধন যোগানো হচ্ছে যে, আস্থা এমন এক ক্ষেত্র যেদিক দিয়ে তার অবস্থা বেশ নাজুক।

তাঁর ওপর আস্থা স্থাপনে জনগণকে কেন বেগ পেতে হচ্ছে সাক্ষাতকারে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে হিলারি বলেন, তাঁর দুই দুইবার সিনেটের নির্বাচনী প্রচারাভিযানেও এ ধরনের আক্রমণ চালানো হয়েছিল। আর এবার রিপাবলিকানরা তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানার ব্যবহার এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের বিদেশী অর্থ গ্রহণের মতো বিষয়কে বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত করার প্রয়াস পেয়েছে। হিলারি বলেন, আর সে জন্যই জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপ এবং দোদুল্যমান রাষ্ট্রগুলোর জরিপে দেখা যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার বলেছেন, তারা তাঁকে সৎ ও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন না।

জনমত জরিপে দেখা যায়, ফ্লোরিডার ৫১ শতাংশ ভোটার তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রাখে। ওহাইওর ৫৩ শতাংশ ভোটারের মতে হিলারির ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা যায় না। আর পেনসিলভানিয়ার ৫৪ শতাংশ ভোটার তাঁকে সৎ বলে মনে করেন না। এ প্রসঙ্গে হিলারি বলেন, এটা বোধগম্য যে যখন এ জাতীয় প্রশ্ন ওঠে তখন লোকে এ নিয়ে ভাবতে ও সন্দেহ পোষণ করতে থাকে। তিনি বলেন, ‘তথাপি আমার পুরো আস্থা আছে যে এই প্রচারাভিযানকালে লোকে জানতে পারবে, কে তাদের জন্য লড়বে, তাদের প্রয়োজনের সময় কে তাদের পাশে দাঁড়াবে। আমি এমনই এক ব্যক্তি এবং এমন ভূমিকাই আমি পালন করবÑ শুধু প্রচারাভিযানে নয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবেও।’

তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না এই মর্মে জনমত জরিপে প্রতিফলিত মনোভাবে তাঁর কোন ভূমিকা আছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে হিলারি বলেন, এই বিষয়টি আমার ও আমার স্বামীর বিরুদ্ধে বহু বছর ব্যবহার করা হয়েছে। পরিশেষে আমার মনে হয়, ভোটাররাই সঠিক ব্যাপারটি নিজেরা বেছে নেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে প্রাইভেট সার্ভারে তাঁর ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানার ব্যবহার সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোও তিনি একইভাবে নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ বা বিষয় জড়িত ছিল এমন সমস্ত ই-মেইলই তিনি ফেরত দিয়েছিলেন। এর মধ্যে এমন কিছু ই-মেইলও আছে যেখানে দেখা গেছে তিনি একটা নিরাপদ ফ্যাক্স মেশিন ব্যবহার করছেন কিংবা বৈঠক চলাকালে বরফ দেয়া চা চাইছেন। তিনি বলেন, শুধু একটি মাত্র ব্যবহারে লেগে থেকে তিনি কোন আইন ভঙ্গ করেননি। কারণ টেকনিক্যাল ব্যাপারে তাঁর তেমন ভাল ধারণা নেই। অথচ এই ব্যাপারগুলোকে ফুলিয়ে কাপিয়ে দেখানো হচ্ছে, যার কোন ভিত্তি বা বাস্তবতা নেই। রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেস সদস্যরা এটাকে কাজে লাগিয়েছে, ভাল কথা। তবে আমি চাই, জনগণ বুঝুক কোনটা সত্য এবং সত্যটা হলো এই, আমি যা কিছু করেছি তার পেছনে অনুমতি ছিল এবং যেমনটি প্রত্যাশিত আমি তেমনই থেকেছি।

হিলারি জানান যে, নির্বাচিত হলে তাঁর ক্লিনির ফাউন্ডেশন বন্ধ করার কোন পরিকল্পনা নেই।

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০১৫

১৫/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: