২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ব্রাজিলের গমের গুণগত মান ঠিক আছে ॥ খাদ্যমন্ত্রী


সংসদ রিপোর্টার ॥ ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম নিয়ে পত্রিকায় যেসব খবর ছাপা হচ্ছে তার কোন ভিত্তি নেই বলে আবারও দাবি করলেন খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, সরকারকে বিব্রত অবস্থায় ফেলতে এবং আমাকে হেয় করতেই একশ্রেণীর পত্রিকা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করছে। আর যেসব ছবি দেখানো হচ্ছে, সেই ছবির সঙ্গে আমাদের গমের কোন মিল নেই। ব্রাজিলের গম আসলে দেখতে খারাপ, তবে গুণগত মান ঠিক আছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে ব্রাজিল থেকে গম আমদানি করা হয়েছে। পরবর্তীতে যখন বলা হলো আমদানিকৃত গম খারাপ, পচা ও নিম্নমানের, তখন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সিলগালাকৃত অবস্থায় আবার নমুনা গ্রহণ করা হয়। সেই নমুনা আমাদের খাদ্য অধিদফতরের ল্যাবরেটরিতে, সাইন্স ল্যাবরেটরিতে এবং আরও বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা করি।

মন্ত্রী জানান, এরপর দীর্ঘ ৪/৫ মাস পার হয়ে গেলেও দেখা যায় গমের গুণগত মান নষ্ট হয়নি, গুণগত মানও ঠিক আছে। পত্রপত্রিকায় নিউজ এসেছে এই গম পচা ও নিম্নমানের, আসলে এর কোন ভিত্তি নেই। তিনি জানান, ২ লাখ মেট্রিক টন গম এসেছিল তার মধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৫ টন গম ৩০ জুন পর্যন্ত বিলি হয়ে গেছে। আমাদের কাছে আর মাত্র ২৫ হাজার মেট্রিক টন গম আছে। বিলি হওয়ার পর এই ৪ মাসে কোন অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে যে রিপোর্ট এসেছে, ওই সংসদ সদস্যও আবার বলেছেন, গম সম্পর্কে তিনি যে কথা বলেছিলেন তা সঠিক নয়। উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটা প্রজেক্টের বিরোধের জের ধরে গম নিয়ে নাটকীয় অবস্থা সৃষ্টি করেছেন। পত্র-পত্রিকায় নিউজে এসেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বে এই বিরোধের সৃষ্টি।

খাদ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মনের মাধুরী মিশিয়ে একশ্রেণীর পত্রিকা ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করছে। খালেদা জিয়া এ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চান। যে খালেদার জিয়ার শরীরে মানুষ পোড়ার দুর্গন্ধ, সেই নেত্রীই এখন গমের দুর্গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করছেন। সরকারকে এবং আমাকে হেয় করার জন্যই এসব মিথ্যা খবর প্রকাশ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই গম আমদানি করে খাদ্য অধিদফতর। আন্তর্জাতিক টেন্ডারে বলা থাকে একমাত্র ইসরাইল ছাড়া যে কোন দেশ থেকে খাদ্য আমদানিকরতে পারে খাদ্য অধিদফতর। সেভাবে টেন্ডার দেয় খাদ্য অধিদফতর, টেন্ডারের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান পার্সেস কমিটিতে অনুমোদন দেয়। ক্রয় কমিটির অনুমতি নিয়ে মূল্য পরিশোধ করে অধিদফতর। খাদ্য মন্ত্রণালয় মূল্য পরিশোধ করে না। এরপরও কীসের ভিত্তিতে এসব নিউজ করা হচ্ছে, এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন খাদ্যমন্ত্রী।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: