১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সাকিবের রেকর্ড ম্যাচে বাংলাদেশ হারল ৫২ রানে


সাকিবের রেকর্ড ম্যাচে বাংলাদেশ হারল ৫২ রানে

মিথুন আশরাফ ॥ আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়লেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। যা কোন দেশের অলরাউন্ডারের নেই। সেটি কী? টি২০ ক্রিকেটে একই সঙ্গে দেশের হয়ে ব্যাটিংয়ে সর্বোচ্চ রান ও বোলিংয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব। তাতে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজের প্রথম টি২০তে বড় হার থেকে রক্ষা পেল না বাংলাদেশ। হারল ৫২ রানে।

শুধু কী হারই বড় ব্যবধানে, বাংলাদেশ তো দেশের মাটিতে টি২০তে সবচেয়ে কম রানে (৯৬ রান) অলআউটও হয়ে গেল। প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশ ৯৯ রানে অলআউট হয়েছিল। বাংলাদেশ দল তাও করতে পারল না! একমাত্র টি২০ প্রস্তুতি ম্যাচেই যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, তা বাংলাদেশের সামনে এখনও থাকল। সিরিজে যে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি২০ হারলেই সিরিজ হার হয়ে যাবে।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বোঝাই যাচ্ছিল, বড় স্কোর গড়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে চেয়েছে প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশেরও জানা ছিল, স্পিনে দুর্বল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই স্পিনেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে আটকেও রাখা গেছে। যে দলটিতে ‘বিপজ্জনক’ ব্যাটসম্যান ডি ভিলিয়ার্স, ‘কিলার’ খ্যাত মিলার, ডু প্লেসিস, ডুমিনিরা আছেন, সেই দলটি ২০ ওভার খেলে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রানের বেশি করতে পারেনি। ভিলিয়ার্স (২), মিলার (১) দুই অঙ্কের ঘরেই পৌঁছাতে পারেননি। ২ উইকেট নেয়া আরাফাত, ১ উইকেট করে নেয়া সাকিব ও নাসির কী দুর্দান্ত বোলিংই না করলেন। স্পিনেই আটকে রাখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ডু প্লেসিসই শুধু অর্ধশতকের বেশি করতে পেরেছেন। অপরাজিত ৭৯ রান করে দলকে দেড় শ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে গেলেন যে প্লেসিস, তা করতে পারতেন না। যদি মুস্তাফিজের বলে ১৮ রানে থাকা ডু প্লেসিসের ক্যাচটি ধরতে পারতেন মুশফিক। তা হয়নি। ডু প্লেসিসও দলকে ১৪৮ রানে নিয়ে যান। ৯০ রানে চার উইকেট পড়ার পর পঞ্চম উইকেটে অপরাজিত থাকা রিলি রুশোকে (৩১) সঙ্গে নিয়ে ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন প্লেসিস। সেখানেই মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা ভাল অবস্থান দাঁড় করিয়ে ফেলে। ৯০ রানের সময় ডেভিড মিলারকে আউট করে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ উইকেট (আব্দুর রাজ্জাকের ৪৪ উইকেট আছে) শিকার করেন সাকিব। এর মধ্য দিয়ে আগেই দেশের হয়ে টি২০ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ৮০৯ রান থাকায় আরেকটি রেকর্ডেরও মালিক হয়ে যান সাকিব। দেশের হয়ে টি২০ ক্রিকেটে একই সঙ্গে বোলিংয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ রান এখন সাকিবের। যা আর কোন দেশের কোন সেরা ক্রিকেটারেরই নেই।

সাকিবের এমন রেকর্ডের দিনে মনে করা হচ্ছিল বাংলাদেশ জিতবে। ১৪৯ রানের টার্গেট অতিক্রম করা খুবই সহজ, যদি শুরু থেকেই ভাল কিছু করা যায়। কিন্তু সেই ভাল কিছু আর করা গেল না। ১৩ রানেই দুই ওপেনার তামিম (৫) ও সৌম্যকে (৭) হারানোর পর ৭১ রানে মুশফিক (১৭), সাব্বির (৪), নাসির (১) ও সাকিবকে (২৬) হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। দলের সেরা ব্যাটসম্যানরা যখন এত দ্রুতই আউট হয়ে যান, তখন কী আর জেতার আশা থাকে। সাকিব আউট হতেই তাই দর্শকরাও আর স্টেডিয়ামে বসে বাংলাদেশের হার দেখার ধৈর্য দেখালেন না। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ ১৮.৫ ওভারে ৯৬ রানে অলআউটই হয়ে গেল। এক শ’ রানও করতে পারল না। এর আগে মিরপুরে গতবছর মার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৮ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। তা ছিল এতদিন দেশের মাটিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এরও ২ রান কম করে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। রাবাদা, ওয়েইস ও ডুমিনি ২টি করে উইকেট নেন।

ম্যাচটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপদে ফেলতে বাংলাদেশ স্পিন শক্তি বাড়িয়ে নিয়েছিল। সেই স্পিন শক্তির কাছেই হার মানতে হলো বাংলাদেশকে। আসল কাজটি দুই স্পিনার ডুমিনি ও ফাঙ্গিসোই করে দেন। মুশফিক ও সাব্বিরকে যে ৬ রানের (৫০-৫৬) ব্যবধানে আউট করেন ডুমিনি সেখানেই ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে পুরো হেলে পড়ে। ৫৭ রানে যখন নাসিরকে সাজঘরে ফেরান ফাঙ্গিসো, এরপর আর ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের কোন সম্ভাবনাই থাকে না। সাকিব আর একা দলকে কতদূর টেনে নেবেন। পেসার ওয়েইস যখন ৭১ রানের সময় সাকিবের উইকেটটি শিকার করলেন এরপর শুধু ব্যবধান কত কমবে সেদিকেই সবার নজর থাকে। ব্যবধান শেষপর্যন্ত বড়ই হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিটা হয় বড় কোন জুটি না হওয়াতে। তৃতীয় উইকেটে মুশফিক-সাকিব মিলে যে ৩৭ রানের জুটি গড়েন, সেটিই ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি হয়ে থাকে।

বোলাররা যে ভাল করেছেন আর একটি বড় জুটির আক্ষেপ থেকেই গেছে তা ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাই। বলেছেন, ‘বোলাররা ভাল বল করেছে। তবে ১৩০ রানে আটকে রাখতে পারলে ভাল হতো। আমাদের বড় জুটি হয়নি। তবে এখনই হতাশার কিছু নেই। পরের ম্যাচে আশা করছি ভাল কিছু করব।’

ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলায় ম্যাচসেরা হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। তিনি বলেন, ‘এ উইকেটে ব্যাট করা কঠিন। স্পিনাররা ভাল করেছে। বল লো হয়ে এসেছে। আমরা শুধু চেয়েছি জুটি গড়তে। তবে কষ্ট হয়েছে। বুড়ো ডুমিনি দুর্দান্ত বোলিং করেছে। চাপে রেখেছে।’ সেই চাপেই বাংলাদেশের ইনিংস মুখ থুবড়ে পড়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ভালভাবেই বুঝতে পেরেছেন। তাতে মুস্তাফিজ কোন উইকেট না পেলেও নতুন যে আইন চালু হয়েছে, ‘নো’ হলেই ফ্রি হিট; মুস্তাফিজ প্রথম বোলার হিসেবে ‘নো’ দিয়েছেন। নতুন আইনও সেই সঙ্গে এ ম্যাচেই কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশও নতুন আইনের প্রথম টি২০ ম্যাচে হারল।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: