২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ব্যাক্টেরিয়ার ক্ষমতা রোধী নতুন এ্যান্টিবায়োটিক


এ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের একটি ভিন্ন পদ্ধতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ওষুধটির বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদা থাকার পরও এর সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। নতুন উদ্ভাবিত এ্যান্টিবায়োটিকটি এই চাহিদা পূরণে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইন।

নতুন পদ্ধতিতে তৈরি এ্যান্টিবায়োটিকটির নাম দেয়া হয়েছে টিক্সোবাকটিন। ময়লা পরিবেশে থাকা ব্যাক্টেরিয়া নিয়ে প্রস্তুত ওষুধটি খুবই শক্তিশালী। এটি প্রাথমিকভাবে ইঁদুুরের ওপর প্রয়োগ করে ভাল ফল পাওয়া গেছে। ব্যাক্টেরিয়ার তীব্র সংক্রমণ থেকে ইঁদুরগুলো সেরে উঠেছে, কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে এ এ্যান্টিবায়োটিকটি এখনও পর্যন্ত মানবদেহের ওপর প্রয়োগ করা হয়নি। বুধবার নেচার সাময়িকীতে সমীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এ্যান্টিবায়োটিক যে পদ্ধতিতে কাজ করে গবেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে এর বিরুদ্ধে খুব সহজে ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হবে না। এ্যান্টিবায়োটিকটি তৈরিতে ব্যবহৃত পদ্ধতিটি করা হয়েছে সংক্রমণ ও ক্যান্সার প্রতিরোধ গবেষণায় প্রাকৃতিক যৌগের সন্ধানে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই যৌগগুলোর বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এতদিন জানতেন না কারণ এগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বস্টোনে অবস্থিত নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল ডিসকভারি সেন্টারের পরিচালক কিম লুইস বলেছেন যেহেতু এটি মানবদেহের ওপর এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি তাই এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। এর জন্য পাঁচ-ছয় বছর লেগে যেতে পারে। এটি খাওয়ার পিল হবে, ইনজেকশনের মাধ্যমে দেহে পুশ করতে হবে।

টেনিসি অঙ্গরাজ্যের ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির সংক্রমক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম শাফনার বলেছেন, গবেষণাটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে, এ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা যে হারে বাড়ছে, উৎপাদন সেভাবে হচ্ছে না, তাই এ বিষয়ে আমরা আশু কোন ভাল খবর পেতে চাই। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এ্যান্ড প্রিভেনশনের দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ লোক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের শিকার হয় এর মধ্যে মারা যায় প্রায় ২৩ হাজার। প্রচলিত এ্যান্টিবায়োটিকগুলো সহজেই ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে ওষুধ প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি করে ফেলে। এ কারণে এ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা যে হারে বাড়ছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তার সঙ্গে মিল রেখে ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারছে না।