ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

খেলাধুলার অগ্রযাত্রায় যুব গেমসের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

প্রকাশিত: ০৬:৫৫, ১১ মার্চ ২০১৮

 খেলাধুলার অগ্রযাত্রায় যুব গেমসের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নতুনের আহ্বানে বাংলাদেশ যুব গেমসের প্রথম আসরের চূড়ান্তপর্বের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রথম বাংলাদেশ যুব গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর গেমসের মশাল প্রজ্বালন করেন কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী শূটার আসিফ হোসেন খান। এরপর গেমসের মাস্কট ‘তেজস্বী’ এ্যাথলেট্রিক ট্র্যাক প্রদক্ষিণ করে। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেজে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত। ‘এক ঝলকে বাংলাদেশ যুব গেমসে’র এভি প্রদর্শনীর পর মাঠে প্রবেশ করে আট বিভাগের সব ক্রীড়াবিদ। গেমসের থিম সংয়ের এভি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ধীরে ধীরে মাঠ ত্যাগ করেন ক্রীড়াবিদরা। এরপর শুরু হয় আট মিনিটের মাস্কট প্যারেড। তারপর স্টেজ পারফর্মারদের নাচ ও গান পরিবেশন হয়। ১৫ মিনিটের এই অনুষ্ঠানে দেশসেরা কণ্ঠ ও নৃত্যশিল্পীরা অংশ নেন। বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে প্রদর্শিত হয় ডিসপ্লে। ২৫ মিনিটের এই অনুষ্ঠান শেষে প্রদর্শিত হয় আকর্ষণীয় লেজার শো। লেজার শো, পাইরো এবং ফায়ার ওয়ার্কস প্রদর্শনী সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশ যুব গেমসের চূড়ান্তপর্বের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী যুব গেমস আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা করেনÑ এ গেমসের মাধ্যমে নতুন নতুন খেলোয়াড় তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে ৩০ মিনিটের অনুষ্ঠানপূর্ব আয়োজনও ছিল। সেখানে ডিজে শো’র পাশাপাশি বাংলাদেশের খেলাধুলার বিভিন্ন সাফল্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। গেমসের প্রথমপর্বের বিভিন্ন খেলা নিয়ে তৈরি ভিডিও দেখানোর পর চূড়ান্তপর্বে অংশগ্রহণকারী আট বিভাগের খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশ করে মার্চপাস্টে অংশ নেয়। বিকেল চারটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশের সব গেট খোলা হয়। তবে কার্ড থাকার পরও সাংবাদিকদের ঢুকতে বেশ বেগ পেতে হয়। নিরাপত্তার নামে বাড়াবাড়ি করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। এমনকি গ্যালারি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবেÑ বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) এমন ঘোষণারও সেভাবে প্রতিফলন ঘটেনি। দর্শক উপস্থিতি ছিল নিতান্তই নগণ্য। তাছাড়া অনুষ্ঠান শুরুর আগে এবং অনুষ্ঠান চলাকালে সবমিলিয়ে প্রায় ঘণ্টা তিনেকের মতো প্রচ- কড়া রোদে ঠাঁয় দাঁড় করিয়ে রাখা হয় সব ক্রীড়াবিদকে। এদের কেউ কেউ আর এসব ধকল সইতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। অবশ্য দ্রুততার সঙ্গেই তাদের মাঠের পাশে এক কোণে রাখা এ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে প্রথম বাংলাদেশ যুব গেমসের চূড়ান্তপর্ব অবশেষে শুরু হলো। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ভবিষ্যতের ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করার যে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, চূড়ান্তপর্বের মধ্য দিয়েই তা শেষ হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্তপর্বে ২১ ডিসিপ্লিনে ২৬৬০ ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন। এই পর্বে ১৫৯ ইভেন্টে ১১১৪ পদকের জন্য লড়বেন তরুণ ক্রীড়াবিদরা। ৩৪২ স্বর্ণ, ৩৪২ রৌপ্য এবং ৪৩২ তাম্রপদক থাকছে ২১ ডিসিপ্লিনে। চূড়ান্তপর্বের ডিসিপ্লিনগুলো হলো : এ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ফুটবল, কাবাডি, বাস্কেটবল, ভলিবল, হ্যান্ডবল, হকি, টেবিল টেনিস, ভারোত্তোলন, কুস্তি, উশু, শূটিং, আরচারি, ব্যাডমিন্টন, বক্সিং, দাবা, জুডো, কারাতে, তায়কোয়ানদো ও স্কোয়াশ।