ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

শুরুতেই মাঠে নামছে সিটি, বার্সা ও পিএসজি

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:২৩, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

শুরুতেই মাঠে নামছে সিটি, বার্সা ও পিএসজি

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। এবার মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ২০২৩-২৪ নতুন মৌসুম। আজ রাতে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে এবারের আসরের। উদ্বোধনী রাতেই শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামছে ম্যানসিটি। ‘জি’ গ্রুপে ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটিজেনদের প্রতিপক্ষ সার্বিয়ান ক্লাব রেড স্টার বেলগ্রেড। একই গ্রুপের আরেক ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বার্নে স্বাগতিক ক্লাব ইয়াং বয়েসের বিরুদ্ধে খেলবে জার্মানির আরবি লাইপজিগ।

প্রথম দিনেই মাঠে নামছে আসরের সাবেক চ্যাম্পিয়ন বার্সিলোনা। ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে স্প্যানিশ লা লিগার চ্যাম্পিয়নরা ঘরের মাঠে খেলবে বেলজিয়ামের ক্লাব রয়্যাল অ্যান্টওয়াপের বিরুদ্ধে। হামবার্গে গ্রুপের আরেক ম্যাচে লড়বে ইউক্রেনের শাখতার ডোনেস্ক ও পর্তুগালের এফসি পোর্তো। এবার সবচেয়ে কঠিন গ্রুপে পড়েছে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন (পিএসজি)। ড্র অনুযায়ী সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ হিসেবে বিবেচিত হওয়া ‘এফ’ গ্রুপে খেলবে পিএসজি। গ্রুপে পিএসজির তিন প্রতিপক্ষ জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, ইতালির এসি মিলান ও ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনাইটেড। শুরুতেই প্যারিসের পার্ক দ্য প্রিন্সেসে জার্মান ক্লাব বরুসিয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে পিএসজিকে।

রেকর্ড পরিমাণ অর্থ দিয়ে নেইমারের পর লিওনেল মেসিকে দলে নিয়েও সফল হতে পারেনি পিএসজি। মোনাকো থেকে কিলিয়ান এমবাপেকেও শুধুমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে লক্ষ্য করেই দলে ভিড়িয়েছিল প্যারিসের পরাশক্তিরা। কিন্তু ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ শিরোপাটা অধরাই থেকে গেছে তাদের। সেই পিএসজির জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবারের মৌসুমও খুব একটা সুখবর দিতে পারবে কিনা তা সময়ই বলে দিবে।  গ্রুপ পর্বের ফরমেটে এবারই সবশেষ আসর। আগামী মৌসুম থেকে নতুন ফরমেটের যুগে প্রবেশ করবে ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় এই প্রতিযোগিতা। নতুন ফরমেটে ৩২ ক্লাবের পরিবর্তে দলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬টি। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে খেলবে। এর ফলে প্রতিটি দল খেলবে আটটি করে ম্যাচ।

বর্তমান ফরমেটে প্রতি গ্রুপে একটি দল ছয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। ২০২১ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১২টি ক্লাব বিতর্কিত সুপার লিগের পরিকল্পনার সঙ্গে একমত পোষণ করার পর থেকে উয়েফা নড়েচড়ে বসে। তখন থেকেই ইউরোপীয় সর্বোচ্চ সংস্থা কীভাবে ক্লাব ফুটবলকে আরও আকর্ষণীয় করা যায় সেই চিন্তা করতে থাকে। এ ধারাবাহিকতায় নতুন ফরমেটে চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা করেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।  প্রায় দুই দশক আগে যে ফরমেটে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরু হয়েছিল তাতে আট গ্রুপে চারটি করে দল অংশ নিয়ে থাকে। প্রতি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল শেষ ষোলোতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। গত বছর মে মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন ফরমেট চূড়ান্ত করার সময় উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন বলেন, নতুন ফরমেটে প্রতিটি দলের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকায় আমরা খুশি।

এর মাধ্যমে ক্লাবগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়বে। ২০০৩-০৪ মৌসুমে গ্রুপ পর্বের পরিবর্তে আট গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল নিয়ে নক আউট পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফরমেট নির্ধারিত হয়েছিল। তার পর থেকে এই ফরমেটেই হয়ে আসছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলা। কিন্তু বর্তমান যুগে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উয়েফাকে বাধ্য হয়েই আবারও ফরমেট পরিবর্তন করতে হয়েছে। ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো আর্থিকভাবে এখন অনেক বেশি সমৃদ্ধ। যে কারণে টুর্নামেন্টের প্রাইজমানির ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করেছে উয়েফা। এখানে অবশ্য ক্লাবগুলোর র‌্যাঙ্কিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে উয়েফা। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা দলটি ৩৬ মিলিয়ন ইউরোর বেশি আয় করবে। এই পরিমাণ ক্রমান্বয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের সবচেয়ে নিচে থাকা দলটির জন্য কমে আসবে। তলানির দলটি পাবে এক মিলিয়ন ইউরোর কিছু বেশি।

×