ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

শবে কদরের ফজিলত পেতে জানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

প্রকাশিত: ০৮:০০, ১৬ মার্চ ২০২৬

শবে কদরের ফজিলত পেতে জানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

পবিত্র মাহে রমজান শেষের পথে। এই মাসের শেষ দশকের মধ্যেই মুসলমানদের জন্য রয়েছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ রাত—পবিত্র লাইলাতুল কদর। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি করা হাজার মাস ইবাদতের চেয়েও উত্তম। তাই এই রাতের ফজিলত অর্জনের জন্য বিশেষভাবে ইবাদতে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

ইসলামি শিক্ষায় শবে কদর লাভের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথমত, লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট রাত খোঁজার চেষ্টা করা। রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলো—২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হয়। তাই এসব রাতে বেশি করে ইবাদত করা উত্তম।

দ্বিতীয়ত, ইতিকাফ করা। রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নত। এতে দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।

তৃতীয়ত, ইবাদতের নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা। তারাবির নামাজের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময় কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ এবং জিকির-আজকারে কাটানোর চেষ্টা করা উচিত।

চতুর্থত, বিশেষ দোয়া ও দান-সদকা করা। হজরত আয়েশা (রা.)-কে রাসূল (সা.) যে দোয়া শিখিয়েছিলেন— “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি”—এই দোয়া বেশি বেশি পড়ার পাশাপাশি দান-সদকাও করা উত্তম।

পঞ্চমত, আল্লাহর কাছে নিজের চাওয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা। এই রাতে আন্তরিকভাবে দোয়া করা এবং নিজের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ধরে রাখার অঙ্গীকার করা গুরুত্বপূর্ণ।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শবে কদর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের এক অনন্য সুযোগ। তাই এই মহিমান্বিত রাত ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়ার মাধ্যমে যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিত।

নোভা

×