ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

পড়ন্ত বেলায় বইমেলা

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ১০ মার্চ ২০২৬

পড়ন্ত বেলায় বইমেলা

বাংলা একাডেমি আয়োজিত বইমেলায় এবার একই সঙ্গে লেগেছে বিদায় ও বিষাদের সুর। বিষাদের- কেননা, বইমেলায় আগত দর্শক ও পাঠকের সংখ্যা কম। ক্রেতার সংখ্যা আরও কম। এর অবশ্য কারণও আছে। রমজানের দ্বিতীয়ার্ধে ক্রমশ জমে উঠেছে ঈদুল ফিতরের বাজার ও কেনাকাটা। আপামর বাঙালি এখন হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ঈদ আনন্দের প্রস্তুতিতে। তদুপরি রোজার শুরু থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় এবারে মেলায় কম আসছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে স্বভাবতই পুস্তক প্রকাশক ও বই বিক্রেতাদের মন খারাপ, তথা মাথায় হাত বেচা-কেনা কম বিধায়। 
এও স্বীকার করতে হবে যে, বাঙালির প্রাণের মেলা বইমেলা তার ঐতিহ্য ও কৌলিণ্য হারিয়েছে। করোনা মহামারির পর থেকে বইমেলার সময় বা তারিখ পেছাতে পেছাতে ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বই পাইরেসিসহ কপিরাইট বা গ্রন্থসত্ব আইনের লঙ্ঘন করে অবাধে অন্য লেখকের বই প্রকাশ ও বিক্রি। এর মধ্যে লেখকের মৌলিক ও অনুবাদ গ্রন্থ দুই-ই রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন একজন মৌলিক লেখক বঞ্চিত হচ্ছেন প্রাপ্ত সম্মানী থেকে, অন্যদিকে অনুমোদনহীন ভারতীয় ও বিদেশী লেখকের বইয়ের আধিক্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় প্রকাশনা শিল্প। এতে মৌলিক ও সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলো ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। বাস্তবে এসব বাংলা একাডেমি ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোর জোট কর্তৃক গৃহীত নিয়মনীতির চূড়ান্ত লঙ্ঘন। অনতিবিলম্বে অবৈধভাবে প্রকাশিত বইয়ের দৌরাত্ম্য ও বেচা-বিক্রি কমাতে না পারলে ক্রমাগত লোকসানে সমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশীয় প্রকাশনা সংস্থাগুলো। এর ফলে একুশের বইমেলা হারাবে তার মর্যাদা ও ঐতিহ্য। 
ভাষাশহীদদের স্মৃতিবিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসে অমর একুশে গ্রন্থমেলা বা একুশের বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বিগত কয়েক দশক ধরে। ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত এই মেলায় শুধু বই কেনা ও সংগ্রহ নয়, নানা আয়োজনে যোগ দিতে সারা দেশ থেকেই আসেন মানুষ। এবারে ভাষার মাসের একেবারে শেষে এসে শুরু হয় বইমেলা। তাও মাসব্যাপী নয়, পক্ষকালব্যাপী। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে জাতীয় নির্বাচনের পরে দুই দফা তারিখ পরিবর্তনের পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় বইমেলা। পবিত্র রমজানের মধ্যে বইমেলার আয়োজন নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যেও দ্বিধা ছিল। 

প্যানেল/মো.

×