ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

বিদেশী বিনিয়োগে অর্জন

প্রকাশিত: ০৫:৫০, ২৫ জুন ২০১৬

বিদেশী বিনিয়োগে অর্জন

গত বছর নবেম্বরে ঢাকায় ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম-২০১৫’ এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে উন্নত দেশসমূহকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সে সময় অত্যন্ত দরকারি কথা তিনি খোলাখুলি সহজ ভাষায় বলে দেন। তার ভাষ্য: ‘এসডিজি বাস্তবায়নে আরও সম্পদ চাই। এজন্য আরও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন।’ দেখা যাচ্ছে ওই বিদায়ী বছরেই বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে বাংলাদেশ অতীতের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। আঙ্কটাডের ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট-২০১৬’ থেকে জানা যাচ্ছে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ ২শ’ কোটি ডলারের ‘ঘর’ অতিক্রম করেছে। ২০১৫ সালে দেশে ২শ’ ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে। এ বিনিয়োগ ২০১৪ সালের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি। বুধবার বিনিয়োগ বোর্ডে এ রিপোর্ট প্রকাশ হলে আরও জানা যায় ২০১৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যে এফডিআই এসেছে তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। নিঃসন্দেহে এটি অগ্রযাত্রার স্বাক্ষর। রাষ্ট্রের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প খাত। তেমনি আবার শিল্প খাতের অপরিহার্য চালিকাশক্তি বিদ্যুত। শিল্প খাতের প্রসার ও শিল্প-উৎপাদন বাড়িয়ে শিল্প খাতের সুদিন ফেরাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছে। বাংলাদেশ যে ক্রমশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতির স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেছে তার বড় উদাহরণ বিদ্যুত খাতে সক্ষমতা অর্জন। সে সক্ষমতার সুবাদেই আজকে শিল্প খাত সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতির সব সূচক যখন ভাল অবস্থানে রয়েছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ; তখন একটার পর একটা ইস্যু তৈরি করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম নষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে একটি মহল। এটা অস্বীকারের কোন উপায় নেই যে, আছে অনেক বাধা, আছে বিপুল বিঘœ তবু এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। আছে শত্রুতা, আছে উল্টোগাড়ির অপচালকÑ তবু সঠিক পথে অগ্রসরমান আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ কিংবা ‘বাংলাদেশ একটি উন্নয়নের পরীক্ষাগার’Ñ এজাতীয় শ্লেষ ও বিদ্রƒপ গায়ে না মেখে মানুষ আত্মশক্তি অর্জনের পথে এগিয়ে বিশ্বমানচিত্রে মর্যাদার আসনে স্বদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের ক্রমোন্নতির বিষয়টির স্বীকৃতিও মিলেছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে। বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুত, তৈরি পোশাক শিল্প এবং টেলিকমিউনিকেশন খাতে আগের তুলনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। ফুড প্রোডাক্ট এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে কী উপায়ে আরও বিনিয়োগ আনা যায় এ বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এছাড়াও আরও কয়েকটি খাত শনাক্ত করে পরিকল্পিতভাবে সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সেসব খাতেও বিনিয়োগ আনা অসম্ভব হবে না। বর্তমান সরকার প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে এবং অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করছে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্টভাবে কোন বিষয়গুলোকে প্রতিবন্ধকতা বলে গণ্য করছে সেগুলো শনাক্ত হওয়া জরুরী। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভাল। বিনিয়োগের জন্যও যে এটি সুবর্ণ সময়, এই যুক্তিগুলো ছোট ও বড় সব স্তরের বিনিয়োগকারীর সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার বিকল্প নেই।
×