ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

ফটিকছড়িতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান, ২৪ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১২:৪৭, ১২ মার্চ ২০২৬

ফটিকছড়িতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান, ২৪ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা

পাইন্দং এলাকা থেকে তোলা ছবি। ছবি: জনকন্ঠ।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন, মাটি ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার  ও এক্সিকিউটিভ  ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের নেতৃত্বে চলমান এসব অভিযানে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এলাকায় অবৈধ মাটি ও বালু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক  বিরাজ করছে। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,  ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি - এই তিন মাসে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মোট ৪৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ২৫ জন ব্যক্তিকে সর্বমোট ২৪ লক্ষ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকা, পাহাড়ঘেঁষা অঞ্চল ও ইটভাটা সংলগ্ন স্থানে জমির মালিকের অজ্ঞাতসারে  দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার অভিযোগ ছিল। এমনকি,রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ও দোদন্ড প্রতাপে রাতের আঁধারে বালু ও মাটি স্কেভেটর দিয়ে কেটে পাচার করছে।এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে।

বিশেষ করে পাইন্দং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জরিমানা আদায় করা হয়। একইভাবে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ানহাট, ভূজপুর,হারুয়ালছড়ি, সুয়াবিল, নানুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুমতি ছাড়া কৃষি জমির মাটিকাটা ও পরিবহনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানের সময় একাধিক স্থানে মাটি কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার পরিবেশ, কৃষিজমি ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমান ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত অভিযান শুরু হওয়ায় অবৈধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে অবৈধ মাটি ও বালু ব্যবসায়ীদের এখন রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে পরিবেশ ধ্বংসের এই অপতৎপরতা অনেকটাই বন্ধ হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মাটি ও পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ বালু ও মাটি ব্যবসায়ীদের জন্য প্রশাসনের বক্তব্য  স্পষ্ট; আইন ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযান  অব্যাহত থাকবে।
 

×