নিমা ইউসিজ (১৮৯৫-১৯৬০), ইরানের কবি যিনি সেদেশে আধুনিকতার জনক। পুরানো ধারা ভেঙে তিনি মুক্ত ছন্দ ও নতুন চিত্রকল্প ও সামাজিক বিষয়ের অবতারণা করেন।
তিনি ১৮৯৫ সালে ইউশ নামক গ্রামে প্রকৃতির কোলে জন্মগ্রহণ করেন যা তার কবিতার ওপরে প্রভাব ফেলে। তিনি ১২ বছর বয়সে তেহরানে চলে আসেন এবং সেন্ট লুইস স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে তিনি ফরাসি ভাষা শেখেন, যা তার রোমান্টিক শৈলীকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
নিমা প্রথাগত ফারসি কবিতার কঠোর কাঠামোকে ভেঙে কবিতার আঙ্গিক ও বিষয়বস্তু- উভয় ক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন। তার ‘আফাসানেহ’ (কল্পকথা) কবিতাটিকে আধুনিক ও আবেগঘন এই নতুন শৈলীর ইশতেহার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুরুতে ব্যাপক বিরোধিতার সম্মুখীন হলেও তার ‘শে’র-এ নিমায়ি ‘(নিমায়ি কবিতা) আধুনিক ইরানি সাহিত্যের ভিত্তি হয়ে ওঠে। এটি সোহরাব সেপেহরি ও ফোরুগ ফাররোখজাদের মতো বিখ্যাত কবিদের অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি ১৯৬০ সালে পরলোক গমন করেন।
রূপান্তরিত কবিতাটি চড়বস ঐঁহঃবৎ থেকে নেওয়া হয়েছে।
উদ্বেগ
চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়ে,
জোনাকিরা জ্বলে,
কদাচিৎ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে;
কিন্তু এই খেয়ালি জনতা বিষয়ে উদ্বেগ
আমার জল ভরা চোখে
ঘুমের সর্বনাশ ঘটিয়ে ছাড়ে।
উদ্বিগ্ন ভোর আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে,
জনতার কাছে তার আগমন ঘোষণা করার জন্য
আমাকে তাড়া দিচ্ছে।
হায় একটি কাঁটা আমার ভেতরে
আমার চলা পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
একটি দুর্বল গোলাপ চারা
যা আমি নিজের হাতে পুঁতেছিলাম
এবং জীবন জল দিয়ে বড় করেছিলাম,
তার কাঁটাগুলো এখন আমার ভেতরে বিঁধছে।
আমি হাতড়ে হাতড়ে দরজা খুলি
কাউকে দেখার নিষ্ফল আশায়,
দেয়াল এবং দরজাগুলো
আমার মাথার ওপরে ভেঙ্গে পড়ে।
চাঁদের আলো দেখা দেয়,
জোনাকিরা জ্বলে,
পথে কাঁটা ছড়িয়ে আছে।
গ্রামের সামনে একাকি একজন দাঁড়িয়ে-
পিঠে তার থলে, হাতে কড়া,
মনে মনে বিড়বিড় করছে,
‘এই খেয়ালি জনতা বিষয়ে উদ্বেগ
আমার চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।’
প্যানেল/মো.








