এবারের বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে স্বনামধন্য লেখক এমদাদ হোসেন মালেকের ভোক্তা অধিকার বিষয়ক ‘ক্রেতা-ভোক্তার অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ’ শীর্ষক বই। বইটি মোট ৩৩টি প্রবন্ধ-নিবন্ধ নিয়ে ২টি অধ্যায়ে গ্রন্থিত। ৩৩টি লেখা ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লেখা। কিছু লেখা যেমন একেবারে হালনাগাদ তেমনি কিছু লেখা গত সময়ের প্রাসঙ্গিক আকারে লেখা; কিন্তু এখনো এগুলো সমধিক গুরুত্ব বহন করে। আবার পুরাতন এসব লেখা বর্তমান লেখাগুলোর প্রেক্ষাপট-চিত্রও বটে।
বইটির ৪৭ নম্বর পৃষ্ঠা হতে ১০২ নম্বর পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ আছে আমাদের দৈনন্দিন তালিকাভুক্ত খাদ্যে ব্যবহারযোগ্য কীটনাশকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা। এটি ভোক্তা ও পাঠকের জন্য প্রতিদিনের অনুসরণযোগ্য। আবার পৃষ্ঠা নম্বর ১০৩ হতে ১০৬ পর্যন্ত লিপিবদ্ধ আছে বাংলাদেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর কোন ধারা ভোক্তা অধিকার হরণে কি অপরাধ এবং তার বিপরীতে দণ্ডের বিধান। আবার-১৮৩-১৮৫ পৃষ্ঠাসমূহে রয়েছে ২১ বছরের দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা মানের ক্রম হ্রাসের পরিসংখ্যান ভিত্তিক তথ্য চিত্র। এ রকম আরও কিছু মূল্যবান তুলনামূলক চিত্র লিপিবদ্ধ আছে।
লেখক এমদাদ হোসেন মালেক অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উপকারের লক্ষ্যে ‘ক্রেতা-ভোক্তার অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ’ বইটি রচনা করেছেন। বইটি যে কোনো দিক দিয়েই প্রশংসার দাবি রাখে। মূল্যবান এ বইটি ‘সম্প্রীতি বইঘর’ সম্প্রীতি ভবন, আফতাবনগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে। বইটি এখন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬, সমবায় অধিদপ্তরের ৪৫৫-৪৫৬ স্টলে সহজে প্রাপ্তিযোগ্য। বইটিতে ক্রেতা-ভোক্তার অধিকার আন্দোলনের গোড়ার কথা লেখক তুলে ধরেছেন।
নতুন পুরাতন সঙ্গতিপূর্ণ লেখা-তথ্য-রেকর্ড সমৃদ্ধ বইটি অসাধারণ হিসেবে বাস্তর রূপ নিয়েছে; যা লেখককে আরও অনেক দূর বয়ে নিয়ে যাবে। ক্রেতা, ভোক্তা ও পাঠক সাধারণ নিজের জন্য, সমাজের তাগিদে এবং সর্বোপরি ভোক্তাবাদ ভিত্তিক কমিউনিটি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বইটিতে লেখক তার বাম ঘারানার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডভিত্তিক অভিজ্ঞতা থেকে সুস্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বাজারে উৎপাদক-ব্যবসায়ীদের দ্বারা ভোক্তা ঠকানোর কৌশলটি মূলতই পুঁজিবাদীদের বিশ^ বাজার গ্রাসের কালো হাতেরই একটি ছোঁবল মাত্র। তারা সহজেই এই কালো ছোঁবল উঠিয়ে নিবে না।
গণসংগঠক এবং ভোক্তা অধিকার ও সমবায় কর্মী, একজন সুলেখক হিসেবে সমাদ্রিত এমদাদ হোসেন মালেক সহজপাঠ্য ও বোধগম্য করে বইটি লিখেছেন। তিনি কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সঙ্গে ২৬ বছরের কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং ১৯৮৯ সাল থেকে সাধারণ মানুষের সমবায় সংগঠন ‘সম্প্রীতি কো-অপরেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সমবায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক এম এম আকাশ বইটির ভূমিকা লিখেছেন। তাঁর লেখা ভূমিকাটি এ বইয়ের সমসাময়িক প্রাসঙ্গিতা ও গুরুত্বকে অনেকখানি বৃদ্ধি করেছে।
বইটির কভারের শেষ পৃষ্ঠায় উৎকীর্ণ আছে জাতিসংঘ স্বীকৃত ক্রেতা-ভোক্তাদের ৮টি অধিকার এবং ৫টি দায়িত্ব। এগুলো ঘরে, বাইরে, বাজারে, অফিস ও আদালতের উপযুক্ত স্থানে প্রদর্শিত আকারে সংরক্ষণ করার গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
প্যানেল/মো.








