ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

শেষ হলো শিল্পী উজান রহমানের একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী  

তাসমিম সুলতানা

প্রকাশিত: ১২:৩৪, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

শেষ হলো শিল্পী উজান রহমানের একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী  

আলোকচিত্রী উজান রহমান

শেষ হলো শিল্পী উজান রহমানের পাঁচদিন ব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী। টেরাকোটা ক্রিয়েটিভস শিল্পী উজান রহমানের "Abyss in Abjection-শিল্পীর চোখে কোভিড-১৯ মহামারী" শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করছেন।

প্রদর্শনীটি ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার  পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রদর্শনীটি ৭ ফেব্রুয়ারি "আর্ট ইন দা প্যানডেমিক" শীর্ষক আলোচনা সভার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। প্রফেসর ডঃ মেসবাহ কামাল, সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেছেন। সভাপতিত্বে ছিলেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী আরশাদ রন।

আলোকচিত্র

আলোচনা সভায় আরও ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী মাহবুব জামাল শামীম, প্রতিষ্ঠাতা, চারুপীঠ শিল্প গবেষণা ইন্সটিটিউট এবং জান্নাতুল মাওয়া, প্রভাষক, পাঠশালা দক্ষিণ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউট। 

আলোকচিত্র

প্রদর্শনীতে কোভিড ১৯ চলাকালীন ঢাকা, যশোর ও যুক্তরাজ্যের প্রেক্ষাপটে শিল্পীর ব্যক্তিগত, স্থানীয় এবং বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। স্বাভাবিক জীবন বাস্তবতা কোভিড ১৯ চলাকালে কীভাবে ব্যাহত হয়েছে তা "Abyss in Abjection" দৃশ্যকল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে। শিল্পী উজান রহমান তার যাত্রায় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, স্বাচ্ছন্দ্য ও যোগাযোগের গন্ডি পেরিয়ে মহামারীর নতুন পরিবেশের সাথে মানুষের অভিযোজনের দুঃসাধ্য প্রয়াসকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

আলোকচিত্র

প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন আলোকচিত্রী আরশাদ রন এবং টেরাকোটা ক্রিয়েটিভস এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মৃত্তিকা কামাল। আলোকচিত্র সংখ্যা : বাংলাদেশ -৫৩, তুরস্ক -০১, যুক্তরাজ্য- ৬৮, মোট-১২২ ।

আলোকচিত্র

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতি প্রফেসর ড. মেসবাহ কামাল, ইতিহাস বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলেছেন, মহামারিতে জীবন কেমন ছিল গোটা পৃথিবীতে তার প্রতিচ্ছবি এখানে দেখানো হয়েছে। ছবিগুলো দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, জীবন একদিকে স্তব্ধ হয়ে আছে, থেমে আছে, সেই জীবন আবার ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাচ্ছে সেটা ছবির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। শিল্পমাধ্যমে সময়টা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, সেজন্য ছবিগুলো দিয়ে ইতিহাসকে ধরে রাখতে সাহায্য করেছে উজান।

বিশেষ অতিথি, গোপা বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক, টেলিভিশন ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলেছেন, ইতিহাসের একটি অন্যতম অংশ হলো ফটোগ্রাফি। কোভিড মানে যে শুধু মাস্কের ছবি নয় উজান রহমান ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তার ছবির মাধ্যমে। ইতিহাস একটি এলিট বিষয় যেখানে যে কারো জায়গা হয় না, এখানে ফটোগ্রাফি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আলোকচিত্র

প্রধান অতিথি, প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার ও লেখক, নাসির আলী মামুন বলেছেন, কাজটা দেখে মনে হচ্ছেনা যে দুই-তিন বছর ধরে করা হয়েছে। মনে হচ্ছে দশ বছরের বেশি সময় ধরে করা কাজ। একটা সিড়ির ছবি এত কাব্যময় হতে পারে সেটা এ প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে। আমি দাবি জানাই চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফটোগ্রাফিকে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। একজন সফল আলোকচিত্র শিল্পীর কাজ  উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত।

২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা টেরাকোটা ক্রিয়েটিভস সৃজনীশক্তি সম্পন্ন মানুষদের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম। আমরা শিল্প,লেখনী,আলোকচিত্র,চলচ্চিত্র ও অন্যান্য নতুন মাধ্যম নিয়ে আগ্রহী মানুষদের একটি বর্ধনশীল সংগঠন। আমাদের প্রচেষ্টা ও কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য আমাদের প্রতিপাদ্য "Promoting peace through art" কে বাস্তবায়িত করা।

উজান রহমান ১৯৯২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সবসময়ই শিল্প ও শিল্পীসত্তার বিবিধ প্রকাশ মাধ্যমের প্রতি কৌতুহলী। যশোরে বেড়ে ওঠাকালীন তিনি শহরটির সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম কেন্দ্রস্থল চারুপীঠের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। শিল্পে তার জীবনকে উৎসর্গ করার স্বপ্নের অংশ হিসেবে তিনি ২০১৭ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাস্কর্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ২০১৯ এ তিনি খ্যাতনামা 'বেগার্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফি ' তে ফটোগ্রাফি কোর্সে ডিপ্লোমা শুরু করেন। কিছুদিন পরই তিনি 'ইউনিভার্সিটি অফ হার্টফোর্ডশায়ার' এ ফটোগ্রাফিতে স্নাতকোত্তরের জন্য মনোনীত হন। ফটোগ্রাফির শিক্ষার্থী থাকাকালীন তার জীবনের একটি বড় অংশ ছেয়ে ছিলো কোভিড ১৯; তাই এই প্রদর্শনী তার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

×