ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

জ্ঞানচর্চার উৎসব

ইমাম হোসেন

প্রকাশিত: ১৯:১২, ১১ মার্চ ২০২৬

জ্ঞানচর্চার উৎসব

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় আমাদের প্রাণের অমর একুশে বইমেলা, এবার তার ব্যতিক্রম। বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতির অন্যতম বড় আয়োজন এই বইমেলা। তবে এবারের বইমেলার আয়োজন একটু ব্যতিক্রম দেখা গেছে—রমজান মাসের মাঝেই। তবুও বইপ্রেমীদের আগ্রহ ও ভালোবাসায় মেলা মুখর হয়ে ওঠে প্রতিদিন।
বইমেলা কেবল কাগজ আর কালির স্তূপ নয়, বরং এটি বাঙালির মনন ও চেতনার এক মিলনমেলা। বই মানুষের নিঃসঙ্গতার চিরসাথি এবং অন্ধকার দূর করার প্রদীপ। আর সেই জ্ঞানের আলোকবর্তিকাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো বইমেলা। বাঙালির সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে মিশে থাকা এই উৎসব আজ কেবল কেনাবেচার মাধ্যম নয়, বরং এক মহান প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। বইমেলা জ্ঞানচর্চার এক অবারিত ক্ষেত্র। এখানে নানা মত ও পথের লেখকদের মিলন ঘটে। ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন থেকে শুরু করে সমকালীন প্রযুক্তির নতুন সব বইয়ের সমাহার ঘটে এই প্রাঙ্গণে। নতুন প্রজন্ম যখন মেলায় আসে, তখন তারা শুধু বই কেনে না, বরং হাজারো বইয়ের মলাট দেখেও নতুন কিছু শেখার আগ্রহ পায়। লেখকের সাথে পাঠকের সরাসরি কথোপকথন ও চিন্তার আদান-প্রদান জ্ঞানচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
বইমেলা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ঢল নামে। এটি কেবল লেখক-পাঠকের মিলনস্থল নয়, বরং শিল্প-সাহিত্যের এক বিশাল মঞ্চ। মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো মানুষের রুচি ও চিন্তাশীলতাকে শাণিত করে। ডিজিটাল যুগের এই সময়ে, যখন মানুষ স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বন্দি, তখন বইমেলা আমাদের আবার মুদ্রিত অক্ষরের ঘ্রাণ নিতে শেখায় এবং সুস্থ বিনোদনের স্বাদ দেয়। একটি জাতির মেধা ও মননের পরিচয় পাওয়া যায় তার বই পড়ার অভ্যাসের মধ্য দিয়ে। বইমেলা সেই অভ্যাস গড়ার এক কারিগর। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বইমেলার ভূমিকা অতুলনীয়। বই হোক আমাদের নিত্যসঙ্গী আর বইমেলা হোক আমাদের প্রাণের স্পন্দন। এই উৎসবের মাধ্যমেই প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ুক জ্ঞানের আলো, যা সমাজ থেকে অন্ধকার আর কুসংস্কার দূর করে একটি সুন্দর আগামী উপহার দেবে।
মীরসরাই, চট্টগ্রাম থেকে

প্যানেল/মো.

×