ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

মৌলিক বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ৬ মার্চ ২০২৬

মৌলিক বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে

মো. ফাহিম শাকিল, ৪৫তম বিসিএস প্রশাসন

মো. ফাহিম শাকিল ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রচণ্ড মেধাবী। তিনি নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এবং ২০১০ সালে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিসহ গোল্ডেন এ+ পান। জেএসসিতে জেলায় ২য় স্থান অর্জন করেন। ২০১৩ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ড স্টাইপেন্ডসহ গোল্ডেন এ+ অর্জন করেন। ২০১৫ সালে ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ড স্টাইপেন্ডসহ গোল্ডেন এ+ প্রাপ্ত হোন। এরপর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০২১ সালে স্নাতক- এ প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণাপত্র এবং নানা কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার জন্ম নওগাঁ জেলা শহরে। বাবা অ্যাডভোকেট মো. মোকছেদুর রহমান নওগাঁ জেলা বারের একজন স্বনামধন্য ও সিনিয়র আইনজীবী। মা মিসেস সোহেলী মাগফুরা রহমান একজন উচ্চশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েট। ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মো. ফাহিম শাকিল।
ফাহিম শাকিল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিসিএস ক্যাডার হওয়ার ইচ্ছে কাজ করত। তাই যে শ্রেণিতেই পড়েছি, সেই শ্রেণির পাঠ খুব ভালোভাবে রপ্ত করতে চেষ্টা করেছি। স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব পাঠের মূল্য বিসিএসে পাওয়া যায়। তাই বিসিএসের জন্য আলাদা কিছু পড়তে হয় বলে আমি বিশ্বাস করি না। বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিজ্ঞান ও গণিত এগুলো মৌলিক বিষয়। এসবের বেসিক ক্লিয়ার থাকতে হবে। প্রচুর বই পড়েছি। মূল বইয়ের বাইরেও ভালো যা বই পেয়েছি, পড়েছি। সাহিত্যও পড়েছি। প্রতিদিন দুটি বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পড়তাম, যা আমার লেখার মান ও বাচনভঙ্গিকে আরও শাণিত করেছে। প্রশাসন ক্যাডারে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৫৬তম হতে এসব ভূমিকা রেখেছে বলে আমি মনে করি।’
৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারপ্রাপ্ত হওয়া ফাহিম শাকিলের কাছে এখনো স্বপ্নের মতো মনে হয়! রেজাল্টের সময় মা, বাবা ও ছোটবোন মোহনা সাথে ছিল। খুশিতে সেদিন তিনি সকলকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন। সবার চোখেই ছিল আনন্দাশ্রু। স্বপ্নজয়ের খুশি বোধহয় এমনই হয়, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
ফাহিম শাকিলের অনুপ্রেরণায় ছিল তার পরিবার- মা-বাবা ও ছোট বোন। মায়ের কাছেই শাকিলের পড়ালেখার হাতেখড়ি। তার মরহুম দাদাভাই বছির উদ্দীন আহমেদ ও নানাভাই মরহুম দেওয়ান আবদুল কাদের উভয়েই শিক্ষক ছিলেন।
নতুনদের উদ্দেশ্যে শাকিল বলেন, ‘প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পত্রিকা পড়তে হবে। ভালো ভালো আর্টিকেল পড়ুন। এসব পড়তে পড়তে কখন যে আপনার শব্দচয়ন ও লেখার মান উন্নত হয়ে পড়বে, আপনি নিজেও টের পাবেন না।
প্রমিত বাংলা ও ইংরেজি বলার চর্চা করুন। প্রতিদিন যা পড়ছেন, তা দিনশেষে রিভিউ করুন। প্রচুর লেখার অভ্যাস করুন। মৌলিক বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিন। নিজ নিজ দুর্বলতা খুঁজে বের করে প্রচুর চর্চা করুন।’
জেলা শহরে বড় হওয়ার সুবাদে স্থানীয় মাঠ প্রশাসনের কর্মতৎপরতা ছোটবেলা থেকেই নজরে এসেছে। তখন থেকেই একটি পজিটিভ সামাজিক পরিবর্তন আনার নিরবচ্ছিন্ন কর্মযজ্ঞের ক্ষুদ্র পার্ট হওয়ার ইচ্ছে ছিল ফাহিম শাকিলের। তিনি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করতে চান। ট্রেনিং এবং শেখার যা যা সুযোগ অপেক্ষা করছে, তার সবটাই তিনি লুফে নিতে উন্মুখ হয়ে আছেন।
চাকরি বাজার ডেস্ক

প্যানেল / জোবায়ের

×