ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

চর্মরোগ সোরিয়াসিস

ডা. জাহেদ পারভেজ

প্রকাশিত: ২১:৫৬, ১৪ নভেম্বর ২০২২

চর্মরোগ সোরিয়াসিস

চর্মরোগ

সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটা স্পর্শ বা একত্র বসবাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। তবে পরিবারে সোরিয়াসিসের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি থাকে। সোরিয়াসিস কে বলা হয় শীতের চর্মরোগ। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তাঁদের মূলত এই রোগটি হয়। সোরিয়াসিস ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা যাতে ত্বকের কোষগুলোর জীবনচক্র দ্রুত শেষ হতে থাকে। এর ফলে ত্বকের ওপর বাড়তি কোষের স্তর জমে ওঠে। ত্বকের স্থানে স্থানে খসখসে, লাল বা সাদাটে হয়ে পড়ে, ফেটে যায়।
কারণগুলো
জিনগত বা বংশগত কারণে এ রোগ হতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমলে সোরিয়াসিস রোগে প্রভাব ফেলে। স্থূলতার কারণেও এমনটা হতে পারে। যত স্থূল হবে, সোরিয়াসিস তত বাড়বে। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনায় ত্বক ছিলে গেলে, পুড়লে বা ব্যথা পেল এটা হতে পারে। আবার রোদে ত্বক পুড়েও এমনটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। খুব বেশি মানসিক চাপে থাকলেও এ রোগ হয়। এছাড়াও ধূমপান, মদ্যপান সোরিয়াসিস বাড়ায়। অনেক ধরনের ওষুধ খাওয়ার ফলেও সোরিয়াসিস বাড়ে। যেমন- উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, ম্যালেরিয়ার ওষুধ, লিথিয়াম, কর্টিকোস্টেরোইড ইত্যাদি। কারও কারও ট্যাটু বা ভ্যাকসিনের কারণেও সোরিয়াসিস বাড়তে পারে। এসব পরিস্থিতিতে সোরিয়াসিস পুরো শরীরে ছড়িয়ে ইরাইথ্রোডার্মার মতো মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
আক্রান্তের স্থান
সোরিয়াসিস কেবল ত্বকে নয়, আক্রান্ত হতে পারে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও। সাধারণত কনুই, হাঁটু, মাথা, হাত ও পায়ের নখ আক্রান্ত হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে মাথার ত্বক আক্রান্ত হতে পারে এবং হাতের নখের রঙ নষ্ট হয়ে যায় এবং গর্ত হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ (ইনফেকশন), টনসিলাইটিস বা মুখগহ্বরের সংক্রমণ।
চিকিৎসা কী
সোরিয়াসিস পুরোপুরি ভালো হয় না, নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়। সোরিয়াসিসের ধরন বুঝে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয়। আক্রান্ত স্থানের ওপর বিভিন্ন ধরনের মলম ও ক্রিম লাগাতে হয়। মুখে খাবার কিছু ওষুধও প্রয়োজনে খেতে হবে। অবশ্যই এসব ওষুধ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খেতে হবে। সোরিয়াসিস যাতে না বাড়ে সে জন্য বেশি গোসল, সাবান থেকে বিরত থাকতে হবে। তৈলাক্ত জিনিস ঘন ঘন ব্যবহার করতে পারেন। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করা। এছাড়া আলট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়েও চিকিৎসা করা হয়। অনেক রোগী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তাই কাউন্সেলিংয়েরও দরকার হতে পারে।
জেনে রাখা ভালো
সরাসরি সূর্যালোক ও শুষ্ক ত্বক সোরিয়াসিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর। তাই সরাসরি রোদে অনেকক্ষণ থাকা যাবে না। ত্বক আর্দ্র রাখতে হবে। শুরুতেই রোগটি শনাক্ত করে একজন ত্বক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করলে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ত্বক, চর্ম যৌন ও হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যন্ট সার্জারি বিভাগ, শহীদ সরওয়ারার্দী হাসপাতাল।
চেম্বারঃ ডা. জাহেদ’স অ্যান্ড হেয়ার স্কিনিক হাসপাতাল। সাবামুন টাওয়ার বিল্ডিংয়ে গ্রীন রোড, পান্থপথ মোড়, পুলিশ বক্সের পাশে ঢাকা।
০১৫৬৭-৮৪-৫৪-১৯, ০১৭৩০-৭১-৬০-৬০

monarchmart
monarchmart