ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

ওয়াশিংটনের চিঠি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বাণিজ্য সচিব

বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:২৮, ১ ডিসেম্বর ২০২৩

বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি

বাংলাদেশকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি

বাংলাদেশকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। তিনি জানান, বিগত ১০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে অনেক বেশি যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, দেশটিতে ১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করতে হয়। কাজেই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, আগামী নির্বাচনের সঙ্গে এই চিঠির সম্পর্ক নেই। এ চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা সরকার কোনো চাপ অনুভব করছে না। আমরা প্রতিনিয়ত এসব নিয়ে কাজ করছি। বৃহস্পতিবার সচিবালায় নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এদেশের সমাজ ব্যবস্থা অনেক উন্মুক্ত। এখানে গণতন্ত্রের চর্চা আছে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ কারণে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আছে বলে মনে করি না। বরং অনেক দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য করে, যেখানে গণতন্ত্র নেই। এমন দেশও আছে যেখানে একদলীয় শাসন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নেই।

তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি অনেক কমেছে- এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বাণিজ্য সচিব জানান, রপ্তানি আদেশ কমেছে বৈশ্বিক অন্য পরিস্থিতির কারণে। রপ্তানিটা হয় ইইউর ২৭ দেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে। তার মানে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় গত দেড়-দুই বছরে অনেক মুদ্রাস্ফীতি ছিল। যখন মুদ্রাস্ফীতি থাকে, তখন পোশাক কেনার চাহিদাও কমে যায়। এজন্য রপ্তানি কমেছে।
সামনে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে বাণিজ্য সচিব আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। এখানে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সবকিছু হয়। তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ওয়াশিংটন থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কিছু পর্যবেক্ষণের (অবজারভেশন) কথা রয়েছে। ইইউ ও আইএলওর বাংলাদেশের শ্রম আইন নিয়ে কিছু কথা আছে।

আমরা সেটা উন্নত করার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি এ চিঠি নতুন কিছু না। মার্কিন এ নীতি সব দেশের জন্যই। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শ্রমনীতিতে বাংলাদেশ নিয়েও কথা আছে। এটিকে ধরে ওয়াশিংটন থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, এ ছাড়াও সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখেছি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি সমঝোতায় সই করেছেন।
যেখানে বিশ্বজুড়ে শ্রম অধিকার বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। এটা সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য। আমরা কিন্তু অনেক বছর ধরে এসব ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর সঙ্গে কাজ করছি। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আমাদের মধ্যে মতবিনিময় ও বৈঠক হয়। গত নভেম্বরে ইইউর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। এছাড়া গত ২০ সেপ্টেম্বর টিকফার বৈঠক হয়েছিল। কাজেই বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কিছু বক্তব্য আছে। আমরা সেটা উন্নত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, ২০১০ সাল থেকে আমাদের শ্রম আইন চারবার সংশোধন করা হয়েছে। গত মাসেও শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত একটা উন্নত ব্যবস্থাপনার দিকে যাচ্ছি। শ্রমিকদের সংগঠন করার বিষয়টি সহজ করে দেওয়া হয়েছে। আইএলওর সঙ্গে বসে একটি এসওপি তৈরি করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়। সেখানে নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যে এতদিনের মধ্যে নিবন্ধন দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই শ্রমনীতি নতুন কিছু না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, তারা সব দেশকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
শ্রমনীতি নিয়ে জো বাইডেনের সমঝোতার সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তপন কান্তি ঘোষ বলেন, এটা কেবল বাংলাদেশের জন্যই না। মার্কিন প্রশাসন দেখতে চায়, বিভিন্ন দেশের শ্রম অধিকার পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে কিনা। বাংলাদেশ যেমন আইএলও’র সদস্য, ইইউর বিভিন্ন দেশও সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র আইএলও’র সদস্য। মান নির্ধারণের সংস্থা হচ্ছে আইএলও। কাজেই তারা যদি বলে, শ্রম অধিকার এভাবে থাকতে হবে বা দেশের আইন-কানুনও আইএলওর কনভেনশনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে, আমরা সেটা নিয়েও কাজ করছি। এক্ষেত্রে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সহযোগিতা করে আসছে।
কল্পনা আক্তারকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা শ্রম মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এটা নিয়ে তারা কাজ করবেন। যারা ট্রেড ইউনিয়ন করে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ যাতে কাজ না করেন, এটাই তাদের আর্জি। এখন অনেক শ্রম সংগঠন রয়েছে। আমরাও চাই, শ্রম সংগঠনগুলো যাতে অব্যাহত কাজ করতে পারে।
বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা উদ্বেগ কাজ করছে। এ বিষয়টি পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করলে সচিব বলেন, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশে আছে বলে আমি মনে করি না। আর বাণিজ্যক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ বিশেষ কোনো সুবিধা পায় না। যেটা ইইউতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাই।

×