ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

অর্থনীতি

ডলারের দাম ১০২ টাকার বেশি

প্রকাশিত: ১৯:৩৩, ১৭ মে ২০২২

ডলারের দাম ১০২ টাকার বেশি

অনলাইন রিপোর্টার ॥ দিন যত যাচ্ছে, ডলারের দাম ততই বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে খোলাবাজারে ১৩-১৪ টাকা বেশি দামে ডলার বেচাকেনা হচ্ছে। ব্যাংকগুলোতে ৭-৮ টাকা বেশি দামে বেচাকেনা হচ্ছে ডলার। ডলারের বাজার কবে স্থিতিশীল হবে, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। মঙ্গলবার (১৭ মে) রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা ও ব্যাংকারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বশেষ গতকাল সোমবার ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা পুনঃনির্ধারণ করেছে। এর এক দিনের মাথায় খোলা বাজারে ডলারের দাম ১০২ টাকা অতিক্রম করেছে। ডলারের দাম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কেনাবেচা হয়েছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায়, যা ৯ জানুয়ারি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ টাকা। গত ২৩ মার্চ ৮৬ টাকা ২০ পয়সায় ডলার বেচাকেনা হয়। গত ২৭ এপ্রিল ডলারের দাম ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা হয়। ১০ মে ডলার প্রতি আরও ২৫ পয়সা দাম বেড়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা হয়। গতকাল ১৬ মে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে এক সপ্তাহের ব্যবাধনে ডলারের দাম ১ টাকা ৫ পয়সা বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা। ৫ বছর আগে ২০১৭ সালের মে মাসে ডলারের বাজারে বেশ অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল। ওই বছরের ২ মে ডলারের দাম ছিল ৮০ টাকা ৩৫ পয়সা। এক দিন পরেই তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮০ টাকা ৪০ পয়সা। এভাবে এক দিন পরপর ডলারের দাম বাড়তে দেখা গেছে। ওই মাসে আবার বেশ কয়েক দফা ডলারের দাম কমেছেও। ওঠানামার পর ওই বছর ৩১ মে ডলারের দাম হয় ৮০ টাকা ৫৭ পয়সা। ১০ বছর আগে ২০১২ সালে মে মাসেও ডলারের বাজার উত্তাল ছিল। ওই বছরের মে মাসের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ৮১ টাকা ৮৫ পয়সা। সারা মাস ওঠানামার পর ৩১ মে ডলার ৮১ টাকা ৯৪ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছিল। মানি এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা ও ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, দেশে যে হারে পণ্য আমদানি হচ্ছে, তার ব্যয় পরিশোধ করতে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। আমদানির সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানি আয় সেভাবে বাড়েনি। এতে বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে খুব বেশি গতি আসছে না। আগের চেয়ে রেমিট্যান্স আহরণ কম। তাই, ডলারের চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়ছে। দিন দিন ডলারের বাজার অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। তবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণ করে দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোর কাছে চাহিদার বিপরীতে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমছে। তবু, ডলারের বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না, উল্টো দাম বাড়ছে। ডলারের বাজার কবে স্থিতিশীল হবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেছেন, ‘আমদানি দায় ডলারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় যেভাবে বাড়ার কথা ছিল, সেভাবে বাড়ছে না। আমদানি-রপ্তানির মধ্যে যে ঘাটতি আছে, তা পূরণের চেষ্টা করতে হবে। তাছাড়া, আমরা রেমিট্যান্স আহরণ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছি। রেমিট্যান্স আহরণ বাড়লে ডলারের জোগান দেওয়া সম্ভব হবে।’