শুক্রবার ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ জুলাই ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

লামায় চার স্কুলের ৮শ’ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, ২৪ অক্টোবর ॥ আছে শিক্ষক, আছে শিক্ষার্থী, অপ্রতুল হলেও আছে অবকাঠামোগত সুবিধা। শুধু নেই, শিক্ষকদের বেতন ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা। এ নিয়ে চরম হতাশাগ্রস্ত শিক্ষকেরা বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ী এলাকার চারটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আট শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন।

জানা গেছে, নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলের শিশুদের জন্য এ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া আশপাশের পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। প্রতিবছর সরকারীভাবে বিনামূল্যে বই ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধাই পাচ্ছে না বিদ্যালয়গুলো। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও তিন ইউনিয়নবাসী। অভিভাবক আলী হোসেন ও সৈয়দ বলেন, শিক্ষকরা আর বিনা বেতনে ছেলে মেয়েদের পড়াতে চাচ্ছেন না। তারা চলে গেলে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়ে কাজে লাগিয়ে দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। এই বিষয়ে আমরা পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

জানা যায়, লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় বিদ্যালয়বিহীন পাড়া ও গ্রামের কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতের জন্য স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অধিবাসীরা নিজেদের অর্থায়নে চারটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, দীর্ঘদিনেও সরকারীকরণ না হওয়ায় বর্তমানে শিক্ষকরা চাকরি না করার মতো পরিস্থিতি হওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন। মিরিঞ্জা বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র মেন্নাই মুরুং জানায়, আমার বাবা গরিব, জুম চাষ করে কোনমতে সংসার চালান। অন্য বিদ্যালয়ের যারা পড়ালেখা করা তারা সবাই উপবৃত্তি পায়, আমরা পাই না। তাই মাঝে মধ্যে লেখাপড়া খরচ চালাতে বাবার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। আরও জানা গেছে, ২০০১ সালে লামা পৌরসভার নুনারঝিরি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০০০ সালে লামা সদর ইউনিয়নের মিরিঞ্জা বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯৯৮ সালে সরই ইউনিয়নের ধুইল্যা পাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২০১১ সালে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কমিউনিটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যেসব এলাকায় বিদ্যালয়গুলোর অবস্থান, সেসব এলাকার মানুষগুলো একেবারেই হতদরিদ্র। এ চারটি বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছে। বিদ্যালয়ে কর্মরত আছে ১৬ শিক্ষক-শিক্ষিকা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিনা বেতনে পাঠদান করা শিক্ষকরা বর্তমানে মানবেতর দিন যাপন করছেন। ধুইল্যাপাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়গুলো সরকারী না হওয়ায় আমরা যেমন মানবেতর জীবনযাপন করছি, তেমনি ছাত্র-ছাত্রীরাও দিন দিন ঝরে পড়ছে। কমিউনিটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সোবাহান বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদান দিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, পিছিয়ে পড়া পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়ের শিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য এই চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সহায়তা দিয়ে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন।

শীর্ষ সংবাদ:
চলে গেলেন দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন         বিনিয়োগে রুট বদল ॥ করোনা মহামারীর ধাক্কা         দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে ॥ প্রধানমন্ত্রী         রিজেন্টের আইটি প্রধান গ্রেফতার, আটক সাহেদের ভায়রা         স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চলবে         এই প্রথম সুস্থতার হার শনাক্তের চেয়ে বেশি         পাপুল কুয়েতের নাগরিকত্ব পাননি         তিন মাসের জন্য রোমে নিষিদ্ধ বাংলাদেশী যাত্রী ও ফ্লাইট         দীর্ঘমেয়াদী বন্যার শঙ্কা         বর্ষায়ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী         এখন ফখরুল ও পুরো বিএনপি হোম আইসোলেশনে         শিক্ষার্থীদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেট দিতে হবে         ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারী প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের গাড়ি কেনা বন্ধ         আধিপত্য ও চাঁদাবাজির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় রক্ত ঝরছে পাহাড়ে         কেন্দ্রীয় ব্যাংক গবর্নরের বয়সসীমা বাড়ল দু’বছর         চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ছাড়াল ১১ হাজার         ১৪ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর         করোনা: শনাক্তের তুলনায় সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে         ক্ষুধায় প্রতিদিন ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে : অক্সফাম         গরুর ধাক্কায় আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বিকল        
//--BID Records