বুধবার ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার খোঁয়াড়

খোঁয়াড় জমির ফসল অথবা বসতবাড়ির বাগান বিনষ্টকারী গবাদিপশু আটক রাখার গারদ বিশেষ। ফসল বিনাশ করার আশঙ্কা রয়েছে এমন অবাধ বিচরণকারী গবাদিপশুও খোঁয়াড়ে আটক রাখা হতো। গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান ‘খোঁয়াড়’ ফার্সি শব্দ। এর অর্থ ইতস্তত বিচরণশীল উচ্ছৃঙ্খল গবাদিপশু। বিশ শতকের চল্লিশের দশক অবধি সাধারণত গ্রামবাংলায় গ্রামীণ সমাজ কর্তৃক এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো।

মুঘল আমলে যখন সরকারী আয়ের প্রধান উৎস ছিল কৃষি, তখন জমির ফসল রক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ সময়ের অর্থনীতিতে গবাদিপশুর ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং জমিদারদের অনুমতি নিয়ে প্রায় প্রত্যেক গ্রামেই খোঁয়াড় ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এর উদ্দেশ্য ছিল গবাদিপশুর কবল থেকে জমির ফসল ও বসতবাড়ির বাগান রক্ষা করা। খোঁয়াড় ব্যবস্থায় গবাদিপশু কর্তৃক ফসল হানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট গবাদিপশু খোঁয়াড়ে আটক রাখতে পারতেন। এক্ষেত্রে যতদিন গবাদিপশুর মালিক ফসলের ক্ষতিপূরণ না দিতেন ততদিন ওই গবাদিপশু খোঁয়াড়ে আটক রাখা হতো। খোঁয়াড়ের ব্যবস্থাপক খোঁয়াড়ে আটক গবাদিপশু ফিরিয়ে নেয়ার জন্য পশুর মালিককে খবর পাঠাতেন। গ্রামের মাতব্বর শ্রেণীর প্রবীণ ব্যক্তিদের দ্বারা ধার্যকৃত জরিমানা প্রদান করে মালিক তার গবাদিপশু ছাড় করে নিতে পারতেন। গবাদিপশু কর্তৃক শস্যক্ষেত্র এবং বসতবাড়ির বাগান বিনাশ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে খোঁয়াড় পদ্ধতি ছিল একটি মোক্ষম প্রতিরোধ ব্যবস্থা। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি খোঁয়াড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হতো। জরিমানার অর্থে খোঁয়াড়ের ব্যয় নির্বাহ করা হতো। এ ছাড়াও যে কৃষক তার গবাদিপশুকে আর্থিক বা অন্য কোনো কারণে খাবার দিতে সক্ষম ছিল না, সেক্ষেত্রে খোঁয়াড়ে সে সব পশুর খাবারের ব্যবস্থা করা হতো।

অন্যদিকে পশুর মালিক গ্রাম থেকে দূরে কোথাও গেলে তাদের গবাদিপশু খোঁয়াড় কমিটির তত্ত্বাবধানে রেখে যেতে পারতেন। গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে খোঁয়াড়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গবাদিপশু চুরি বা ফসল নষ্টের মতো কিছু অপরাধকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। গ্রামের চৌকিদার খোঁয়াড় কমিটির সদস্য থাকত। তবে কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে এ ব্যবস্থা অনেকটা বিলুপ্তির পথে।

-মাজহার মান্না, কিশোরগঞ্জ থেকে

শীর্ষ সংবাদ:
স্বপ্ন পূরণে ভাগ্য বদল ॥ পদ্মা সেতু নামেই ২৫ জুন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী         রোহিঙ্গারা অপরাধে জড়াচ্ছে প্রত্যাবাসন অনিশ্চয়তায়         ১৩৫ বিলাসবহুল পণ্যে ২০ ভাগ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ         আমি ত্রাস সঞ্চারি ভুবনে সহসা সঞ্চারি ভূমিকম্প...         দিনের ভোট দিনেই হবে, রাতে হবে না ॥ সিইসি         সম্রাটকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠালেন আদালত         হাতিরঝিলের পানির ক্ষতি করা যাবে না ॥ হাইকোর্ট         এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে লড়ছে দুদল         মাঙ্কিপক্সের প্রবেশ রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে         ঢাবিতে ছাত্রলীগ ছাত্রদল সংঘর্ষ ॥ আহত ৩০         জামায়াতের সঙ্গেও সংলাপে বসবে বিএনপি ॥ ফখরুল         সিলেটে বন্যার পানি নামছে ধীরে, নানা সঙ্কট         জলাবদ্ধতা থেকে এবারের বর্ষায়ও মুক্তি মিলছে না চট্টগ্রামবাসীর         শেখ হাসিনা সরকার পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে ॥ কাদের         প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গারা দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে : প্রধানমন্ত্রী         হাতিরঝিলে স্থাপনা উচ্ছেদসহ ওয়াটার ট্যাক্সি নিষিদ্ধে রায় প্রকাশ         মাদকাসক্ত সন্তানকে গ্রেফতারে বাবা-মা আসেন ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         নিয়মানুযায়ী দিনের ভোট দিনেই হবে ॥ সিইসি         রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনই স্থায়ী সমাধান         ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন