ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

জিন বিন্যাস উন্মোচন

ক্যান্সার নিরাময়ের গোপন রহস্য শ্বেত হাঙ্গরে

প্রকাশিত: ০৮:৩৪, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

  ক্যান্সার নিরাময়ের  গোপন রহস্য  শ্বেত হাঙ্গরে

গ্রেট হোয়াইট শার্ক বা শ্বেত হাঙ্গরের জিন বিন্যাস উন্মোচন করেছেন একদল মার্কিন বিজ্ঞানী। সাড়ে চার কোটি বছর আগে পৃথিবীতে আসা এই বৃহদাকার প্রাণীটি ক্যান্সার ও বার্ধক্যজনিত রোগ নিরাময়ের গোপন রহস্য ধারণ করে রেখেছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এই শ্বেত হাঙ্গরের জিন বিন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর এটির ডিএনএ গঠনের স্থায়ী পরিবর্তন বা মিউটেশনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য সামনে এসেছে। প্রাণীটি তার আলাদা ধরনের ডিএনএ গঠনের কারণে ক্যান্সার ও বয়সজনিত রোগ থেকে রক্ষা পায়। তাছাড়া এটির দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা ও অনন্য সাধারণ ঘ্রাণ শক্তির বিষয়টিও জানা গেছে। হাঙ্গরের এই জিন বিন্যাস উন্মোচনে প্রাপ্ত ফলে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তারা মনে করছেন এ ফল মানুষের বার্ধক্যজনিত রোগ ও ক্যান্সার নিরাময়ে কাজে লাগবে। সেভ আওয়ার সিজ শার্ক রিসার্চ সেন্টারের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নোভা সাউথ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক গবেষণাটি পরিচালনা করেন। এ গবেষণা দলের সহ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডক্টর মাহমুদ শিভজি। তিনি বলেন, এই জাতীয় বড় শ্বেত হাঙ্গর নিজে থেকেই তাদের ডিএনএ মেরামতের ক্ষমতা রাখে। এতদিন তা আমাদের জানা ছিল না। তিনি বলেন, মানুষের শরীরের কিছু পরিবর্তনশীল জিন তাদের বয়সজনিত রোগ ও ক্যান্সারের দিকে ধাবিত করে। তবে হাঙ্গরের ক্ষেত্রে ঘটনাটি ব্যতিক্রম। ডক্টর মাহমুদ শিভজি বলেন, এসব তথ্য থেকে ক্যান্সার এবং বার্ধক্যের বিভিন্ন রোগ কিভাবে প্রতিরোধ করা যেতে পারে তা যেমন জানা যাবে, তেমনি ক্ষত নিরাময়ের কৌশলও পাওয়া যাবে। বিজ্ঞানীরা হাঙ্গরের ডিএনএতে সংরক্ষিত আরও তথ্য বা কোড উন্মোচনের চেষ্টা করছেন। হাঙ্গর তার সমস্যার সমাধান কিভাবে করছে এসবের সকল কোর্ড উন্মোচিত হলে তা মানুষের কাজে লাগানো যাবে। এ গবেষণার বিস্তারিত পিএনএএস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। -কসমস অনলাইন অবলম্বনে