ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

ঝাউবনে তিন রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণ ঘটনায় তোলপাড়

প্রকাশিত: ০৩:৩৪, ৩০ আগস্ট ২০১৮

ঝাউবনে তিন রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণ ঘটনায় তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে ঝাউবাগানে দুই কিশোরীসহ তিন রোহিঙ্গা নারী ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে জেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে। টেকনাফের পুলিশ ধর্ষণ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে পরিচিত বাহারছড়া উত্তর শীলখালীর সিএনজি ট্যাক্সি চালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে গ্রেফতারও করেছে। বুধবার কক্সবাজারের বিচারিক আদালতের এক বিচারকের নিকট স্বেচ্ছায় দেয়া জবানবন্দীতে ধর্ষণের বিস্তারিত ঘটনা প্রকাশ করেছে রোহিঙ্গা কিশোরীরা। জানা যায়, তিন রোহিঙ্গা নারীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে। টেকনাফ থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া ঘটনার বিষয়ে জানিয়েছেন, তিন রোহিঙ্গা কিশোরীকে কুরবানীর ঈদের দাওয়াত খেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তের দল তাদের ধর্ষণ করেছে। তবে স্থানীয়রা এ বিষয়টিকে ঘিরে নানা মূখরোচক আলোচনা ও বিভিন্ন কানাঘুষা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, ঈদের পরের দিন গত ২৩ আগষ্ট রাতে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবী করেছে রোহিঙ্গা নারীরা। তাও রাতের বেলায় উত্তর শীলখালী সৈকতের ঝাউবাগানে। তন্মধ্যে এক নারী উখিয়া থাইনখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশ্রিত। অপর দুইজন টেকনাফ শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিত। স্থানীয়রা বলেন, ওই নারীরা কি উদ্দেশে সিএনজি চালকের সঙ্গে গেছে? তারা ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার সময় ক্যাম্প ইনচার্জের অনুমতি নিয়েছে কিনা। ঘটনার পর কাউকে না জানিয়ে এক সপ্তাহ পর কেনইবা আদালতের আশ্রয় নিয়েছে। এটি কোন ষড়যন্ত্র কিনা, হয়ত নগদ টাকার লোভে নতুবা বাংলাদেশী যুবক বিয়ে করে এখানে স্থায়ী হওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ওই রোহিঙ্গা নারীরা ক্যাম্প ত্যাগ করে বেড়াতে গেছে। এসব বিষয় তদন্তের দাবী করেছে স্থানীয়রা। রোহিঙ্গা নারী (বাদী) জানায়, টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানের কারনে পার্শ্ববর্তী গ্রাম উত্তর শীলখালীর সিএনজি ট্যাক্সি চালক আবদুল্লাহর সঙ্গে তার সখ্য গড়ে উঠে। সম্পর্কের জের ধরে ট্যাক্সি চালক আবদুল্লাহ ঈদের পরের দিন তিন কিশোরীকে ট্যাক্সিতে করে তার বোনের ঘরে দাওয়াতে নিয়ে যায়। খাওয়া দাওয়া শেষে রাতেই শিবিরে পৌঁছে দিতে ট্যাক্সিতে তুলে কিশোরীদের। সঙ্গে নিয়ে যায় তার ভগ্নিপতি শাহ আলম এবং একই গ্রামের মোহাম্মদ সেলিমকে। দুর্বৃত্তরা ট্যাক্সি থেকে তিন রোহিঙ্গা কিশোরীকে নামিয়ে দুইজনকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন পশ্চিমে ঝাউবনে এবং অপরজনকে সড়কের পূর্ব দিকের ঝাউবনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।