ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

মৌমাছি থেরাপিতে মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৫:০৭, ২৭ মার্চ ২০১৮

মৌমাছি থেরাপিতে মৃত্যু

জীবন্ত মৌমাছির কামড়ের মাধ্যমে আকুপাংচার চিকিৎসায় এ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ায় স্পেনের ৫৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে। বিকল্প থেরাপি কিভাবে অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে এ ঘটনা তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আর্থ্রাইটিস থেকে শুরু করে ক্যান্সার পর্যন্ত বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে এ চিকিৎসায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাতকারে চিকিৎসা প্রক্রিয়ার এ ব্যাপারটি জানিয়েছিলেন মৌমাছি আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ওয়াং মেনগ্লিন। বেশকিছু রোগ নিরাময়ে এই পদ্ধতিতে সুস্থতা পাওয়া যায় বলা হলেও এর স্বপক্ষে খুব সামান্যই প্রমাণ রয়েছে। চীন এবং কোরিয়াতে এই চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলেও, অন্যান্য দেশেও তা ছড়িয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে স্পেনের রামন এবং কাজাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বিষয়টি জানা গেছে এবং এই চর্চা অন্যদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই উঠে এসেছে। ওই নারী দুই বছর ধরে জীবন্ত মৌমাছির কামড়ের আকুপাংচার চিকিৎসা (এ্যাপিথেরাপি) গ্রহণ করতেন, মাসে একবার মৌমাছির কামড় নিতেন। গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ওই নারী পেশিবহুল সুঠাম শরীর পেতে এবং স্ট্রেসমুক্ত থাকতে এ্যাপিথেরাপি চিকিৎসা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার অন্য কোন রোগ কিংবা স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টির মতো কোন মেডিক্যাল রেকর্ড ছিল না।’ তিনি এ্যাপিথেরাপির এক সেশনে মৌমাছির কামড় শরীরে নেয়ার পর হঠাৎ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে তৎক্ষণাৎ জ্ঞান হারান। গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এ্যালার্জির পুনরাবৃত্তি ঘটে থাকতে পারে- এক্ষেত্রে মৌমাছির বিষ সাধারণত যা প্রত্যাশা করা হয় তার চেয়ে তীব্র এ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ায় বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এ্যাপিথেরাপির জনপ্রিয়তা যদিও দিন দিন বেড়ে চলেছে কিন্তু মেডিক্যাল চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই থেরাপি কার্যকর হওয়ার খুব কম প্রমাণ দিতে পেরেছে এবং এই থেরাপি থেকে এ ধরনের নেতিবাচক ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৫ সালে পিএলওএস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক স্যালাইন ইনজেকশনের তুলনায় মৌমাছির বিষ আকুপাংচার দেখিয়েছে যে, এতে প্রতিকূল ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি ২৬৩ শতাংশ বেড়েছে। -সায়েন্স এ্যালার্ট
monarchmart
monarchmart