ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জুবায়ের বারি

আলোর দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে রাত!

প্রকাশিত: ০৬:৫৯, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭

আলোর দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে রাত!

রাতের পৃথিবীর ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রত্যেক বছরে কৃত্রিম আলো তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত রাতের বেলায় তোলা এই গ্রহটির ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কৃত্রিম আলো প্রত্যেক বছরে দুই শতাংশেরও বেশি করে বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর ফলে অনেক দেশেই রাতের অন্ধকার কমে যাচ্ছে যার প্রভাব পড়ছে গাছপালা, পশুপাখি অর্থাৎ পরিবেশ, এমনকি মানুষের উপরেও। তারা এটিকে আলোর দূষণ বলেও উল্লেখ করছেন। এই গবেষণায় রাতের পৃথিবীর যেসব ছবি ও তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে নাসার একটি স্যাটেলাইট থেকে। রাতের আলোর দৈর্ঘ্য যদি কমে যায় তার ওপর ভিত্তি করে গাছপালার ফুল ফোটার সময় এবং ঋতুর ধরনেও একটা পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে নিশাচর প্রাণীর জীবন যাপনের উপরেও। রাতের আলোর উজ্জ্বলতা মেপে দেখার জন্যেই ওই স্যাটেলাইটে রেডিওমিটার নামে বিশেষ একটি যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। তবে আলোর এই উজ্জ্বলতা যে সব দেশে সমানভাবে তীব্র তা নয়। একেক দেশে একেক রকমের। যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনে আলোর তীব্রতা ততটা বাড়েনি। তবে বেশি তীব্র হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং এশিয়াতে। আবার কোন কোন দেশে এই উজ্জ্বলতা কমেছে। যেমন- ইয়েমেন, সিরিয়া- দুটো দেশই যুদ্ধে প্রায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। রাতের বেলায় স্যাটেলাইট থেকে তোলা এসব ছবি দেখতে খুবই সুন্দর লাগে- যেমন ধরুন রাতের উপকূল বা সমুদ্র সৈকতের ছবি কিংবা মাকড়সার জালের মতো এলোমেলো শহরের রাস্তাঘাট, বাতি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ওপর এই কৃত্রিম আলোর নেতিবাচক কিছু প্রভাব রয়েছে। এর প্রধান গবেষক ক্রিস্টোফার কিবা বলেছেন, পরিবেশে মানুষ যত পরিবর্তন ঘটিয়েছে, তার মধ্যে রাতের বেলায় কৃত্রিম আলোর এই ব্যবহার সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং জার্মানির মতো ধনী দেশগুলোতে কৃত্রিম আলোর তীব্রতা হ্রাস পাবে। কিন্তু আমরা দেখছি, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা একই রকমের আছে এবং ব্রিটেন ও জার্মানিতে এই আলো আগের চেয়ে আরও বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে।’ দিনের আলো ও রাতের অন্ধকারের দৈর্ঘ্যরে ওপর ভিত্তি করে গাছপালাকে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি শর্ট ডে গাছ এবং অন্যটি লং ডে গাছ। সূত্র : বিবিসি