ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

মোস্তাফা জব্বার

একুশ শতক ॥ স্কুলব্যাগের চাপে সন্তান হারানো নয়

প্রকাশিত: ০৩:৪৫, ২৯ জানুয়ারি ২০১৭

একুশ শতক ॥ স্কুলব্যাগের চাপে সন্তান হারানো নয়

॥ দুই ॥ প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে আমরা কি স্কুল ব্যাগটা গায়েব করার মতো অবস্থায় রয়েছি? বিষয়টি আমার মাথায় বহুদিন যাবত কাজ করছে বলে এর পরীক্ষা করার বিষয়টাও আমার মাথায় ছিল। ২০০০ সাল থেকেই আমি স্কুলের ক্লাসরুমে কম্পিউটার দিতে শুরু করি। তবে সেই সময়ে আমাদের দেশীয় উপাত্ত বা বাংলা ভাষার উপাত্ত না থাকার ফলে ক্লাসরুমে কম্পিউটার কোন ঢেউ তুলতে পারেনি। বাধ্য হয়েই আমাকে কনটেন্ট তৈরিতে মনোযোগী হতে হয়েছে। ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ আমি দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত কনটেন্ট তৈরি করতে পারায় ক্লাসরুমে কেবল কম্পিউটার বা প্রজেক্টর নয়, ছাত্রছাত্রীদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস প্রদান করি। আমি সেজন্য ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনার পূর্বধলার আরবান একাডেমির প্রথম শ্রেণীর ৩৯ শিশুর হাতে আট ইঞ্চি আকারের ৫০০ গ্রাম ওজনের ট্যাব তুলে দিয়েছি। ওরা তাদের পাঠ্যবই সেই ট্যাবেই পায়। স্কুল ব্যাগটাতে ভারি ওজনের বই তাদের বহন করতে হয় না। ২০১৬ সালের নবেম্বরে আমরা স্কুলটির কর্তৃপক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন পেলাম। সেটি থেকে ধারণা নেয়া যেতে পারে যে, আমরা ব্যাগ ও কাগজবিহীন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে পারছি কিনা। “প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক শিক্ষায় জ্ঞানসমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে ২০১১ সালে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় সম্পূর্ণ বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরবান একাডেমি। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে শুরু থেকেই আরবান একাডেমি সরকার নির্ধারিত কারিকুলামের পাশাপাশি প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক শিক্ষার বিভিন্ন উপকরণ, যেমন প্রজেক্টর ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট ব্যবহার করে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রাথমিক শিক্ষায় পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ হিসেবে বিজয় ডিজিটালের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও কারিগরি সহায়তায় আরবান একাডেমি ২০১৬ শিক্ষা বর্ষের প্রথম শ্রেণীর ৪০ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয় শিক্ষার অন্যতম আধুনিক উপকরণ মিনি ল্যাপটপ বা ট্যাব। প্রথম শ্রেণীতে বিজয় ডিজিটালের বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট বিজয় প্রাথমিক শিক্ষা-১ এর সহায়তায় ক্লাস পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ক্লাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে রয়েছে কনটেন্টসমৃদ্ধ মিনি ল্যাপটপ ও কনটেন্ট উপস্থাপনায় শ্রেণী কক্ষে শিক্ষকের জন্য রয়েছে বৃহৎ আকারের ৪০ ইঞ্চি মনিটর। প্রাথমিক শিক্ষায় পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্লাসরুম : আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রচলিত ও গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ভিন্ন আঙ্গিকে এটা বাস্তবায়ন যেমন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্দোলিত এবং উৎসাহিত করে, ঠিক তেমনি এর সফল বাস্তবায়নেও রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। আরবান একাডেমির প্রথম শ্রেণীর ডিজিটাল ক্লাস পরিচালনার ফলে সবল দিক ও চ্যালেঞ্জসমূহ পর্যালোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নি¤েœ উপস্থাপন করা হলো। ডিজিটাল শিক্ষার ইতিবাচক দিক : আরবান একাডেমি নিজস্ব উদ্যোগে প্রথম শ্রেণীতে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্লাস চালুর ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বেশকিছু সুবিধার ক্ষেত্র তৈরি হয় যা শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডিজিটাল ক্লাস পরিচালনার অভিজ্ঞতায় বিভিন্ন পর্যায়ে এর সবল দিকসমূহ নি¤েœ উপস্থাপন করা হলো। ক. শিক্ষার্থী পর্যায়ে : ১. অডিও এবং ভিডিও কার্টুন/এ্যানিমেশনসমৃদ্ধ কনটেন্টের সহায়তায় পাঠ উপস্থাপনের ফলে প্রত্যেকটি ক্লাস শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় হয়, যাতে করে শিক্ষার্থীরা পাঠে অধিকতর মনোযোগী হচ্ছে। ২. নানান ধরনের মজাদার কনটেন্টের সহায়তায় পাঠ উপস্থাপন করায় ডিজিটাল ক্লাসে উপস্থিতি সাধারণ ক্লাসের চেয়ে অনেক বেশি হয়। ৩. শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রাথমিক পর্যায়ের সাধারণ উপকরণ বিষয়ে ধারণা ও ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করতে পারছে। ৪. প্রাথমিক স্তরেই শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ভীতি কমে যাচ্ছে। ৫. সহজেই শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি বিষয়ক নিত্যনতুন ধারণা লাভ করতে পারছে। ৬. সহজবোধ্য কনটেন্টের সহায়তায় শিক্ষার্থীরা অল্প সময়েই পাঠ আয়ত্ত করতে পারে। ৭. শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে শ্রেণী কক্ষে সকল সময় এক আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করে। ৮. শিক্ষার্থীদের সহজেই বাড়ির কাজ, সুন্দর হাতের লেখা ও অন্যান্য সহপাঠ ক্রমিক কাজে উদ্বুদ্ধ করা যায়। ৯. সহজেই শিক্ষক শ্রেণীকক্ষের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারেন। ১০. স্বল্প সময়েই শিক্ষার্থীদের বর্ণ ও শব্দের সঠিক উচ্চারণ এবং শুদ্ধ ভাষায় কথা বলানো শেখানো যায়। ১১. শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। ১২. সমভাবে ও অল্পসময়ে পাঠ/বিষয়বস্তু সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে যায়। ১৩. শিক্ষার্থীরা নিজেদের মূল্যায়ন নিজেরাই করতে পারে। ১৪. শিক্ষার্থীরা ভিশনারী হচ্ছে। ১৫. সাধারণ ও সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের শিক্ষার্থীরা অধিকতর মানসম্পন্ন শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে। ১৬. সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অল্প সময়ে জড়তাহীনভাবে পাঠ গ্রহণে মনোযোগী হচ্ছে। ১৭. সকল কারিকুলাম সহজে বহনযোগ্য। ১৮. শ্রেণী উপযোগী প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত শিক্ষামূলক কনটেন্ট সংগ্রহে রাখা যাচ্ছে। ১৯. ছোট ছোট ইংরেজী শব্দ বলার অভ্যাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০. শিক্ষামূলক গেমসের মাধ্যমে মেধাবিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ২১. অপ্রয়োজনীয় ও বিপথগামী হতে পারে এমন গেমস থেকে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে রাখার অভ্যাস গড়ে উঠছে। খ. শিক্ষক পর্যায়ে : ১. শিক্ষক সহজেই বিষয়বস্তু সকল শিক্ষার্থীর কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। ২. শিক্ষকগণ অধিকহারে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে পারেন। ৩. শিক্ষার্থীর মাঝে প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করতে পারেন। ৪. সমভাবে ও অল্প সময়ে পাঠ/বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীর মাঝে পৌঁছানো যায়। ৫. শিক্ষকদের পাঠ উপস্থাপনা সহজতর হয়। ৬. মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট শিক্ষকের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ৭. অল্প সময়ে সকল শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়। ৮. শ্রেণী উপযোগী অতিরিক্ত শিক্ষামূলক কনটেন্ট সংগ্রহে রাখা যায়। ৯. পর্যাপ্ত কো-কারিকুলাম/সহপাঠক্রমিক ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ১০. শিক্ষক শ্রেণী উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন। ১১. সহজেই ক্লাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারেন। ১২. নিত্য নতুন আপডেটেট বিষয়সমূহ সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন। ১৩. শিক্ষক প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রশিক্ষিত করার সুযোগ পান। ১৪. ই-বুক ও ই-কনটেন্ট ব্যবহারে শিক্ষকদের পারদর্শিতা বৃদ্ধি পায়। নিজেরাও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করতে আগ্রহী হন। গ. প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে : ১. প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী নিজ নিজ পাঠে অধিকতর মনোযোগী হচ্ছে। ২. প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা লাভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ৩. প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৫. বিভিন্ন পর্যায়ের পরিদর্শকের আগমনের ফলে নিত্য-নতুন ধারণা লাভের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৬. সংশ্লিষ্টজনদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি অধিকতর আস্থার মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। ৭. প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও কমিউনিটিতে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ৮. আরবান একাডেমিকে সার্বিক বিবেচনায় একটি মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ৯. স্থানীয় কমিউনিটিতে প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১০. প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর পরিসরে বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘ. ডিজিটাল স্কুল পরিচালনার চ্যালেঞ্জসমূহ: দীর্ঘদিন ধরে বই-খাতানির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন বাস্তবিক পক্ষেই কষ্টসাধ্য। আরবান একাডেমি একেবারেই বেসরকারী উদ্যোগে প্রথম শ্রেণীতে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্লাস পরিচালনার অভিজ্ঞতার আলোকে যে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে তা নি¤েœ উপস্থাপন করা হলো। ১. সার্বিক কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন ব্যয়বহুল। ২. ডিজিটাল ক্লাস উপযোগী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সঙ্কট। ৩. ডিজিটাল শিক্ষা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন না থাকায় সমস্যা তৈরি করে। ৪. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সুবিধা না থাকায় উপকরণ ব্যবহারে বিঘœ সৃষ্টি হয়। ৫. প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে অভিভাবক পর্যায়ে সঠিক ধারণার অস্পষ্টতা রয়েছে। ৬. শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল মহলে স্বচ্ছ ধারণা ও দক্ষতার অভাব আছে। ৭. উপকরণ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে নষ্ট হবার ঝুঁকি বেশি থাকে। ৮. শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবান্ধব প্রয়োজনীয় কনটেন্টের অপর্যাপ্ততা রয়েছে। ৯. শিক্ষার্থীদের পারিবারিক পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যথাযথ সহযোগিতা করা হয় না। ১০. ডিজিটাল ক্লাস বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অপর্যাপ্ততা রয়েছে। ১১. সার্বিক বিবেচনায় ডিজিটাল ক্লাসবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। ১২. প্রাথমিক শিক্ষায় তেমনভাবে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত না থাকায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ কম। তবে এই কথাটি মনে রাখা দরকার যে, বিশ্বায়নের বর্তমান এই সময়ে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা বাস্তবায়নে ডিজিটাল ক্লাস পরিচালনা বাস্তবিক পক্ষেই সময় উপযোগী। দেশে সর্বক্ষেত্রে ডিজিটাল সেবার যে প্রসার ও অগ্রগতি তা শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রেও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অবকাঠামোগত সুবিধা ও অন্যান্য প্রস্তুতি বিবেচনায় ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করে সঠিক পথে অগ্রসর হয়ে আরবান একাডেমি কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রথম শ্রেণীর পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্লাসরুম শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় এটা নিঃসন্দেহে এক নব দিগন্তের সূচনা করবে। পূর্বধলার এই অভিজ্ঞতার আরও প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে। চট্টগ্রামের ন্যাশনাল প্রাইমারী স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ১০০ শিশুর হাতেও ট্যাব দেয়া হয়েছে। তবে শিক্ষকরা এর মাধ্যমে তেমন কোন ভাল অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। আমরা সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০টি স্কুলের ৬ হাজার ছাত্রছাত্রীকে ট্যাব দিয়ে ডিজিটাল কনটেন্টে পড়ানোর একটি পাইলট প্রকল্প সরকারের কাছে পেশ করেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত ২০১৭ সালের জানুয়ারি অবধি সেটি ফাইলে বন্দী আছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাগজবিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলগুলোতে ট্যাব দিয়ে শিক্ষা দেবার পাশাপাশি অপরপক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ২০১৭ সালে ষষ্ঠ শ্রেণীর সবার হাতে ট্যাব দেবার ঘোষণা দিয়েছেন। আমি জানি না শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা কবে কিভাবে বাস্তবায়িত হবে। সরকারের এমন কোন প্রচেষ্টার নমুনা আমার হাতে নেই। কোন উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। তবে আমরা প্রত্যাশা করি কাগজ ও ব্যাগবিহীন ডিজিটাল শিক্ষা প্রচলিত শিক্ষাকে সহসাই স্থলাভিষিক্ত করবে। ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ১৭ ॥ লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা ও কর্মসূচীর প্রণেতা ॥ ই-মেইল : [email protected], ওয়েবপেজ :ww w.bijoyekushe.net
×