রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৭.৮ °C
 
২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম প্রাণী

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৫
  • এনামুল হক

পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম প্রাণী কোন্গুলো? যদি শোনেন এমন কোন বাদুরের কথা, যার ওজন একটা পয়সার ওজনের চেয়ে হাল্কা, অথবা যদি শোনেন এমন বানরও আছে, যা আপনার হাতের তালুতে ধারণ করা যায়, তাহলে নিশ্চয়ই সেগুলোকে ক্ষুদ্রতম প্রাণীর তালিকায় ফেলবেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা মাথা নেড়ে বলবেন যে, হতে পারে ওগুলো স্বজাতীয়দের মধ্যে ক্ষুদ্রতম। তাই বলে প্রাণিজগতের মধ্যে ক্ষুদ্রতম নয়। ক্ষুদ্রতম প্রাণীর যথার্থ অর্থ হলো ব্যাকটেরিয়াম বা জীবাণু।

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম প্রাণরূপ এই ব্যাকটেরিয়াম বা জীবাণুর প্রথম ছবি তুলেছেন। সেই ব্যাকটেরিয়াম এতই ক্ষুদ্র যে, দেড় লাখের বেশি ব্যাকটেরিয়ামকে মানুষের মাথার চুলের অগ্রভাগে ধারণ করা যেতে পারে। বলাবাহুল্য ব্যাকটেরিয়াম হলো একবচন শব্দ। এর বহুবচন ব্যাকটেরিয়া।

কিন্তু ব্যাকটেরিয়ামের কথা বাদ দিলে বলা যায় যে, পয়সার ওজনের চেয়ে হাল্কা বাদুর কিংবা হাতের তালুতে ধারণযোগ্য বানরের কথা শুনলে আমরা অবাক না হয়ে পারি না। সেই বাদুরের নাম বাম্বলবি ব্যাট। এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম বাদুর এবং হয়ত বা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ক্ষুদ্রতম। এর ওজন দুই গ্রামেরও কম। অর্থাৎ ১০ সেন্টের একটা মুদ্রার চেয়েও এটি হাল্কা। এই বাদুরকে কিত্তিস হগনোজ ব্যাটও বলে। এদের বাস থাইল্যান্ডে। থাকে চুনাপাথরের গুহায়। ট্যুরিস্টদের উৎপাতে এদের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে।

পিগমি প্রজাপতি

ডানার দৈর্ঘ্য মাত্র শূন্য দশমিক ৫ ইঞ্জি বা ১.৩ সেন্টিমিটার। নাম ওয়েস্টার্ন পিগমি ব্লু। এটাই বিশ্বের ক্ষুদ্রতম প্রজাপতি বলে পরিচিত। ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যাঞ্চল থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল হয়ে দক্ষিণে ভেনিজুয়েলা পর্যন্ত এদের আবাস। এদের শরীর ও ডানার রং তামাটে, যা সূর্যের আলোয় জ্বলজ্বল করে উঠে।

তিন ফুট লম্বা ঘোড়া

আমেরিকান ক্ষুদে ঘোড়াগুলোর কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা ৩৪ ইঞ্চি বা ৮৬ সেন্টিমিটারের বেশি নয়। সপ্তদশ শতকে ইউরোপের অভিজাত পরিবারগুলোর জন্য এ জাতীয় ঘোড়ার প্রজনন করা হয়েছিল। এগুলো আসলে পূর্ণাঙ্গ আকারের ঘোড়ারই ক্ষুদ্র সংস্করণ। তবে ক্ষুদে ঘোড়ার নির্দিষ্ট কোন জাত নেই। আজও কিন্তু বিশেষ কতগুলো কাজে এই ঘোড়াগুলোর বেশ কদর আছে। শান্ত ও সহজে বশ মানে বলে দৃষ্টিহীন এবং বিকলাঙ্গদের সাহায্য করার কাজে এদের চমৎকারভাবে ব্যবহার করা যায়। ট্রেনিং পাওয়ার পর এরা অনেক বেশি শান্ত স্বভাবের হয়ে উঠে।

মাউস লেমুর

লেমুর হলো বানর জাতীয় প্রাণী। আর মাউস লেমুর এদেরই ক্ষুদ্রতম সংস্করণ, আকারে এমন ছোট যে, হাতের তালুতে ধারণ করা যায়। তবে পেশাদার কেউ না হলে সেই চেষ্টা করাই বৃথা। কারণ এরা হিংস্র, ক্ষিপ্র ও সহজেই ক্ষেপে ওঠে। প্রায় এক আউন্স বা ৩০ গ্রাম ওজনের এই মাউস লেমুর বিশ্বের ক্ষুদ্রতম প্রাইমেট বলে বিবেচিত। এদের স্বাভাবিক বাসস্থান মাদাগাস্কায়। এরা একই পরিবেশে হাজারো ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে জীবন ধারণ করে। খাদ্যের জন্য একের সঙ্গে অন্যের সরাসরি প্রতিযোগিতা করতে হয় না। মাথা থেকে শুরু করে লম্বা লেজের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এরা ১১/১২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত গুল্মময় ঝোপঝাড় এদের পছন্দের জায়গা।

বামন হাঙ্গর

ভাবুন তো দেখি এমন হাঙ্গরের কথা, যা আপনার মোবাইল সেটের চেয়ে সামান্য কিছু বড়। হ্যাঁ, তেমনই হাঙ্গর আছে। প্রায় ৭ ইঞ্চি বা ১৭ সেন্টিমিটার লম্বা। এদের শরীর থেকে এক ধরনের দ্যুতি বের হয়। এদের নাম ডোয়ার্ফ ল্যান্টার্ণ শার্ক। এরা পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম হাঙ্গর। এরা কলম্বিয়া ও ভেনিজুয়েলার উপকূলের অদূরবর্তী সমুদ্রের অতি গভীরে থাকেÑ সাগরপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯২৮ থেকে ১৪৪০ ফুট নিচে। সাগরের এত নিচে খাদ্যসম্পদ কম থাকে বলে শিকারিও থাকে কম। কাজেই এরা সেখানে নিরাপদে বিচরণ করতে পারে।

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৫

২৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: