ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

রিপার যন্ত্রে সরিষা কাটায় খরচ কমছে, লাভের হাসি কৃষকের মুখে

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশিত: ১৭:২০, ১৫ মার্চ ২০২৬

রিপার যন্ত্রে সরিষা কাটায় খরচ কমছে, লাভের হাসি কৃষকের মুখে

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দিন দিন বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ কৃষি ব্যবস্থা। একসময় কাঠের লাঙল ও জোয়াল দিয়ে জমি চাষ করা হলেও এখন সেই জায়গা দখল করেছে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার। এতে যেমন সময় বাঁচছে, তেমনি কমছে শ্রম ও খরচ। একইভাবে ফসল কাটার ক্ষেত্রেও শ্রমিকের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক যন্ত্র রিপার, যা কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে আশীর্বাদ।

চলতি মৌসুমে রাণীশংকৈল উপজেলায় ৭ হাজার ১২৫ হেক্টরের বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এত বড় পরিসরে সরিষা চাষ এর আগে কখনো হয়নি। এসব জমির অনেক কৃষক এবার সরিষা কাটতে ব্যবহার করছেন আধুনিক রিপার যন্ত্র। এতে কম সময়ে দ্রুত ফসল কাটা সম্ভব হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্য ভাবে কমছে। উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের কৃষক পয়গাম আলী জানান, আগে এক বিঘা জমির সরিষা কাটতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হতো। এখন রিপার যন্ত্র ব্যবহার করলে বিঘা প্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০০ টাকা।

ফলে প্রতি বিঘায় প্রায় ১ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি বাজার দরও সন্তোষজনক রয়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ সরিষা ২ হাজার ২'শ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভালো ফলনের পাশাপাশি কম খরচে ফসল কাটতে পারায় কৃষকদের লাভের সম্ভাবনাও বেড়েছে। কৃষকরা আরও জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কোনো কোনো জমিতে বিঘা প্রতি প্রায় ৯ মণ পর্যন্ত সরিষার ফলন হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া ৩৭টি রিপার যন্ত্র বিভিন্ন কৃষক গ্রুপের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এসব যন্ত্রের মাধ্যমেই চলতি মৌসুমে সরিষা কাটার কাজ চলছে। এতে দ্রুত ফসল সংগ্রহের পাশাপাশি কৃষকরা একই জমিতে অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন ফসল আবাদ করতে পারছেন।

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, “এবার কৃষকদের সরিষার ফলন ভালো হয়েছে, যা সত্যিই আনন্দের বিষয়। বাজার দরও সন্তোষজনক। রিপার যন্ত্র ব্যবহারের ফলে শ্রমিক সংকট কাটিয়ে দ্রুত ফসল কাটা সম্ভব হচ্ছে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমছে। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

 

রাজু

×