ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর চৌরাস্তায় জিসিসির ১০০ ট্রাফিক স্বেচ্ছাসেবক মহাসড়কে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) এ বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রেখে যানজট কমাতে প্রায় ১০০ জন ট্রাফিক স্বেচ্ছাসেবককে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ গাজীপুর চৌরাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় গাজীপুর চৌরাস্তাসহ আশপাশের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তাই মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যেই ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের মাঠে নামানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন চায় মানুষ যেন স্বস্তিতে ও নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। এজন্য প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সামাজিক সংগঠন মোল্লা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে গাজীপুর চৌরাস্তা, চান্দনা চৌরাস্তা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহনের লেন শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে সহায়তা করবেন।
ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিন ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ঈদ ছুটি শুরু হলে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের সময় বিপুলসংখ্যক যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করে। এতে অনেক সময় যানজট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হওয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সহায়তা পাওয়া যাবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে।
এদিকে ঘরমুখো যাত্রীদের অনেকেই এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। গাজীপুর চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ যাত্রী মো. রাশেদ বলেন, ঈদের সময় এখানে ভয়াবহ যানজট হয়। অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা ধরে বাস দাঁড়িয়ে থাকে। যদি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে করা যায়, তাহলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক আব্দুল কাদের বলেন, সারা বছর কাজ করার পর ঈদের সময় পরিবার নিয়ে গ্রামে যাওয়ার আনন্দটাই আলাদা। কিন্তু রাস্তায় দীর্ঘ যানজটে পড়ে অনেক সময় কষ্ট হয়। যদি সড়ক ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে আমরা দ্রুত বাড়ি পৌঁছাতে পারব।
আরেক যাত্রী শিউলি আক্তার বলেন, ছোট বাচ্চা নিয়ে দূরের পথে যাত্রা করতে হয়। যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে খুব কষ্ট হয়। প্রশাসনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে যাত্রীদের জন্য অনেক স্বস্তি আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, প্রশাসন, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে গাজীপুর চৌরাস্তাসহ আশপাশের সড়কগুলোতে যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। এতে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কে নজরদারি জোরদার করা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাড়ানো এবং চালক ও যাত্রীদের সচেতন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় যানজট কমিয়ে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজু








