ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

মেঘনায় ভাতা কার্ডে ঘুষ ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা,দাউদকান্দি

প্রকাশিত: ২০:৩৭, ১০ মার্চ ২০২৬

মেঘনায় ভাতা কার্ডে ঘুষ ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন দপ্তরে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়ার কথা শোনা গেলেও কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় এখনো ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ থামেনি। সম্প্রতি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন। আবেদন করার কিছুদিন পর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের অফিস সহকারী এমদাদ হোসেন তাঁকে ফোন করে জানান, তাঁর কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এ সময় তিনি কার্ড পেতে হলে দুই হাজার টাকা নিয়ে অফিসে যেতে বলেন। সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি, কিসের টাকা? তখন তিনি বলেন, কার্ডের টাকা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, অফিস সহকারী এমদাদ হোসেন দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রভাব খাটিয়ে একই উপজেলায় কর্মরত আছেন। স্থানীয়ভাবে যে দলই ক্ষমতায় আসে, সেই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা রয়েছে বলেও এলাকাজুড়ে আলোচনা রয়েছে। চাকরির সুবাদে কয়েক বছরের ব্যবধানে কর্মস্থল এলাকায় গাড়ি, আলিশান বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এমদাদ হোসেন। এসব সম্পদের কিছু তাঁর ইউরোপ প্রবাসী ভাইদের নামে করা হয়েছে। নিজের নামে সম্পদ থাকলে ভবিষ্যতে দুদক বা প্রশাসনের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কা থেকেই কৌশলে ভাইদের নামে সম্পদ রাখা হয়েছে বলেও এলাকাজুড়ে আলোচনা রয়েছে।

অন্যদিকে নয়াগাঁও গ্রামের পলান নামের এক ব্যক্তি মুঠোফোনে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে জানান, তাঁদের গ্রামের এক নারীর সঙ্গে অফিস সহকারী এমদাদ হোসেনের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। রোজার দুই দিন আগে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন এমদাদ হোসেনকে শাসন করে চরথাপ্পড় দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত গাড়িরও কিছু ক্ষতি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী এমদাদ হোসেন বলেন, ‘সুমাইয়া নামের কাউকে আমি চিনি না। আমি কোনো টাকাও দাবি করিনি এবং নেইওনি। এছাড়া নয়াগাঁও গ্রামের নারীর সঙ্গে আমার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও শতভাগ মিথ্যা।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার মুক্তা বলেন, তাঁদের দপ্তর থেকে মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীকে সরাসরি তাঁর কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও নয়াগাঁও গ্রামের এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজু

×