ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

চোরাচালান ঠেকাতে গিয়ে হামলার শিকার বিজিবি সদস্যরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান 

প্রকাশিত: ২৩:২০, ৯ মার্চ ২০২৬

চোরাচালান ঠেকাতে গিয়ে হামলার শিকার বিজিবি সদস্যরা

ছবি: জনকণ্ঠ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানের সময় চোরাকারবারীদের অতর্কিত হামলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস। এ সময় বিজিবির প্রতিরোধে এক চোরাকারবারীও আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে ফুলতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ রেইক্কাশিয়া পোস্ট এলাকায় বিজিবির একটি টহলদল চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়।

এ সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বার্মিজ গরু নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল চোরাকারবারীদের একটি সংঘবদ্ধ দল। বিজিবি টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এ হামলায় ল্যান্স নায়েক মো. রাজু ও সিপাহি মো. শরিফ নামে দুই বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে মো. ইসমাইল নামে এক চোরাকারবারীও আহত হয় বলে জানা গেছে।

আহত বিজিবি সদস্যদের প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সদর দপ্তরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে আহত চোরাকারবারী মো. ইসমাইলকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. ইসমাইলসহ ১০ থেকে ২০ জন অজ্ঞাত চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ইসমাইলের বিরুদ্ধে আগেও চোরাচালানের একাধিক মামলা রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চোরাকারবারীদের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মিয়ানমার থেকে গরু, মাদক ও অন্যান্য পণ্য চোরাচালান করে আসছে। এদিকে ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

শহীদ

×