ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যার দায়ের স্বামীর আবু বক্কর (৬২) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামীর উপস্থিতিতে নেত্রকোনা আদালতের দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম-মুন-মুঞ্জুরী এ আদেশ দেন। মামলার রায় শুনে আসামী আবু বক্কর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার মোলামখারচর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালত চত্বরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম মামলার রায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। অপরদিকে আসামির পক্ষের আইনজীবী রাষ্ট্রনিযুক্ত অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান আসামির সাথে কথা বলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করার কথা জানান।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৈবাহিক সূত্রে আবু বক্কর স্ত্রী রিজিয়া আক্তারের বাড়ি মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসুপ্তিয়া গ্রামের বসবাস করতেন। রিজিয়া আক্তার এর পূর্বের আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। স্বামী আবু বক্করের সাথে ঝগড়া বিবাদ হলে রিজিয়া মাঝেমধ্যে তার পূর্বের স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার কথা বলতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আরও বেশি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। গত ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল আবু বক্কর তার স্ত্রীকে হত্যা করে খড়ের স্তূপের মধ্যে পুঁতে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর আবু বক্কর তার ছেলেকে ফোনে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ এসে খড়ের স্তূপ থেকে রিজিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল নিহাতের বোন বিউটি আক্তার বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা একই বছর ১৬ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর মামলা বিচারাধীন অবস্থায় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে আদালত চার্জ গঠন করে স্বাক্ষ গ্রহণ শুরু করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলা পুনঃতদন্তের আবেদন করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৮ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি আবু বক্করের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
আজ নেত্রকোনা আদালতের দায়রা জজ মোছাঃ মরিয়ম-মুন-মুজুরী ৩০২ ধারা মোতাবেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এম.কে








