ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

ছয় বছরেও মেরামত হয়নি ভেঙে যাওয়া সেতু

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

প্রকাশিত: ২২:১৮, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

ছয় বছরেও মেরামত হয়নি ভেঙে যাওয়া সেতু

পূনর্ভবা নদীর ওপর নির্মিত সেতু ভেঙে পড়ে আছে

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় পূনর্ভবা নদীর ওপর একটি সেতু ভেঙে যায় ২০১৭ সালের বন্যায়। এ ঘটনার ছয় বছর অতিবাহিত হলেও, তা আজও মেরামত করা হয়নি। ফলে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলা শহরে যেতে কয়েকটি গ্রামের মানুষকে অন্তত ৮ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরতে হয়। সেতুটি দ্রুত মেরামতের দাবি স্থানীয় জনগণের। 
বীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬ মিটার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। পরের বছর ২০১৭ সালের বন্যায় সেতুটির উভয় পাড়ের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি ভেঙে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর উভয়পাশে রাস্তা পাকা করা হয়েছে। শুধুমাত্র সেতুটি ভেঙে যাওয়ার কারণে ওই রাস্তায় কোনো ভ্যান, রিকশা কিংবা ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। মাঝে মধ্যে দুই একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে পানির ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে পার হতে দেখা যায়। বর্ষা মৌসুমে ওই রাস্তায় একেবারে মানুষের চলাচল বন্ধ থাকার কথা বলছেন স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয় মাহানপুর এলাকার বাসিন্দা সুবল রায় বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজনদের মাহানপুর ও বটতলীবাজার হয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার ঘুরে শহরে যেতে হয়। অথচ সেতুটি হলে অন্তত ১০ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। সিংড়া গ্রামের আবুল কাসেম বলেন, ছয় বছর আগে সেতুটি ভেঙে গেছে। কিন্তু নতুন করে আর সেতু মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। সেতুটি না থাকায় এলাকার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। বীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ছানাউল্লাহ বলেন, বন্যার পানিতে ভেঙে যাওয়া সেতুটি আমাদের দপ্তর থেকে নির্মাণ করা হলেও, বর্তমানে ওই রাস্তাটি পাকা করা হয়েছে।

এবার সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে করা হবে। দিনাজপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শাহিদুল ইসলাম বলেন, সিংড়া-মাহানপুরের রাস্তাটি এলজিইডি থেকে পাকা করা হয়েছে। ভাঙা সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান। অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়ার সাপেক্ষে কাজ শুরু করা হবে।

অকেজো সøুইসগেট এখন কৃষকের গলার কাঁটা
নিজস্ব সংবাদদাতা, মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা থেকে জানান, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ডাকাতিয়া নদীর শাখা নদনা খালের মুখে  নির্মিত সøুইস গেটটি এখন কৃষকের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১৬ বছর আগে নির্মিত উপজেলার একমাত্র  সøুইসগেটটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরের বছরই অকেজো হয়ে যায়। ফলে পানি ধরে রাখতে না পারায় ইরি-বোরো চাষে সেচের পানি সংকটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয় হাজারো কৃষক।
পানি উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণ কুমিল্লা ও উত্তর নোয়াখালীর পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের আওতায় ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে ডাকাতিয়া নদীর নদনা খালের মুখে হাওরা নামক স্থানে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সøুইসগেটটি নির্মাণ করা হয়। পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সøুইসগেটটি কৃষকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরের বছরই গেটটি অকেজো হয়ে যায়। সøুইসগেটটির তত্ত্বাবধান করার কোনো লোকবল না থাকায় প্রয়োজনীয় নাট, বল্টু, লোহার পাত ও অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। গেটের কারণে ওই খালে বন্ধ হয়ে রয়েছে নৌকা চলাচল।

তা ছাড়া একসময় ওই খালে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য থাকলেও এখন নেই বললেই চলে।  এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সøুইসগেটটির সঙ্গে জড়িত এখানকার হাজার হাজার কৃষকের ভাগ্য। এ খালের পানি দিয়েই মনোহরগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা ইরি-বোরো  মৌসুমে সেচের পানির চাহিদা পূরণ করত। তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে শীঘ্রই সøুইসগেটটি মেরামত অথবা অপসারণ করে নদী ও খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা জরুরি।

×