ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০২ অক্টোবর ২০২৩, ১৭ আশ্বিন ১৪৩০

বরিশালে নৌকাকে বিজয়ী করতে মাঠে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

প্রকাশিত: ২৩:৩৯, ৩১ মে ২০২৩

বরিশালে নৌকাকে বিজয়ী করতে মাঠে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গাজীপুরে নৌকার পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বরিশালে জয়লাভের আশায় ঐক্যের বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র গঠিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সমন্বয়ক টিম। নগরীতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।
ইতোমধ্যে ৩০ মে বরিশাল নগরীতে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নৌকার পক্ষে গঠিত কেন্দ্রীয় টিমের সমন্বয়ক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। আমরা জানি, নির্বাচনে জনগণ উন্নয়নের পক্ষে নৌকায় ভোট দিয়েছে। আমরা জনগণের ভোটে হারিনি, আমরা হেরেছি নিজ দলের বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্রের কাছে। তিনি আরও বলেন, বরিশালে কোনো বিশ্বাসঘাতক থাকলে এবার আর তাদের ষড়যন্ত্র করতে দেওয়া হবে না। বিসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (নৌকা) মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের শতভাগ বিজয় নিশ্চিত করতে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে কেন্দ্রীয় টিমের আয়োজনে দ্বিতীয় বর্ধিত সভা আজ বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা থাকলেও বাজেটের কারণে তা পিছিয়ে ৩ জুন করা হয়েছে। এরইমধ্যে সকল কোন্দল ভুলে নেতাকর্মীদের একত্রিত করার উদ্যোগ নেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ও নৌকার প্রার্থীর ভাগ্নে শেখ ফজলে শামস্ পরশ। তার উদ্যোগে অনেকটা কোন্দল দূর হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, শেখ ফজলে শামস্ পরশের আগমনের মধ্যদিয়ে বরিশাল নগরীতে পরিবর্তন এসেছে। নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে, নৌকার সমর্থকদের মধ্যে নতুন গতিসঞ্চার হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে নির্বাচনী মাঠে নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে এতদিন মাঠে না নামা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী নেতাকর্মীকে।
ধর্মকে পুঁজি করে প্রতারণা করা হচ্ছে ॥ ধর্মকে পুঁজি করে অনেক প্রার্থী ও তার সমর্থকরা নগরবাসীর সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে। এসব কাজ আমাদের শান্তির ধর্ম ইসলাম কখনোই শিক্ষা দেয়নি। সচেতন নগরবাসী ওইসব প্রার্থীর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। জনগণ আর প্রতারণার শিকার হতে চায় না। বুধবার বেলা এগারোটায় ইমাম সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন, নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত। তিনি আরও বলেন, ১২ জুনের নির্বাচনে আমাকে মেয়র নির্বাচিত করা হলে জনগণ আর প্রতারণার শিকার হবে না। নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিতের জন্য আমার দরজা সব সময় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
একইদিন সকালে নৌকার প্রার্থী ১ নম্বর ওয়ার্ডের কড়াপুর এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বুধবার বিকেল চারটায় নৌকার প্রার্থী ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা বাজার ও সন্ধ্যা সাতটার দিকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৈতন্য স্কুল মাঠে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
পাঁচ বছরে তারা কোনো উন্নয়ন করেনি ॥ জাতীয় পার্টির (লাঙল) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে জনসাধারণের প্রশ্ন-হতাশা এখনো কেটে ওঠেনি। এই কারণে আমরা শঙ্কিত সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না। আরেকটি কারণ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন এখনো পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। তাদের একচোখা আচরণ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কয়েকটি সংস্থা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে দেনদরবার করছে, ক্যাম্পেন করছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর বাকলার মোড় ও বাজার রোড এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। তাপস ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, গত পাঁচ বছরে যারা উন্নয়ন করেনি তাদের ভোট দেবেন না। কারণ গত পাঁচ বছর যিনি ক্ষমতায় আছেন তিনি বরিশালের উন্নয়ন করেননি। এ সময় মহানগর জাপার আহ্বায়ক মহসিন উল ইসলাম হাবুলসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাতপাখার ২১শ’ নারী কর্মী মাঠে ॥ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে মাঠে নেমেছেন ২১শ’ নারী কর্মী। ৩০টি ওয়ার্ডে ৭০ জন করে দলভুক্ত হয়ে একযোগে তারা প্রচার শুরু করেছেন। বুধবার দুপুরে হাতপাখার প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনায় গণমাধ্যম সমন্বয় কমিটির সদস্য কেএম শরিয়তউল্লাহ জনকণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচার শুরু করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মপরিকল্পনা করে আরও বেশি নারী কর্মীকে প্রচারে যুক্ত করা হবে। হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীমের পক্ষে ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করছেন নারীরা। তারা হাতপাখায় ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।
অপরদিকে বুধবার দুপুরে নগরীর জেলখানা মোড় এবং সদর রোড এলাকায় গণসংযোগকালে হাতপাখা মার্কার মেয়র প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, গণসংযোগে মানুষ যেভাবে আমাকে আশ্বস্ত করছে, তাতে আমার মনে হচ্ছে মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হব। নির্বাচন কমিশনের বিগত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনগুলোর কারণে আমরা ফল হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত নই। একইদিন বিকেলে মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম, নগরীর জিলা স্কুল, ভাটিখানা, পোর্ট রোড, নথুল্লাবাদ, কালুখান সড়ক এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের গাবতলা এলাকায় গণসংযোগ করেছেন।