১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

খালাসের অপেক্ষায় টেকনাফে পচে যাচ্ছে পেঁয়াজ

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির অভিযোগ

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ শ্রমিক সঙ্কট ও বন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে খালাস করতে না পেরে টেকনাফে জায়গায় পচে যাচ্ছে মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ। গত এক সপ্তাহে প্রায় তিন হাজার বস্তা পেঁয়াজ পচে গেছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। স্থলবন্দরে ইজাদারের পক্ষে দায়িত্বরত এক শ্রেণীর কর্মচারী নিজেদের মনগড়া নিয়মে পেঁয়াজ খালাস করতে চাইছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাভের স্থলে লোকসানই বেশি দেখা দিয়েছে। তিনদিন আগে আমদানি হয়ে আসা পেঁয়াজ ভর্তি ৭ ট্রলার এখনও খালাসের অপেক্ষায় নাফ নদীতে ভাসছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে লাখ লাখ টাকা লোকসানের বোঝা বইতে হবে বুঝতে পেরে মিয়ানমার থেকে গত তিনদিন ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। তবে কোন ধরনের অনিয়ম ও গাফিলতি নেই দাবি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে।

সূত্র জানায়, টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ খালাস করে ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত নিয়ে যেতে চাইলে সন্ধ্যা হওয়ার বাহনায় বন্দর ইজারাদারের লোকজন বেঁকে বসে। তারা অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া রাতে পেঁয়াজ ভর্তি গাড়ির ছাড়পত্র দিতে গড়িমশি করে থাকে। অতিরিক্ত চার্জের জন্য রাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজের ট্রাকে ছাড়পত্র না দেয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে পেঁয়াজ পৌঁছাতে পারছে না গন্তব্য স্থলে। বন্দরের অনিয়মের কারণে সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পেরে তারা লোকসান গুনছে। ব্যবসায়ীদের এ লোকসান কমাতে বন্দরে সরকারের কঠোর নজরদারি বাড়ানো দরকার হয়ে পড়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

ব্যবসায়ীরা বলেন, সম্প্রতি দেশে পেঁয়াজের কৃত্রিম সঙ্কটের সময় তারা মিয়ানমার থেকে ঢালাওভাবে পেঁয়াজ এনে ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রেখে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রেখেছে। অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত লাভের আশায় রাতের বেলায় পেঁয়াজের গাড়ির ছাড়পত্র দেয় না। শ্রমিক সঙ্কটের কারণে পেঁয়াজ খালাস ও পরবর্তীতে ট্রাকে বোঝাই করতে সূর্য ডুবে যায়। এতে বন্দর কর্মচারীরা রাত্রিকালীন চার্জ দাবি করে থাকে। এই অতিরিক্ত চার্জ দিয়ে ব্যবসায়ীরা বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ করে পোষাতে পারছে না। এ কারণে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমছে না মোটেও। খালাসে বিলম্ব ও রাত্রিকালীন বন্দরের অতিরিক্ত চর্জ দাবি, এ অবস্থায় মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি মাসে মঙ্গলবার পর্যন্ত (১৫ অক্টোবর) মিয়ানমার থেকে আমদানি হয়ে আসা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ খালাস করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজের ব্যবসা করতে আসা একাধিক ছোটখাটো ব্যবসায়ী বলেন, বিভিন্ন ট্রলারে আমাদের চাহিদা মতে পেঁয়াজ আনা হয় ওপার থেকে। খালাসে দেরি হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে ওই পেঁয়াজগুলো। বন্দরে কাজ করা শ্রমিকদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করায় তারা কাজে আসতে অনীহা প্রকাশ করে। টাকা কম দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োজিত করেছে স্থলবন্দরে। তারা আরও বলেন, পেঁয়াজ খালাসে দেরির কারণ শুধু শ্রমিক সঙ্কটই নয়, বন্দরে নানা অবকাঠামোরও অভাব রয়েছে। আমদানি-রফতানি পণ্যাদি থেকে প্রতিদিন বিপুল চার্জ আদায় করলেও অবকামামো নির্মাণ করছে না বন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯

১৭/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: