১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

ছাত্র রাজনীতির অতীত

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • আসিফ আহমেদ

সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকা- দেশে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে সবাই এমন ঘৃণ্য কাজের নিন্দা করছেন। আবরারের চলে যাওয়া শুধু তার পরিবার নয় বরং দেশেরও ক্ষতি। এই হত্যাকা-ের জন্য অনেকেই শুধু রাজনীতিকে একমাত্র কারণ মনে করছেন, অনেকেই আবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ইতোমধ্যে বুয়েট প্রশাসন ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করায় অনেকেই স্বস্তি ফেলছেন। প্রশ্ন হচ্ছে আদৌ কি এটা বস্তুনিষ্ঠ স্থায়ী কোন সমাধান?

এই লাল-সবুজ পতাকার পেছনে ছাত্র রাজনীতির অবদান অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু কালপরিক্রমায় আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চার সঙ্গে বর্তমান ছাত্র রাজনীতির দূরত্ব বিরাজমান। ছাত্র রাজনীতি হলো রাজনীতির চর্চা তথা নেতৃত্বের শিক্ষার উর্বর জায়গা। উন্নত সমাজ গঠনে অংশগ্রহণ যেখানে পাথেয় হওয়ার ছিল সেখানে আজ আমরা হয়ত পথভ্রষ্ট। আবরারকে শক্তিবলে নয় বরং নিজেদের আদর্শিক যুক্তিবলে পরাস্ত করতে পারলে বাহবা প্রাপ্য ছিল। সহনশীলতা প্রকাশ পেত। কলমের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় কলম দিয়ে, স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে নয়। এমন কাপুরুষোচিত কর্মকা- দিয়ে কোন আদর্শকেই আলোকিত করা যায় না। কেননা রাজনৈতিক আদর্শ নিজগুণেই উজ্জ্বল ও সমুন্নত। তা উজ্জ্বল করতে না পারেন অন্তত কালিমা লেপন করা থেকে তো বিরত থাকুন। যে কোনভাবে নিজেকে ফোকাসে আনা বর্তমানে আমাদের সমাজে খুব সাধারণ একটা প্র্যাক্টিস। আমরা সমাজকে যে কোনভাবে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখাতে বেশি মনোযোগী। এ ফর্মুলাতে আমরা এত সয়ে গেছি যে উদ্দেশ্য সাধনে আমরা যে কোন হিং¯্র কাজ করতেও দ্বিতীয়বার ভাবার দরকার মনে করি না। হাস্যকরভাবেই সমাজে এসবেরই একটা নীরব গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আর উঠতি বয়সীদের মধ্যে এই তাড়না আরও বেশি বেগবান থাকে। নিজের কর্তৃত্ব ও ইমেজকে আলাদা করার জন্য তারা একে অপরের প্রতি দমনপীড়ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে চায়। আমাদের সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও রাজনৈতিক মেধাচর্চার গুরুত্ব একদম তলানিতে। আর যে সমাজ অন্যকে শ্রদ্ধা করতে জানে না, সে সমাজের মুখে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা/পরাধীনতা নিয়ে কথা বলা মানায় না। আগে স্বাধীনতাচর্চা জানতে হবে, তারপর তা পাওয়ার অধিকারের প্রশ্ন তুলতে পারব। আমাদের এসব চলমান অপমানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ছাত্র রাজনীতিকে মেধাচর্চা ও মতাদর্শে আরও বলীয়ান হয়ে এ প্রজন্মের স্পিরিটের সঙ্গে চলতে হবে। বিপরীত মতাদর্শকে ভয়ের পরিবর্তে তাদের সামনে ব্যাখ্যা তুলে ধরার অভ্যাস থাকতে হবে। অধিকন্তু, শুধু মাঠপর্যায়ের রাজনীতি নয় বরং নীতিনির্ধারণী বিষয়ে ছাত্রনেতারা গঠনমূলক মতপ্রকাশ করে অবদান রাখতে পারেন। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনেক সামাজিক কাজে স্বেচ্ছাশ্রমের আয়োজন করতে পারেন। সর্বোপরি ছাত্র রাজনীতির বিগত ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্ব বর্তমান নেতা-কর্মীদেরই নিতে হবে। অন্যথায়, আগামী প্রজন্ম ছাত্র রাজনীতিকে র‌্যাগিং, হানাহানি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি দিয়েই চিহ্নিত করবে।

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ থেকে

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯

১৭/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: