১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

যত বড় রাঘববোয়ালই হোক কাউকে ছাড় নয় ॥ ও. কাদের

প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • দুর্নীতি, অপকর্ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের পাশাপাশি বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করা হচ্ছে জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যত বড় রাঘববোয়াল, গডফাদারই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দুর্নীতি, অপকর্ম, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এসবের জন্য কিন্তু অনেকেই নজরদারিতে আছে এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আমাদের নেত্রী, সভাপতি ও

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপকর্মের বিরুদ্ধে, অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই অগ্রসর হচ্ছেন। টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের প্রথম দিকেই তো এ্যাকশনটা শুরু হয়ে গেছে। তবে এখানে ঢালাওভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রশ্ন নয়, আওয়ামী লীগেও এসব অপকর্ম যদি কেউ করে সেটাও খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

শুধুমাত্র ঢাকার নেতাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা রাজধানী কেন্দ্রিক এটা ঠিক নয়, সারা দেশে যেখানেই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়ম হবে, শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে- সর্বত্রই একই নিয়মে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কার্যকর হবে। এখন যুবলীগ-ছাত্রলীগ বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ছাত্রলীগের দুই জনকে অব্যাহতি দেয়া, যুবলীগের একজনকে গ্রেফতার করা, ক্যাসিনো কেন্দ্রিক যে অভিযান এটা ঢালাওভাবে ছাত্রলীগ আর যুবলীগের বিরুদ্ধে নয়। ছাত্রলীগ-যুবলীগে বহু ত্যাগী নেতা-কর্মী আছে, তারা অনেক ভাল কাজও করছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি, অনিময়, বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা জড়িত, যাদের আচরণে পার্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে, ঠিক তাদের বিরুদ্ধেই কেইস টু কেইস খোঁজ খবর নিয়ে এ্যাকশন নেয়া হচ্ছে, আগেও নেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনও অনেকের বিরুদ্ধে এ্যাকশন নিতে শুরু করেছে, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে কারও কারও বিরুদ্ধে চার্জশীটও দেয়া হয়েছে, কারও কারও কনভিকশনও হয়ে গেছে। কাজেই সরকার যে প্রথম এই শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে, তা তো না। শেখ হাসিনার সরকার প্রথম থেকেই জিরো টলারেন্স নিয়েই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে একই মনোভাব প্রদর্শন করছে। এটা শুধু মুখের কথা নয়, আমরা এ্যাকশনেই দেখাচ্ছি।

নিজ দলের লোকদের বিরুদ্ধে শাস্তির ঘটনা বিএনপিতে নেই দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, অতীতে বিএনপির মত বড় দল ক্ষমতায় ছিল। বিএনপিতে কোন উদাহরণ নেই যে, তারা তাদের দলের কোন অপকর্ম, লুটপাট, দুর্নীতি, খুন এসব নিয়ে কোন এ্যাকশনে গেছে। আজকে বর্তমান সরকারের এটা সব চেয়ে ভাল দিক। তিনি বলেন, এই এ্যাকশনের কারণে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে অনেক বেড়ে গেছে। আপনারা সাংবাদিকরা এটা ভালই বুঝতে পারেন। কিন্তু বিএনপি হয়তো বিষোদগার করছে, কিন্তু তারা যে ব্যবস্থা নিতে পারেনি, আওয়ামী লীগ সেই এ্যাকশন নিতে শুরু করেছে, বেগম জিয়া যা পারেননি, সেটা শেখ হাসিনা করছেন। তিনি অপকর্মের ব্যাপারে নিজের দলের লোককেও ছাড় দিচ্ছেন না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা বাংলাদেশে একটা উজ্জ্বল উদাহরণ, এটা অব্যাহত থাকবে। আমি মনে করি এর ফলে সরকারের ভাবমূর্তি বাড়বে। আওয়ামী লীগেরও ভাবমূর্তি বাড়বে। শুধু যুবলীগ-ছাত্রলীগ নয় আওয়ামী লীগেও যারা এসব কাজ করছে, তাদেরও মনে রাখা উচিত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহর বানিয়েছে, বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহর বানিয়েছে বিএনপি। তাদের সময় এই ক্যাসিনোগুলো ছিল। সে ক্যাসিনোর ব্যাপারে এ্যাকশন তো নেয়া হচ্ছে। সরকারের প্রথম বছরেই কিন্তু এ্যাকশন নেয়া হয়েছে। সময় তো এখন ফুরিয়ে যায়নি। এমন তো নয় যে, ইলেকশনকে সামনে রেখে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ওবায়দুল কাদের এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, আমরা তো প্রথম সরকারের ৮-৯ মাসেই এসব ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির সময়ও তো এই ক্যাসিনোগুলো ছিল, তখন তো তারা কোন এ্যাকশন নেয়নি। বিএনপি যা করতে পারেনি, সেটা আওয়ামী লীগ সরকার করছে। এতে সরকার ও আমাদের দলের ভাবমূর্তি বাড়ছে এবং সেটাই বিএনপির গাত্রদাহের কারণ।

এতদিন প্রশাসন থেকে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, কেউ মদদ দিয়ে থাকলে, কিংবা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকলে পুলিশ কমিশনার বলেছেন, পুলিশের মধ্যেও যদি কেউ এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে পুলিশ প্রশাসনও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে তাদেরও পরিকল্পনা আছে। কোন গডফাদারেরই রেহাই পাওয়ার কোন কারণ নেই। যেই হোক তার পরিচয়, গডফাদার হলেও তার রেহাই নেই।

কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, গুটিকয়েক মানুষের জন্য গোটা পার্টি তো বদনামের ভাগিদার হবে না। এসব অপকর্ম করছে গুটিকয়েক লোক। তারা ছাত্রলীগের, যুবলীগের কিংবা আওয়ামী লীগের হোক, এই গুটিকয়েক লোকই দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে অপকর্ম করে। যাতে জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। অনেকেই নীরবে হয়তো অনেক কিছু হজম করছে। কিন্তু এই এ্যাকশনটা হওয়ার পর সারাদেশে সাধারণ মানুষ খুব খুশি। যারা এমন কর্মকা- করবে, সতর্ক হবে না, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদুর বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি এটাকে বিচ্ছিন্ন বক্তব্য বলে মেনে নিতে পারছি না। কারণ বিএনপি নেতারা অতীতেও আমাদের নেত্রীকে হত্যা করা হবে, সরিয়ে দেয়া হবে, বঙ্গবন্ধু যেই পথে গেছেন, শেখ হাসিনাও সেই পথে যাবেন- এ ধরনের বক্তব্য তারেক জিয়া থেকে বিএনপির অনেক নেতাই বিভিন্ন সময় মন্তব্য করেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কেএম এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক ড, আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, এ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউসার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

২১/০৯/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: