মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২২.৮ °C
 
২৪ মে ২০১৭, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বিশ্ব অর্থনীতির ॥ টুকরো খবর

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০১৫
  • জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিম্ন

আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহতভাবে জ্বালানি তেলের দাম কমতে কমতে বিগত ছয় বছর আগের সর্বনিম্নের রেকর্ডটি ভেঙ্গে গেছে। ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম চল্লিশ ডলারের নিচে এসেছে। লন্ডনের ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম নেমে এসেছে ৪৪ ডলার ২৪ সেন্টে, যা ২০০৯ সালের মার্চের পর এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন মূল্য। নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হয়েছে ৩৯ ডলারে যা ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। জ্বালানি তেলের দাম ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছালেও এখন পর্যন্ত তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখা বিষয়ক কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। ফিলিপ ফিউচার্সের বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েল অ্যাং এ বিষয়ে বলেন, ‘বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, সহসাই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার কোন সম্ভাবনা নেই।’ জ্বালানি তেলের বাজারদর মূলত সরবরাহের ওপর নির্ভর করছে। তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহ বাড়ছে। বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ চাপ বর্তমানে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমাগত বেড়ে চলছে তেল উত্তোলনরত কূপের সংখ্যা যা বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ চাপ সৃষ্টি করছে। কিন্তু চীনসহ বিভিন্ন শিল্পোন্নত দেশের অর্থনৈতিক শ্লথ গতির কারণে কমছে তেলের চাহিদা। ফলে অর্থনীতির সরল সমীকরণে ক্রমাগত কমেই চলছে তেলের দাম। তবে যদি অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজভুক্ত (ওপেক) দেশগুলো চায় তবে তারা জরুরী বৈঠক করে তেলের বাজারদরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে। কিন্তু আপাতত এ রকম কোন সম্ভাবনাই নেই। ফলে তেলের দাম কমতে কমতে কোথায় গিয়ে ঠেকে, তাই এখন দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন অর্থনীতিতে চাঙ্গার আভাস

মার্কিন অর্থনীতিতে বইছে সুবাতাস। ভোক্তা আস্থাসূচক বিগত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। এছাড়া আবাসন ব্যবসায়ও বেশ চাঙ্গা। ভোক্তা আস্থাসূচক পুরো শ্রমবাজারে আশাবাদ জাগিয়ে চলতি মাসে ১০ দশমিক ৫ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১০১ দশমিক পয়েন্ট হয়েছে, যা জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। দেশটির শক্তিশালী শ্রমবাজার, জ্বালানি তেলের কম দাম ও আবাসন বাজারের উন্নতি ভোক্তা আস্থা সূচক বাড়িয়েছে। এছাড়া, নতুন বাড়ি বিক্রির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৭ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এ বাড়ি বিক্রি পুরো বাজারের ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এ দুটি বিষয় আভাস দিচ্ছে মার্কিন অর্থনীতির চাঙ্গা হওয়ার। দেশটির অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তিরই ইঙ্গিত মিলছে এই চাঙ্গা হওয়ার মধ্য দিয়ে। এর ওপর ভর করে এ বছর নাগাদ ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিঙ্গাপুর নিয়ে শঙ্কা

অভিবাসী নিয়ে উভয়সঙ্কটে সিঙ্গাপুর। অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের জনগণের বেজায় আপত্তি। ৫০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটিতে ১০ লাখই অভিবাসী। এরা দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখে চলছে। তাই সরকার জনগণের কথামতো চাইলেও অভিবাসীদের বাদ দিতে পারছে না। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং। বিদেশী শ্রমিক ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে নির্মাণ খাতে দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশী শ্রমিক অত্যাবশ্যক। এজন্য অভিবাসীদের বাদ দেয়ার পরিকল্পনা সিঙ্গাপুর সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে নাগরিকদের মনোভঙ্গিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নতুন গৃহীত নীতিমালায় সমন্বয়ের চেষ্টা হিসেবে তুলনামূলক কম অভিবাসী কর্মী আনা হচ্ছে এবং অভিবাসীদের স্থায়ী আবাসন ও নাগরিকত্বের সুযোগ প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত দেশটির জাতীয় নির্বাচনেও অভিবাসী ইস্যু বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশটির অর্থনীতেতে অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এবং নাগরিকদের অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের কারণে এখন অর্থনীতি ও রাজনীতিতে এই শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০১৫

৩০/০৮/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: