মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

আর্জেন্টিনার স্বপ্ন গুড়িয়ে চিলির শিরোপা

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৫, ১১:৩৬ এ. এম.

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কথায় আছে, পারিব না এ কথাটি বলিও না আর, একবার না পারিলে দেখ শতবার। আগের ৩৬ বার চেষ্টা করে রানার্সআপ হওয়া চারবার। ৩৭তম বারে এসে অবশেষে অধরা সাফল্য ধরা দিল তৃষ্ণার্ত হাতের মুঠোয়! যাদের কথা বলা হচ্ছে, তারা হচ্ছে দ্য রেড ওয়ান খ্যাত চিলি জাতীয় ফুটবল দল। কোপা আমেরিকা ২০১৫ আসরের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন এখন তারাই।

রবিবার সান্তিয়াগোর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক চিলি টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হারায় তাদের প্রতিবেশী দ্য হোয়াইট এ্যান্ড স্কাই ব্লূ খ্যাত আর্জেন্টিনাকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোন দল গোল করতে না পারলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই বাজীমাত করে তারা। প্রথম চারটি শটের প্রতিটিতেই গোল করেন চিলির ফার্নান্দেজ, ভিদাল, আরানগুইজ এবং সানচেজ। আর্জেন্টিনার পক্ষে লিওনেল মেসি গোল করলেও টানা দুটি শট মিস করেন হিগুয়াইন এবং বানেগা। হিগুয়াইনের শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বানেগার শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন চিলি গোলরক্ষক-অধিনায়ক ক্লডিও ব্রাভো। তার সতীর্থ ও ফরোয়ার্ড এ্যালেক্সিস সানচেজ আলতা শটে গোল করলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় চিলির। শিরোপা জিততে না পারার নীল বেদনায় পাথর বনে যান মেসিরা! ১৯৯৩ সালের পর কোপার শিরোপা জেতেনি তারা। ২০০৪ ও ২০০৭ সালে ফাইনালে উঠলেও হারতে হয়েছিল তাদের। এবারও তাই হলো। ফলে এ আসরে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে শিরোপাহীন দলটির শিরোপা জেতার প্রতীক্ষা প্রলম্বিত হলো আরও। ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপে রানার্সআপ হবার পর বড় কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুভার্গ্যজনকভাবে আবারও পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেতে হলো তাদের।

এ জয়ে আর্জেন্টিনার সঙ্গে একটি পুরনো হিসেবও চুকিয়ে ফেললো চিলি। ১৯৫৫ সালে নিজ মাটিতে এ আসরের (তখন আসরটির নাম ছিল সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ) ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে অশ্রুজলে বুক ভাসাতে হয়েছিলো চিলি দলকে। ৬০ বছর পর সেই মাটিতে সেই একই প্রতিপেক্ষর সঙ্গে লড়াইয়ের পর আবারও কাঁদলো তারা। তবে এবার সে কান্না জয়ের! একেই বলে ঐতিহাসিক প্রতিশোধ। এবার চ্যাম্পিয়ন হলে উরুগুয়ের সমান এবং সর্বোচ্চ ১৫ বার শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়তে পারতো আর্জেন্টাইনরা। কিন্তু তাদের নিয়তিই ছিল টাইব্রেকার নামের ভাগ্যপরীক্ষায় পরাভূত হওয়া!

পাঁচবার ফাইনাল খেলে এটা চিলির প্রথম কোপা শিরোপা। রানার্সআপ হয় ১৯৫৫, ৫৬, ৭৯ ও ৮৭ সালে। আর রেকর্ড ২৭ বার ফাইনাল খেলে ও ১৪ বার শিরোপা জিতে কোপায় এ নিয়ে দ্বাদশবারের মতো রানার্সআপ হলো আর্জেন্টিনা। দুদলের মধ্যে এটা ছিল ৮১তম সাক্ষাত। চিলির জয় ৭ ম্যাচে (আর্জেন্টিনা জেতে ৫৩ ম্যাচে, ড্র ২১ ম্যাচ)। আর কোপায় এটা ছিল উভয় দলের ২৫তম দৈ¦রথ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ১৮ ম্যাচে জিতলেও এবারই প্রথম জয় পেল চিলি (বাকি ৬ ম্যাচ ড্র হয়)!

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা ৩ এবং চিলি ১৯ নম্বরে। হেড টু হেড পরিসংখ্যানেও স্পষ্টই এগিয়ে ফেবারিট আর্জেন্টিনা। অথচ রবিবারের ফাইনালে দেখা যায় অন্য চিত্র। আক্রমণে, আধিপত্যে, বল নিয়ন্ত্রণে ... সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল চিলিয়ানরা। বলের নিয়ন্ত্রণ তাদের ছিল ৫৭ শতাংশ। তাদের খেলা ছিল পরিকিল্পত, গোছালো এবং আক্রমণাতœক। নিজেদের মাঠে পরিপূর্ণ দর্শক সমর্থন নিয়ে খেলেছেও তারা বীরের মতো। পক্ষান্তরে আর্জেন্টিনার খেলা ছিল এলোমেলো, রক্ষণাতœক, বিরক্তিকর এবং কাউন্টার এ্যাটাকনির্ভর। তাদের মাঝমাঠের দুর্বলতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দলের প্রাণভোমরা মেসি ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ!

আর্জেন্টিনা এ আসরে সর্বশেষ জিতেছিল ১৯৯৩ সালে। সেবার দলের কোচ ছিলেন আলফিও বাসিলে। এবার রানার্সআপ হওয়ায় বাসিল হতে পারলেন না দলের কোচ জেরার্ডো মার্টিনো! আর্জেন্টিনার মতো চিলির কোচ জর্জ সাম্পাওলি-ও একজন আর্জেন্টাইন। তার হাত ধরেই বহু বছরের অধরা সাফল্যের মুখদর্শন করলো চিলি।

ম্যাচের ২০, ৪৫ ও ৮৪ মিনিটে আর্জেন্টিনার তিনটি গোলপ্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষের প্রচেষ্টা থেকে আক্রমণ করে গোলও পেয়েছিল তারা (মেসির পাস থেকে লাভেজ্জির গোল)। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটা বাতিল হয়ে যায়। আর চিলি গোলের সুযোগ নষ্ট করে ৪৪, ৮২, ১১৪ মিনিটে। পরে টাইব্রেকারে অবিস্মরণীয় জয় পেয়ে বাঁধনহারা চিত্তসুখের উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত চিলিয়ান দর্শক, চিলিয়ান ফুটবলাররা এবং গোটা চিলিয়ান জাতি।

এবারের আসরে বি গ্রুপের ছিল আর্জেন্টিনা। সেখানে তারা প্যারাগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে। এছাড়া হারায় উরুগুয়েকে ১-০ এবং জ্যামাইকাকে একই ব্যবধানে। গ্রুপ চ্যাম্পিযন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে ৫-৪ (০-০) কলম্বিয়াকে এবং সেমিতে প্যারাগুয়েকে ৬-১ গোলে হারিয়ে নাম লেখায় ফাইনালে। পক্ষান্তরে এ গ্রুপে চিলি ২-০ গোলে ইকুয়েডরকে হারায়। এরপর ৩-৩ গোলে ড্র করে মেক্সিকোর সঙ্গে। ৫-০ গোলে হারায় বলিভিয়াকে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টারে গিয়ে উরুগুয়েকে ১-০ এবং সেমিতে পেরুকে ২-১ গোলে হারিয়ে উঠে আসে ফাইনালে। তারপরের কাহিনী তো সবারই জানা ... নিজেদের ১২০ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসের প্রথম সাফল্য পায় চিলি। কোন সন্দেহ নেই, এ জয় গোটা চিলিয়ান জাতিকে দারুনভাবে উজ্জীবিত করবে বহু বছর ধরে এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাফল্যের ক্ষুধাও দেবে বহুগুণে বাড়িয়ে!

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৫, ১১:৩৬ এ. এম.

০৫/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: