১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সূর্যোদয়ের দেশে চাঁদ দেখা উৎসব


জাপান এশিয়া মহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। দেশটি এশিয়া মহাদেশের পূর্ব উপকূলের কাছে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৩,০০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত জাপান। চারটি প্রধান দ্বীপ হলো হনশু, হোক্কাইদো, কিয়াশু এবং শিকোকু। এছাড়াও এখানে আরও অনেক ছোট ছোট দ্বীপ আছে। জাপানীরা জাপানী ভাষায় তাদের দেশকে নিহোং বা নিপ্পোং বলে ডাকে, যার অর্থ ‘সূর্যের উৎস’। জাপান চীনা সাম্রাজ্যগুলোর পূর্বে অবস্থিত বলে এরকম নাম করা হয়েছিল। ইংরেজীতে জাপানকে অনেক সময় ‘ষধহফ ড়ভ ঃযব ৎরংরহম ংঁহ’, অর্থাৎ সূর্যোদয়ের দেশ বলা হয়। টোকিও জাপানের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী।

এশিয়ার মূল ভূখ-ের মধ্যে কোরীয় উপদ্বীপ জাপানের সবচেয়ে কাছে, মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্য কোন দেশের সঙ্গে জাপানের স্থলসীমান্ত নেই। কাছেই রয়েছে পূর্ব রাশিয়া, যা ওখটস্ক সাগর ও জাপান সাগরের অপর পারে অবস্থিত। দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া কোরিয়া প্রণালী ও জাপান সাগরের অপর পারে এবং দক্ষিণ-পূর্বে পূর্ব চীন সাগরের অপর প্রান্তে তাইওয়ান ও চীনা মূল ভূখণ্ড অবস্থিত। জাপানে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ব্যবস্থা বিরাজমান। জাপানের সম্রাট প্রতীকী রাষ্ট্রপ্রধান।

জাপানী বর্ণমালায় এল বা ল-এর কোন অস্তিত্ব নেই। জাপানীরা ল উচ্চারণ করতে পারে না। জাপানে স্কুল বা কলেজ পর্যায়ে কোন পরীক্ষা নেই। জাতীয় পর্যায়ে কেবল একটি মাত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। জাপানের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য জুনিয়র হাইস্কুল পর্যন্ত শিক্ষা অর্জন বাধ্যতামূলক। জাপানীরা ফুজি পাহাড়কে সম্মান করে ফুজিসান বলে ডাকে। সান শব্দের অর্থ জনাব বা মহাশয়।

জাপানের ভূ-প্রকৃতি পর্বতময়। দেশটির ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকাই পাহাড়ী। জাপানের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা পর্বতময়। প্রতিটি প্রধান দ্বীপের মধ্য দিয়ে একটি পর্বত শ্রেণী চলে গেছে। বিশ্বখ্যাত ফুজি পর্বত জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত। জাপানের পরিবহন ব্যবস্থা অত্যাধুনিক এবং পরিবহন অবকাঠামো ব্যয়বহুল। জাপানে সড়ক নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়। সমগ্র দেশব্যাপী বিস্তৃত ১.২ মিলিয়ন কিলোমিটারের পাকারাস্তা জাপানের প্রধান পরিবহন ব্যবস্থা। জাপানে বামহাতি ট্রাফিক পদ্ধতি প্রচলিত। বড় শহরে যাতায়াতের জন্য নির্মিত সড়কসমূহ ব্যবহারের জন্য সাধারণত টোল নেয়া হয়। জাপানে ১৭৩টি বিমানবন্দর রয়েছে। জাপান মূলত একটি নগরভিত্তিক রাষ্ট্র। মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪% কৃষি কাজে নিয়োজিত।

জাপানের মুদ্রা নাম ইয়েন। জাপানের রাষ্ট্রীয় ভাষা জাপানী। জাপানের প্রাচীন নাম নিপ্পন। প্রাচীন রাজধানী কিয়োটো।জাপানে শিশু জন্মকে উৎসাহিত করা হয়। এজন্য শিশু জন্মের পর মায়ের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। ৫ মে জাপানে শিশুদিবস পালন করা হয়। এ দিন সরকারী ছুটিও থাকে। আমাদের দেশের নবান্ন উৎসবের মত জাপানেও নতুন ফসল, বিশেষ করে ধান কাটার পর তারা চাঁদ দেখা উৎসব পালন করে থাকে।

জাপানি লোককথা অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে চাঁদ মেঘে ঢাকা পড়ে যায়। তবুও ক্ষণিকের বাতাসে মেঘ সরে গিয়ে উদিত হয় পূর্ণিমার চাঁদ। তার ছায়া প্রতিফলিত হয় নদীর স্বচ্ছ পানিতে। ওই চাঁদের দিকে তাকালে তারা দেখতে পায়, খরগোশের মত একটি প্রাণী ধানের তৈরি পিঠাজাতীয় কেক তৈরি করছে। তাই নতুন ফসলের আনন্দে জাপানিরা বিভিন্ন জাতের চালের তৈরি পিঠা, কেক, মুড়কি, ফলমূল, চা দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করে থাকে।