ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

জিনিয়াস জাসপ্রিতে মজেছে ভারত

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৩৪, ১১ জুন ২০২৪

জিনিয়াস জাসপ্রিতে মজেছে ভারত

ভারতের উৎসবের মধ্যমণি পাকি বধের নায়ক পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ

টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এ নিয়ে মুখোমুখি ৮ ম্যাচের ৬টিতেই জিতল ভারত, হার ও টাই ১টি করেÑ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার মোড়ল দেশটির দাপট। যুক্তরাষ্ট্রের মতো শিক্ষানবিশ দলের কাছে হার দিয়ে আসর শুরু করা পাকিস্তান এই ম্যাচে কাগজে-কলমে মোটেও ফেভারিট ছিল না।

কিন্তু মাঠে লড়াইটা জমে উঠল বারুদের মতো, এই না হলে পাক-ভারত দ্বৈরথ! ১২০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়ায় এক পর্যায়ে ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৭৩। মনে হচ্ছিল অনায়াস জয় পেতে যাচ্ছে বাবর আজমের দল। কিন্ত ১৫তম ওভারের প্রথম বলে প্রতিরোধের দেয়াল গড়া মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৪৪ বলে ৩১) বোল্ড করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ।

তার আগেই তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক বাবরকে (১০ বলে ১৩)।  সাত নম্বর ব্যাটার ইফতিখার আহমেদকে (৯ বলে ৫) ফিরিয়ে পাকিদের সব স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেন বিজাতীয় অ্যাশনের অধিকারী এ পেসার। ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা। পাক-বধের নায়কে মজেছে ভারত। 
‘বুমরাহ দিনে দিনে ভালো থেকে আরও ভালো হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে দেখে আসছি যে সে কী করতে পারে, আমি তাকে নিয়ে খুব বেশি কিছু বলব না। আমরা চাই বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত সে এমন মানসিকতার মধ্যে থাকুক। সে বল হাতে জিনিয়াস, আমরা জানি, কিন্তু অন্যদেরও কুর্নিশ।’ নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে উন্মাদনার ম্যাচে ৬ রানের নাটকীয় জয়ের পর বলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

লো-স্কোরিং ও ক্লোজ ম্যাচে এমন জয়ে আসলে দলীয় সমন্বয়ের ফল, অন্যদের কুর্নিশ না করে উপায় নেই। বিধ্বংসী হয়ে ওঠা পাকিস্তান পেসারদের বিপক্ষে ঋষভ পন্থের ৩১ বলে ৪২, অক্ষর প্যাটেলের ১৮ বলে ২০ রানের অবদানও কম নয়। বল হাতে ২ উইকেট নেওয়া হার্দিক পান্ডিয়াও ছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু তিন স্পেলের প্রতিটিতে একটি করে উইকেট নিয়ে মূলত বুমরাহই পাকিস্তানের হাতের মুঠোয় থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছেন।

এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৬ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। চোটের কারণে ২০২২ সালের প্রায় পুরোটাই খেলতে পারেননি বুমরাহ। একবার মাঠে ফিরেছেন, আবার চোট পেয়েছিটকে গেছেন। পিঠের ব্যথা অনেকে ভুগিয়েছিল তাকে। এমনকি অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছিল। সেই সময় অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁর ক্যারিয়ার হয়তো শেষ।

পাকিস্তানকে হারিয়ে কিছুটা যেন অভিমানী ৩০ বছর বয়সী ডানহাতি এ পেসার, ‘এক বছর আগে সবাই বলছিল, আমি হয়তো আর খেলতে পারব না, আমার ক্যারিয়ার শেষ। এখন আবার সব বদলে গেছে। তারাই এখন আমার প্রশংসা করছে।’ 
সমালোচনায় খারাপ লাগলেও বাইরের দুনিয়ার কথায় তিনি খুব একটা কান দেন না বলেই জানিয়েছেন বুমরাহ, ‘আমি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। সামনে যে চ্যালেঞ্জ থাকে তার মোকাবিলা করি। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। শুধু নিজের খেলায় মন দিই। বাইরে কে কী বলছে, সে দিকে কান দিই না। সমালোচনা হবেই। বিতর্ক হবেই।

কিন্তু সে সব কেউ মনে রাখবে না। দেশকে জেতালে সবাই মনে রাখবে। আমি আমার চারপাশে একটা বলয় বানিয়ে রেখেছি। তার মধ্যে কাউকে ঢুকতে  দেই না।’ ৬৪ আন্তর্জাতিক টি২০ ক্যারিয়ারে ৭৯ উইকেট নেওয়া বুমরাহর অ্যাকশন সত্যি ব্যতিক্রম। যে কোনো পিচেই ভয়ংকর। কোনো ব্যাটসম্যানই সহজে তাকে রিড করতে পারছেন না। ভারত এখন পর্যন্ত একমাত্র টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছে সেই ২০০৭ সালে।

এরপর প্রতিবার ফেভারিট হিসেবে অংশ নিলেও গত দেড় দশকে আর শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। নবম বিশ্বকাপে বোলিংয়ে দলটির সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করবে বুমরাহর ওপর। টানা দুই জয়ে ‘এ’ গ্রুপে টেবিলের শীর্ষে থাকা ভারত সুপার এইটে এক পা দিয়ে ফেলেছে। পরের দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা।

×