ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বিদায়ের পথে ম্যানইউ, বায়ার্নের প্রথম ড্র, লেন্সের জালে আর্সেনালের হাফ ডজন গোল

টানা পাঁচ জয়ে উড়ছে রিয়াল মাদ্রিদ

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৪০, ১ ডিসেম্বর ২০২৩

টানা পাঁচ জয়ে উড়ছে রিয়াল মাদ্রিদ

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের উচ্ছ্বাস রিয়াল মাদ্রিদের কৃতী ফরোয়ার্ড রডরিগোর 

ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা পঞ্চম জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আসরের রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলিকে হারিয়েছে ৪-২ গোলে। বুধবার রাতে ঘরের মাঠ সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গ্যালাক্টিকোদের হয়ে গোল করেন রডরিগো, জুড বেলিংহাম, নিকোলাস মার্টিনেজ ও জোসেলু। নাপোলির হয়ে গোল দুটি করেন জিওভান্নি সিমিওন ও আন্দ্রে ফ্রাঙ্ক জাম্বো অ্যানগুইসা। 

আগেই নকআউট রাউন্ড নিশ্চিত করা রিয়াল পাঁচ জয়ে পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে। অন্যদিকে এই হারে ইতালিয়ান সিরি এ লিগের চ্যাম্পিয়ন নাপোলিকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। শেষ ম্যাচে স্পোর্টিং ব্রাগার বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফলের ওপর তাদের নকআউট রাউন্ডের ভাগ্য নির্ভর করছে। ১৯ বছর বয়সী নিকোলাস মার্টিনেজ রিয়ালের হয়ে গোল করতে পেরে উচ্ছ্বসিত। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, আমি সত্যিই খুব খুশি। এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মত ঘটনা। আমি কোনোভাবেই এই মুহূর্তটিকে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার সতীর্থরা হয়তো আমার থেকেও আরও বেশি খুশি হয়েছে। তাদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ।

রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখানো বেলিংহামের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, এ ধরনের ফুটবলে বেলিংহাম এত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারবেন তা কল্পনায় ছিলনা। নতুন ক্লাবে সে আমাদের জন্য বিস্ময় উপহার দিয়েছে। বক্সের ভেতর সে হঠাৎ করেই আবির্ভূত হয়। এমন ভাবে সে নিজেকে উপস্থাপন করে যেন কোন মোটরবাইক হঠাৎ করেই এসে উপস্থিত হয়েছে। আর্জেন্টাইন তরুণেও প্রশংসা করেন আনচেলোত্তি। বলেন, নিকোলাস অসাধারণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়। যুব একাডেডি থেকেই সে আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। সে গুরুত্বপূর্ণ এক গোল করেছে। এটা তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে। 
‘বি’ গ্রুপে টানা পাঁচ জয় পেয়েছে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনালও। এবার তারা ফরাসি ক্লাব লেন্সকে হারিয়েছে ৬-০ গোলে। লন্ডনের বিখ্যাত এমিরেটস স্টেডিয়ামে নকআউট পর্ব নিশ্চিতের জন্য মাইকেল আর্তেতার  শিষ্যদের মাত্র এক পয়েন্টের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এক পয়েন্ট নয়, প্রতিপক্ষকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই সেরা ষোলো নিশ্চিত করেছে গানার্সরা। ম্যাচের প্রথম ২৭ মিনিটের মধ্যেই আর্সেনালের হয়ে গোল করেন কাই হাভার্টজ, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, বুকায়ো সাকা ও গাব্রিয়েল মার্টিনেলি। বিরতির আগ মুহূর্তে স্বাগতিকদের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেছেন মার্টিন ওডেগার্ড। আর ম্যাচের শেষভাগে পেনাল্টি থেকে গোল করে চলতি মৌসুমে আর্সেনালের সবচেয়ে বড় জয় নিশ্চিত করেন জর্জিনহো। ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ আর্তেতা বলেন, আমি স্বপ্নেও এটা ভাবিনি।

আমাদের যোগ্যতা অর্জন করার এবং গ্রুপে শীর্ষে থাকার সুযোগ ছিল। আমরা সুন্দরভাবে সেটি নিশ্চিত করেছি। আমরা আক্রমণাত্মক মেজাজ দেখিয়েছি। এটা দারুণ বিষয় যে আমরা এভাবে জিততে পেরেছি। ইউরোতে ঘরের মাঠে আমরা খুবই ভালো খেলেছি। অনেক গোল করেছি এবং একটি গোলও হজম করিনি। আশা করি বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও আমরা এটি করতে পারব। এখন আমরা পরের ম্যাচের অপেক্ষভায় আছি। অন্যদিকে হতাশ লেন্স কোচ ফ্রাঙ্ক হাইস বলেন, আমরা জানি এ ধরনের ম্যাচ খুব দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। আমাদের এবং আর্সেনালের মধ্যে একটি বিশাল পার্থক্য ছিল। তারা খুব উঁচু মানের এবং ধারাবাহিক দল।
অন্যদিকে মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারানায় এ’ গ্রুপের ম্যাচে ডেনমার্কের ক্লাব কোপেনহেগেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। পাঁচ ম্যাচে এ নিয়ে প্রথম পয়েন্ট নষ্ট করেছে জার্মান চ্যাম্পিয়না। গ্রুপের তিন দল কোপেনহেগেন, গালাতাসারে ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে আগেই পেছনে ফেলে আধিপত্য দেখিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বাভারিয়ানরা। এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

এর ফলে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কোপেনহেগেন। হাতে আছে আর মাত্র একটি ম্যাচ। ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান আসরের নকআউট পর্বে খেলার হাতছানি এখন ড্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের সামনে। এজন্য আগামী মাসে ঘরের মাঠে গালাতাসারের সঙ্গে হার এড়াতে হবে। অন্যদিকে ম্যানইউকে শেষ ম্যাচে বায়ার্নের বিরুদ্ধে অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হবে।

×